হত্যা মামলায় আইভীর জামিন ফের নামঞ্জুর
Published: 9th, July 2025 GMT
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সজল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৯ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। জামিন শুনানির সময়ে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়নি।
এর আগে আইভীর আইনজীবীরা আদালতের কাছে জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, বিজ্ঞ আদালতে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা সজল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভীর জামিন আবেদন করি। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন।
নিম্ন আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। তাই আমরা ওনার জামিনের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, ‘সাবেক মেয়র আইভীর নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা সজল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত সেটি নামঞ্জুর করেছেন।’
মামলা সূত্রে জানা যায়, সজল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মৌচাক এলাকার একটি জুতা কারখানার শ্রমিকের কাজ করতেন। গত বছরের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে গুলিতে নিহত হন সজল।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৬ মে সজলের মা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা এক থেকে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২ জুন দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন নারায়ণগঞ্জের একই আদালত।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: হত য ন র য়ণগঞ জ আওয় ম ল গ স দ ধ রগঞ জ আইভ র জ ম ন ন র য়ণগঞ জ র আইনজ ব
এছাড়াও পড়ুন:
‘অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়তে হবে’
নারী ও কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা মোকাবিলায় কার্যকর আইন সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিস্তৃত ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে টেকসই করতে হলে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হবে। অনলাইন অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও শক্তিশালী করা, সাইবার তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
ইউএনওপস বাংলাদেশ, এটুআই, আইসিটি বিভাগ, বিআইআইএসএস এবং বাংলাদেশস্থ মালদ্বীপ হাইকমিশনের যৌথ আয়োজনের এই কর্মসূচি ‘নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে চলমান ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনের অংশ।
গোলটেবিল বৈঠকে সাইবারস্টকিং, অনলাইন হয়রানি, ডিপফেক, ছবি ও ভিডিও বিকৃতি এবং ইমেজবেইজড অ্যাবিউজসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সহিংসতার ঝুঁকি, ক্ষতি ও প্রতিকার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, আইনজীবী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত, সিভিল সোসাইটি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনওপস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধারণ বলেছেন, ডিজিটাল সহিংসতা শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। এটি উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবাধিকার—এই তিন অঙ্গনেই চ্যালেঞ্জ। তাই, সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করে এ সম্মিলিত প্রতিকার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
এটুআইএর প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রফিক বলেছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের জন্য সুযোগ ও উন্নতির এক বিরাট পরিসর তৈরি করেছে। তবে, এই পরিসর কখনোই ভয় বা সহিংসতার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে না। নারীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে আমরা সমতাভিত্তিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ কল্পনাও করতে পারি না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার এবং দপ্তর সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এএএম/রফিক