বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয় মনে করেন, টাকার চেয়ে সম্পদের মূল্য বেশি। আর স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারই জীবনে বেশি স্থায়ী। গতকাল শনিবার এনডিটিভি প্রফিটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত বুঝে গিয়েছিলাম যে টাকার চেয়ে সম্পদের প্রতি আমার আগ্রহ বেশি। আমি সব সময় উদ্যোক্তাদের একটা প্রশ্ন করি—তুমি কি টাকা বানাতে চাও, না সম্পদ গড়তে চাও?’ কেউ যদি বলে, টাকা বানাতে চায়, আমি তাকে বিদায় দিই। আর যদি বলে সম্পদ গড়তে চায়, তখন বলি—চলো, অংশীদারত্ব নিয়ে ভাবা যাক। কারণ, আমার বিশ্বাস—লাভ হয় এক ত্রৈমাসিকের জন্য, কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে আজীবন।’

বাবার দেওয়া শিক্ষা, ব্যবসার শুরু
বিখ্যাত অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়ের ছেলে বিবেক ওবেরয়, এখন প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি রুপির মালিক। তবে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার শুরু হয়েছিল কৈশোরেই। তিনি বলেন, ‘আমি তখন ১৫–১৬ বছরের, রাজস্থানের মায়ো কলেজে পড়তাম। বাবা আমাকে মাসে ৫০০ রুপির হাতখরচ দিতেন। তখন মনে হতো অনেক টাকা। কিন্তু প্রথম সপ্তাহেই ডেটিংয়ে গিয়ে পুরো টাকা শেষ! এরপর বাবা বললেন, “তোমার বাজেট তুমি নিজেই গুবলেট করেছ, এখন নিজেই সামলাও।” তখনই বুঝলাম, টাকাপয়সার মূল্য কী।’

বিবেক ওবেরয়। অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম থেকে.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

পাবনায় অস্ত্র হাতে যুবক তুষার জামায়াতের কর্মী: পুলিশ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে গুলি ছোঁড়া সেই যুবক জামায়াতের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান। 

আরো পড়ুন:

মেহেরপুরে ১০ স্বর্ণের বার উদ্ধার, ভারতীয়সহ গ্রেপ্তার ২

দ্বিতল পুলিশ বক্স উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসির প্রশাসক

ওসি আ স ম আব্দুর নূর বলেন, ‘‘সংঘর্ষের দিন অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া যুবক তুষার মন্ডল জামায়াতের কর্মী। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।’’ 

তুষার মণ্ডল ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তুষার পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা পাল্টাপাল্টি দুই মামলায় উভয়দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দুইজন এবং বিএনপির তিনজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আব্দুর নূর বলেন, “দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মামলা করেছে। দুই পক্ষের মামলার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে, পাবনা জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অপর মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি'র মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির ও জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। 
 

ঢাকা/শাহীন/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ