সুলতানের শিল্পীজীবনের প্রতিচ্ছবি
Published: 3rd, October 2025 GMT
সাধক চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান কথা বলছেন, আমি শুনছি, তাঁকে দেখছি। বলছি, কামরুল হাসান প্রদর্শনশালার একটি অন্ধকার কক্ষে চলমান তথ্যচিত্র দেখার অনুভূতির কথা। এ তথ্যচিত্র ধারণ করা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সুলতানের সঙ্গে নাসির আলী মামুনের বাঁশি নিয়ে একান্তে কথোপকথনের ধারণকৃত রেকর্ড ও ভিডিও চিত্রের কথাগুলো মরমে গিয়ে লাগল; বস্তুজগতের বাইরে এক আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে স্নাত হয়ে গেলাম।
নাসির আলী মামুনের প্রশ্ন ছিল, ‘দুঃখ মোচন করার জন্য কি যন্ত্রসংগীতের আশ্রয় নিতে হয়?’ সুলতানের বয়ানে উঠে এসেছে—তাঁর বাঁশি সে উদ্দেশ্যে নয়; বাঁশি নিজেই কথা বলে। সুর কেবল সাংসারিক দুঃখ-বেদনার কনসোলেশন নয়, বরং সুখ-দুঃখের সীমা অতিক্রম করে এক আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছে যায়। মানুষের প্রেম বা বিরহ বাঁশির লক্ষ্য নয়; বরং প্রকৃতির পশুপাখিই এই সুরে আকৃষ্ট হয়। তিনি বলেন, বাঁশি এমন এক ভাষা বহন করে, যার সঙ্গে বস্তুজগতের সম্পর্ক নেই। এর সুর কোনো ‘ওয়ার্ডস’ দেয় না, কিন্তু অনুভূতির অবস্থান নির্ধারণ করে। বাঁশির প্রাণ নিহিত থাকে বাজিয়ের শ্বাসপ্রশ্বাসে; যদি তা বিশুদ্ধ না হয়, সুরও বিকৃত হয়।
অন্ধকার কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রদর্শনীর দেয়ালে ঝোলানো সুলতানের প্রতিকৃতি দেখতে দেখতে হাঁটছিলাম। তথ্যচিত্রে দেখা সেই সুলতান—তাঁর বাঁশির সুর, গভীর ভাষ্য; আর দেয়ালে সাজানো প্রতিকৃতি, অ্যালবামধর্মী অনেকগুলো ছবি, হাতে লেখা চিঠি—সব মিলেমিশে যেন এক অনির্বচনীয় চৈতন্যে ভেসে গেলাম। শিল্পী ও শিল্পীজীবনের এই নিবিড় উপস্থাপনে মুহূর্তের মধ্যেই সুলতানের উপস্থিতি মর্মে উপলব্ধ হলো কবিতার মতোই। এ জন্যই হয়তো নাসির আলী মামুনকে বলা হয় ক্যামেরার কবি।
নাসির আলী মামুনের ক্যামেরায় এস এম সুলতান.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ন স র আল
এছাড়াও পড়ুন:
জয়া চান না তার নাতনি বিয়ে করুক
বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম প্রভাবশালী বচ্চন পরিবার। এ পরিবারের নিয়ম-নিষ্ঠা সম্পর্কে সবাই অবগত। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক অমিতাভ-জয়ার। অনেক ভক্ত রয়েছেন যারা এই পরিবারকে ব্যক্তিগত জীবনে অনুসরণ করেন।
উই দ্য ইউমেন-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জয়া বচ্চন। এ আলাপচারিতায় জয়া জানান, তিনি চান না তার নাতনি নব্য বিয়ে করুক।
আরো পড়ুন:
দীপিকার বোনের বিয়ের ঘটক রণবীর!
প্রেমের গল্প নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ধানুশ-কৃতি: বক্স অফিসের হালচাল কী?
এ আলাপচারিতায় বিয়ের আইনি ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়া বচ্চন উৎসাহব্যঞ্জক বাক্য ছুড়ে দিয়ে বলেন—“জীবন উপভোগ করুক।” এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, নব্য যদি আপনার মতো বিয়ের পর ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়, তবে কি জয়া বচ্চন তাতে রাজি থাকবেন? উত্তরে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি চাই না নব্য বিয়ে করুক।”
সঞ্চালক জয়াকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কী মনে করেন বিয়ে একটি সেকেলে প্রতিষ্ঠান। তখন ‘অভিমান’ অভিনেত্রী বলেন, “আজকের প্রজন্ম যে কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।”
বিয়ে প্রসঙ্গে ফিরে জয়া বচ্চন বিয়েকে ‘দিল্লিকা লাড্ডুর’ সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, “আপনি যদি এটি খান তবে বিপদে পড়বেন, আর না খেলেও আফসোস করবেন।”
অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের দুই সন্তান। কন্যা শ্বেতা বচ্চন ও পুত্র অভিষেক বচ্চন। নিখিল নন্দার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন শ্বেতা বচ্চন। এ দম্পতির মেয়ে নব্য নাভেলি নন্দা। যুক্তরাষ্ট্রের ফোরডাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিজিটাল টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে নিজের ‘আরা’ নামে স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।
অনেকদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে—বলিউডে নাম লেখাতে চান নব্য। তবে এখনো বলিউড সিনেমায় তার অভিষেক ঘটেনি। তবে এর আগে একটি বহুজাতিক সংস্থার বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন নব্য।
স্নাতক সম্পন্ন করার পর কিছু দিন পড়াশোনা থেকে বিরতি নেন নব্য। নিজে পডকাস্ট শুরু করেছিলেন। নানি জয়া বচ্চন ও মা শ্বেতা বচ্চন দু’জনেই তার শোয়ে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। নব্যর বাবা নিখিল নন্দা শিল্পপতি। নিখিলের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অংশীদার নব্য।
নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন নব্য। নিজের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। লিঙ্গসাম্য থেকে শুরু করে নারীদের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা নিয়ে ভারতজুড়ে কাজ করেছেন নব্য। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং লিঙ্গসাম্য নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন নব্য।
গত বছর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব ম্যানেজমেন্টে (আইআইম) ভর্তি হন নব্য। মুম্বাই, দিল্লি ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা করেন নব্যর বাবা নিখিল। পড়াশোনা শেষ করে নব্য সেই ব্যবসা সামলানোর পরিকল্পনা করেছন বলেও জানা গেছে।
ঢাকা/শান্ত