Samakal:
2025-11-30@13:31:45 GMT

বাংলাদেশ আমার বিষয়

Published: 3rd, July 2025 GMT

বাংলাদেশ আমার বিষয়

lশৈশবের প্রিয় মুহূর্ত
আমার বাবা সরকারি চাকরির সুবাদে চন্দ্রঘোনায় থাকতেন। শৈশবের কিছু মুহূর্ত আছে; যা ভুলতে পারি না। এখন বয়স বেড়ে গেছে কিন্তু সেসব মুহূর্ত চোখের সামনে ভাসে। আমাদের বাসাটি ছিল একদম পাহাড়ের চূড়ায়। খুব সুন্দর। তখন আমি চন্দ্রঘোনায় কেপিএম হাইস্কুলে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করি। সেই সময়কার স্মৃতি খুব বেশি মনে পড়ে। পাহাড়ি এলাকায় আমরা স্কুলে যেতাম। খুব আনন্দ করেই যেতাম। সাম্পানওয়ালা দেখতাম। স্কুল থেকে নদীর ওপারে ঘুরতে যেতাম। আমাদের স্কুলটি ছিল বেশ আধুনিক। শিল্পচর্চা হতো। সেখান থেকেই আমার মনের ভেতরে প্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে। পরে ছবি আঁকা বা অনেক কাজ করতে উৎসাহ পেয়েছি। পাঁচ দশক ধরে চারুকলার অঙ্গনে কাজ করে আসছি। আমি পাস করার সাথে সাথেই লেকচারার হিসেবে যোগদান করেছি। সেই থেকে এখনও একটি কথাই বলি, আমি কিন্তু ক্যারিয়ার সচেতন ছিলাম না। অনেকেই ক্যারিয়ার ছাড়া কিছু বোঝে না। আমি সাংসারিক একজন মানুষ। আমার স্বামী চিত্রশিল্পী শওকাতুজজামান মাটির মানুষ ছিলেন। তিনি মারা গেছেন দুই দশক হয়। আমার বাচ্চাদের কোলেপিঠে নিয়ে কাজ করেছি। সারারাত কাজ করতাম, সারাদিন সংসার ও শিক্ষকতায় ব্যস্ত থাকতাম। আমার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের সঁচিয়াখালী। মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়ি যেতাম। নৌকায় করে একদম বাড়ির ভেতর পর্যন্ত যেত। তখন যা দেখেছি নিজের ভেতর তা আত্মস্থ করেছি। ‘জাল’ সিরিজের ছবি তারই প্রতিফল। বাংলাদেশকে আমি ধারণ করার চেষ্টা করি। এই ধারণ করাটা আমার ভেতর থেকে আসে। ইচ্ছে করলেও সরে যেতে পারি না। বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড পেতাম দেশের বাইরে থেকে। সেখান থেকে আমন্ত্রণ পেতাম। সরকারি ও বেসরকারি নিমন্ত্রণে দেশের বাইরে অনেকবার গিয়েছি। সেখানে বিভিন্ন দেশের কাজ দেখেছি। কিন্তু আমার নিজের দেশের সংস্কৃতি, সোঁদা মাটির গন্ধ ভুলে যেতে পারিনি।
lআড্ডা-তর্কে সঙ্গী যারা
আমি কাজপ্রিয় মানুষ। অনেকেই মনে করে আমি কম কথা বলি। সংসার জীবন বা সামাজিক জীবন বলেন আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ; নিজের মতো করে চলি। সততা নিয়ে চলি। ছবি বিক্রির জন্য কখনও ক্রেজি হয়ে যাই না।  
lপ্রথম চিত্র প্রদর্শনী
১৯৭৮ সালে চারুকলায় প্রদর্শিত হয়। সেটা ছিল অন্যরকম অনুভূতি।
lপ্রিয় চিত্রশিল্পী, যে কারণে প্রিয়
দেশে বা দেশের বাইরে অনেকেই প্রিয় চিত্রশিল্পী। ফিদা, মার্ক সেগোল। মনোজের কথা মনে পড়ে। তাঁর কালার আমার খুব পছন্দ। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে কে জি সুব্রামানিয়ান খুব প্রিয়। আধুনিক চিত্রকলার চোখ খুলে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের মধ্যে জয়নুল আবেদিন, রফিকুন নবী, আনোয়ারুল হক, কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, মনিরুল ইসলামের কাজ ভালো লাগে। 
lযা আঁকছি
আমি চিত্রে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বাংলাদেশ আমার বিষয়। সে হিসেবে এখন বিভিন্ন সিরিজ নিয়ে কাজ করছি।
lপ্রিয় উদ্ধৃতি
আমি সততা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। সততা ও পরিশ্রম যার ঊর্ধ্বে কিছু নেই। v
lগ্রন্থনা: ফরিদুল ইসলাম নির্জন

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: গল প আম র ব র ভ তর ক জ কর

এছাড়াও পড়ুন:

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়েছিল শুভচিন্তার মানুষের মনে

বাংলাদেশের শিক্ষা এবং সাহিত্য অঙ্গনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন এক আলোকবর্তিকা। তিনি নিঃসন্দেহে একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তাঁর উদারতা ও আন্তরিকতা ছিল অতুলনীয়। সংস্কৃতি অঙ্গনে যাঁরা কাজ করেছেন, সবাই কোনো না কোনোভাবে তাঁর সহযোগিতা পেয়েছেন।

শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক, সংস্কৃতিচিন্তক ও পেন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। লেখক ও সাহিত্যিক, ব্লগার ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে আজ শনিবার‌ বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আলোচকেরা বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে আবদ্ধ ছিল না। ছড়িয়ে পড়েছিল শুভচিন্তার প্রত্যেক মানুষের মনে। শিক্ষার্থীদের কাছে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু মানে এক প্রজ্ঞাদীপ্ত যুগের অবসান। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মননশীলতার জগতে গভীর এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে তাঁর চলে যাওয়া।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পেন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল জাহানারা পারভীন। কবিতা পাঠ করেন জাহিদ হায়দার। এ সময় ভায়োলিন পরিবেশন করেন শিউলী ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন সুকান্ত দাস। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জীবনী পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক শাহনাজ নাসরীন।

স্মৃতিচারণা ও বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানে ‘প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ থেকে অংশ বিশেষ পাঠ করেন বাচিকশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় স্মারকগ্রন্থ ‘প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পেন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট কবি শামীম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সাবেক সচিব আসাদ মান্নান, কবি জাহিদ হায়দার, পেন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা ও সহসভাপতি পারভেজ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সানজিদা হোসেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী শাহজাহান বিকাশ, কথাপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, শিশুসাহিত্যিক মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম, কবি অনিকেত শামীম, কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ নাসরিনসহ আরও অনেকে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো বুক অলিম্পিয়াড
  • কেমন ছিলেন সাহাবি যুগের নারীরা
  • ‘সালাতুল হাজাত’ নামাজে যে দোয়া পড়বেন
  • মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, রোগী ভোগান্তি চরমে
  • সাখাওয়াত স্যার, আপনার কাছে জাতির যত ঋণ
  • ঘাম ঝরে একজনের, নম্বর জোটে সবার
  • ৯ ক্রিকেটারের বিপিএলের নিলাম থেকে বাদ পড়ার ৩ কারণ
  • তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করায় কী প্রভাব পড়বে
  • সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়েছিল শুভচিন্তার মানুষের মনে
  • কারো হৃদয়ভাঙা একদম পছন্দ নয়, এটাকে ঘৃণা করি: ইধিকা