মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোবারকের আপিলের পরবর্তী শুনানি কাল
Published: 8th, July 2025 GMT
মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মোবারক হোসেনের ১১ বছর আগে করা আপিলের ওপর আজ মঙ্গলবার শুনানি হয়েছে। আগামীকাল বুধবার পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন আপিল বিভাগ।
আজ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আগামীকাল পরবর্তী দিন রেখেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন মোবারক হোসেন।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোবারক হোসনেকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তাঁর বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ১ নম্বর অভিযোগে মোবারক হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ নম্বর অভিযোগে মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। অপর তিনটি অভিযোগ (২, ৪ ও ৫ নম্বর) প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনসাবেক আ.লীগ নেতা মোবারকের মৃত্যুদণ্ড২৪ নভেম্বর ২০১৪
ট্রাইব্যুনালের রায় থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মোবারক হোসেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। স্বাধীন দেশে জামায়াতের ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘রুকন’ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে মোবারক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন।
আজ আদালতে মোবারকের পক্ষে আছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ইমরান এ সিদ্দিক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমও উপস্থিত আছেন।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। সাক্ষীদের বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়েছে। কাল আবার শুনানি হবে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ম নবত ব র পরবর ত ম ব রক ব রক হ অপর ধ
এছাড়াও পড়ুন:
ঘরে বসেই হাজিরা, মিলবে মামলার রায়সহ যাবতীয় তথ্য
ঘরে বসেই মামলার যাবতীয় তথ্য পাবেন বিচারপ্রার্থীরা। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে রায় ঘোষণা পর্যন্ত সবই পরিচালিত হবে অনলাইনে। ঘরে বসে ডিজিটাল মাধ্যমে সাক্ষ্যও দেওয়া যাবে। আজ রোববার সকালে বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজ করে তুলতে চট্টগ্রাম আদালতে চালু হয়েছে ই–পারিবারিক আদালত। এতে দুর্ভোগ কমবে বিচারপ্রার্থীদের।
আদালত সূত্র জানায়, ই–পারিবারিক আদালতে পাঁচ বিষয়ের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এগুলো হলো বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এ আদালতের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, ই–পারিবারিক আদালত দেশে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এ আদালতে মামলার আবেদন থেকে প্রতিদিনের কার্যক্রম—সবই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। থাকবে না কোনো কাগজের ব্যবহার। বিচারপ্রার্থীদের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে সবকিছু জানিয়ে দেওয়া হবে।
লিয়াকত আলী মোল্লা আরও বলেন, চট্টগ্রামের এ পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদানে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি ম্যানুয়ালি কার্যক্রমও থাকবে। তবে ই–পারিবারিক আদালতে নথি হারানোর শঙ্কা কম থাকবে। বিচারপ্রার্থীদের যেকোনো মামলার নথি অল্প সময়ের মধ্যে বের করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে হয়রানিও অনেকাংশে কমবে। ই–পারিবারিক আদালতে বিচারপ্রার্থীদের মামলার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি ও অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিচারকার্য স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হবে।
আদালত সূত্র জানায়, ই–পারিবারিক কোর্ট নামের ওয়েবসাইটটি বাদী, বিবাদী, আইনজীবী, আদালতের সহায়ক কর্মচারী, বিচারক ও সাধারণ জনগণ সবাই ব্যবহার করতে পারবেন। আইনজীবীদের বার কাউন্সিল সার্টিফিকেট, ওকালতনামা ও অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে। বিচারপ্রার্থীরা তাঁদের পছন্দের আইনজীবীকে মামলা পরিচালনার জন্য বাছাই করতে পারবেন।
মামলার তারিখ খুদে বার্তার মাধ্যমে জানতে পারবেন বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। আদালতের রেজিস্ট্রারসহ নথি বিভাজনও হবে ডিজিটালি। ই–পারিবারিক আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা যেকোনো স্থান থেকে মামলা দায়ের করতে পারবেন। ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে একটি ড্যাশবোর্ড রয়েছে। সেখানেই মামলার অগ্রগতি, তারিখ ও ফলাফল পাওয়া যাবে। সাধারণত নথি হারানোর সুযোগ থাকলেও ই–পারিবারিক কোর্ট ব্যবস্থায় সেটি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
যেকোনো স্থান থেকেই বাদী ও বিবাদীরা অনলাইন হাজিরা দিতে পারবেন। নিজস্ব পোর্টালে আইনজীবীর পরিচালিত সব নথি থাকবে একসঙ্গে। ফলে ব্যবস্থাপনা হবে সহজ। এদিকে যেকোনো জায়গা থেকে লগইন করে নথির কাজ যেকোনো সময়ে খসড়া করে রাখতে পারবেন আইনজীবীরা। নথি জমা দেওয়া, কপি তোলা ও বারবার একই তথ্য প্রস্তুতের কাজ কমবে।
আদালত সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রার বাটনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পুরো নাম, মুঠোফোন নম্বর ও ই–মেইল যুক্ত করতে হবে; সঙ্গে দিতে হবে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, একটা নির্দিষ্ট সময় পর মামলার নথি ধ্বংস করে ফেলা হয়। আবার অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু ই–পারিবারিক আদালতে সব নথি অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের দুর্ভোগ কমবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, এটি পেপারলেস আদালত। বিচারকার্যকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ই–পারিবারিক আদালত চালু হওয়ায় পারিবারিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হবে না।