চর্চার অভাবে হয়তো তাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ নয়, তবে তাদের দেশে ক্রিকেটের আগমন প্রায় ২০০ বছর আগে। ব্রিটিশ রয়েল নেভির অফিসার অ্যাডমিরাল হোরাতিও নেলসন সেই ১৭৭৯ সালে প্রথম ইতালিতে ক্রিকেট খেলা চালু করেন। তখনও সেটা ছিল শুধুই স্থানীয় কুলিমজুরদের সঙ্গে সৈন্যদের ছুটির দিনের অবকাশ যাপনের অনুষঙ্গ মাত্র।
খেলাটির জনপ্রিয়তা নেপলসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় ক্রিকেটের ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি ইতালিতে। তারও প্রায় একশ বছর পর মিলানে ফুটবলের সঙ্গে ক্রিকেট ক্লাবও গড়ে ওঠে, আজকের এসি মিলান ক্লাব তখন ক্রিকেটও শুরু করেছিল। কিন্তু সেখানে ফুটবলের আকর্ষণের কাছে একটু একটু করে ক্রিকেট মুছে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পরপর ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের কর্মীরা ব্যাট-বল নিয়ে রোমে ফিরিয়ে আনেন ক্রিকেট। তবে এসবই হয় শখের খেয়ালে। ১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো গঠিত হয় ইতালিয়ান ক্রিকেট সংস্থা। চুরাশিতে আইসিসির অধিভুক্ত সদস্য, পঁচানব্বইয়ে সহযোগী সদস্যের পর ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেয় ইতালি। ২০১৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ খেলা। ছয় বছরের মধ্যে সেই ইতালিই কিনা টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে! ব্যাজিও, দেল পিয়েরো, পাওলো মালদিনির ইতালি শিখে নিয়েছে ক্রিকেটও। রূপান্তরের এই সময়কালকে বলা যেতেই পারে ক্রিকেটে ‘ইতালিয়ান রেনেসাঁ’।
ইউরোপিয়ান আঞ্চলিক বাছাই পর্বে দ্বিতীয় হয়ে টিকিট পেয়েছে ইতালি। শীর্ষে থেকে জায়গা নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের হেডে স্বাগতিকদের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছে ইতালি। তবে এর আগে স্কটল্যান্ডকে হারায় তারা। সেই জয়ই তাদের এ মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, যে স্কটল্যান্ডকে দুবারের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ কখনও হারাতে পারেনি, সেই তাদেরকেই কিনা হারিয়ে দেয় ইতালি। এবং সেটা ভারত-পাকিস্তানি প্রবাসীদের নিয়ে দল গড়ে নয়, হ্যারি মানেত্তি-গ্রান্ট স্টুয়ার্টদের মতো ইতালিয়ানদের নিয়েই প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। যদিও তাদের এ জাগরণে অতীতের মতোই অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সংস্পর্শতা রয়েছে। ইতালির এই দলটির অধিনায়ক জো বার্নস অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার। বছর দশেক আগে অসিদের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেছেন। তবে এখনও নিয়মিত বিগব্যাশে চার-ছক্কা হাঁকান। ওপেনার নিকো গে ইংল্যান্ডের কাউন্ট্রি দল নর্দাম্পশায়ারের হয়ে খেলছেন। মেনেত্তি ভাইয়েরা বিগব্যাশের চেনা মুখ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী বছর ২০ দল নিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের যে আসর বসতে যাচ্ছে, সেখানে ইতালিয়ান রেনেসাঁর ছোঁয়া লাগাতে চান জো বার্নস। ‘ইতালিতে ক্রিকেট খেলা মানে সাদা ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ানো, সেখানেই আমরা এখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকছি। সবাই আমাকে বলে টি২০ বিশ্বকাপে তো সুযোগ পেয়েছ, এখন লক্ষ্য কী? আমি তাদের বলি, আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই, যাতে করে বিশ্বকাপও জিততে পারি।’ শরীরে অসি রক্ত থাকলেও ইতালির সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। ‘আমার দাদা-দাদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি ছেড়ে যান, তারা নিশ্চয় আমার এ অর্জনে ভীষণ গর্বিত হবেন। বিশ্বের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে থাকা ইতালিয়ানদের জন্যই এটা দারুণ খবর, ইতালি টি২০ বিশ্বকাপ খেলবে। ইতালির আগামী প্রজন্মের কাছে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার এখনই সময়।’
বার্নসের আক্ষেপ ইতালিতে ক্রিকেট চর্চার মতো পিচ কিংবা টার্ফ নেই। তিনি এজন্য ইতালিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও গত বছর এই ইতালিতেই ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের। উত্তর ইতালির ছোট্ট শহর মোনফালকোনে কিছু প্রবাসী নিজেদের মতো করে ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু তাদের সেই খেলাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে নিষিদ্ধ করে দেন শহরটির মেয়র আনা মারিয়া। এমনকি ক্রিকেট খেলে ধরা পড়লে ১০০ ইউরো জরিমানার বিধান জারি করেন। জানতে ইচ্ছা করছে, ইতালি টি২০ বিশ্বকাপে যাওয়ার পর সেই মেয়র কি ক্রিকেটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন? নাকি এখনও এই খেলার ওপর রাগ করে আছেন?
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
এক আর্জেন্টাইনের হ্যাটট্রিকে মেসিদের বড় জয়, প্রথমবার কাপ ফাইনালে ইন্টার মায়ামি
ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। আজ প্লে-অফের ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল মেসির দল।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ লিগে ৩০টি দল ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে ভাগ হয়ে খেলে। দুই অংশের চ্যাম্পিয়নরা খেলে এমএলএস কাপ ফাইনাল। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মায়ামি এর আগে তিনবার প্লে-অফে খেললেও কনফারেন্স সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। এবার সেমি ও ফাইনাল জিতে নাম লিখিয়েছে কাপ ফাইনালেই।
চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আজকের কনফারেন্স ফাইনালে মায়ামি জিতেছে তাদেও আলেন্দের নৈপুণ্যে। ২৬ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন হ্যাটট্রিক করেছেন। একটি গোল করেছেন আরেক আর্জেন্টাইন মাতেও সিলভেত্তি। অন্য গোলটি তালেসকো সেগোভিয়ার। মেসি তাঁর রোজারিওর ছেলে সিলভেত্তির গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন।
আর্জেন্টাইনময় ম্যাচটিতে আলেন্দে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ১৪তম মিনিটে। এই গোলে অ্যাসিস্ট ছিল আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলের। ২৪তম মিনিটে আলেন্দে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন হেডে, তাঁকে বক্সে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন জর্দি আলবা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির জাস্টিন হাক এক গোল শোধ করে দিলে মায়ামি বিরতিতে যায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
৬৭তম মিনিটে মেসি বক্সের মধ্যে ঘেরাওয়ে পড়লে বল বাড়ান ফাঁকায় থাকা সিলভেত্তির দিকে। ১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বল জালে জালে পাঠাতে ভুল করেননি। মায়ামি জয়ের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয় ৮৩তম মিনিটে।
এ সময় বক্সের ভেতর আলবার ব্যাক পাস পেয়ে সেগোভিয়া গোল করে ব্যবধান ৪-১ করে ফেলেন। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইটের সহায়তায় নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আলেন্দে। মায়ামি মাঠ ছাড়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে।
আগামী ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপ ফাইনালে মায়ামি খেলবে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে সান ডিয়েগো ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে।