চলে গেলেন পাকিস্তানের বিখ্যাত মোহাম্মদ ভাইদের বড়জন
Published: 13th, October 2025 GMT
চলে গেলেন ক্রিকেটের মোহাম্মদ ভাইদের সবচেয়ে বড়জন। হানিফ মোহাম্মদ ও মুশতাক মোহাম্মদদের ভাই সাবেক ক্রিকেটার ওয়াজির মোহাম্মদ আজ ৯৫ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিসিবির এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট ব্যাটসম্যান ওয়াজির মোহাম্মদের মৃত্যুতে পিসিবি গভীরভাবে শোকাহত। মোহাম্মদ ভাইদের মধ্যে চারজন টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে তিনি দেশের হয়ে ২০টি টেস্ট খেলেন। তার পরিবার ও বন্ধুদের সমবেদনা জানাচ্ছে পিসিবি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের শুরুর দিনগুলোয় টেস্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাবেক ব্যাংকার ওয়াজির। তাঁরা মোট পাঁচ ভাই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা রাইস মোহাম্মদই শুধু টেস্ট খেলেননি। মোহাম্মদ ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পাকিস্তানের হয়ে ৫৫ টেস্ট খেলা কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদ মারা গেছেন ২০১৬ সালে। মুশতাক মোহাম্মদ পাকিস্তানের হয়ে ৫৭ টেস্ট খেলেছেন। আরেক ভাই সাদিক মোহাম্মদ ৪১ টেস্ট খেলেন পাকিস্তানের হয়ে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ইসরার আলীর মৃত্যুর পর ওয়াজিরই ছিলেন পাকিস্তানের জীবিত থাকা সবচেয়ে বেশি বয়সী টেস্ট ক্রিকেটার। ১৯৫২ সালে প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারত সফরে যাওয়া পাকিস্তান দলের অংশ ছিলেন ওয়াজির।
লোয়ার-মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ২৭.
১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পাকিস্তান ক্রিকেটে বেশ কিছু কারণে স্মরণীয়। সেই সফরে গ্যারি সোবার্স যেমন ৩৬৫ রানের রেকর্ড গড়েন, তেমনি হানিফও খেলেন ৩৩৭ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। সেই সফরে ওয়াজির ৫ টেস্টে দুই সেঞ্চুরিসহ ৪৪০ রান করেন। পোর্ট অব স্পেনে পাকিস্তানের ইনিংস ও ১ রানের জয়ে দলের প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রান করেন ওয়াজির।
১০৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪০.৪০ ব্যাটিং গড়ের ওয়াজিরকে পাকিস্তান ক্রিকেটে আদর করে ‘উইজডেন’ নামে ডাকা হতো। কারণ ক্রিকেটের অনেক খুঁটিনাটি পরিসংখ্যান তাঁর ঠোঁটের ওপরে থাকত। ভাই মুশতাকের মতো ওয়াজিরও ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে বসবাস করতেন।
ওয়াজির মোহাম্মদ, হানিফ মোহাম্মদ, মুশতাক মোহাম্মদ ও সাদিক মোহাম্মদ মিলে টেস্ট খেলেছেন মোট ১৭৩টি। হানিফ মোহাম্মদের ছেলে শোয়েব মোহাম্মদের ৪৫ টেস্টও যোগ করলে মোহাম্মদ পরিবারে মোট টেস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮। ১৯৬৯ সালে করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে একসঙ্গে তিন ভাই হানিফ, সাদিক ও মুশতাক পাকিস্তান দলে খেলেন। যা টেস্ট ইতিহাসে তিন ভাইয়ের একসঙ্গে টেস্ট খেলার তৃতীয় ঘটনা।
আরও পড়ুন১৬ রানে শেষ ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের, স্বস্তিতে নেই দক্ষিণ আফ্রিকাও১ ঘণ্টা আগেউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: হ ন ফ ম হ ম মদ র ম হ ম মদ ক ম হ ম মদ ম শত ক প রথম
এছাড়াও পড়ুন:
বাবার ডিপিএসের টাকায় ফ্রিল্যান্সিং শুরু শফিকুলের, এখন চালাচ্ছেন স্থানীয় স্পোর্টিং ক্লাব
যশোরের কাজীপাড়া মহল্লার এক মৎস্য ব্যবসায়ী বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন ছেলে বড় কিছু করবে। কিন্তু মধ্যবিত্তের সংসারে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। ২০১৬ সাল। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও ছেলের আবদার ফেলতে পারেননি বাবা নুরুল ইসলাম। নিজের শেষ সম্বল, তিলে তিলে জমানো ডিপিএস ভেঙে ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার। সেই ল্যাপটপ আর বাবার বিশ্বাসকে পুঁজি করেই শুরু হয়েছিল মো. শফিকুল ইসলামের জীবনযুদ্ধ।
আজ সেই শফিকুল ইসলাম কেবল সফল ফ্রিল্যান্সারই নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। মাসে আয় করেন এক লাখ টাকার বেশি। নিজের উপার্জনের সিংহভাগ খরচ করে গড়ে তুলেছেন ‘কাজীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব’, যেখানে তিনি এলাকার তরুণদের দেখাচ্ছেন আলোর পথ। বর্তমানে ওয়েবসাইট ব্লগিং ও গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন শফিকুল ইসলাম।
ডিপিএস ভেঙে স্বপ্নের শুরুসুজনের শুরুর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যশোর উপশহর কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর স্নাতক শ্রেণিতে পড়ার সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের পোকা মাথায় চাপে। বাবার ডিপিএস ভেঙে কিনে দেওয়া ল্যাপটপে রাতদিন এক করে খাটতেন। কিন্তু সফলতা যেন মরীচিকা। ২০১৬ থেকে ২০১৮—টানা তিন বছর শুধুই ব্যর্থতা। এর মধ্যেই ভালোবেসে বিয়ে করেন শামসুন্নাহারকে। কিন্তু বেকার ছেলের হাতে মেয়ে তুলে দিতে নারাজ ছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
শফিকুলের ভাষায়, ‘জীবনে সফলতা না থাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আমাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। স্ত্রীকে এক কাপড়ে আমার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিল।’
এরপর আসে করোনা মহামারি। টিকে থাকার লড়াইয়ে দুই ছোট ভাইকে নিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করেন, সেখানেও ব্যর্থতা। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে যখন দিশাহারা, তখন আবারও ঢাল হয়ে দাঁড়ান বাবা। বাবার সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতিদান দিতে সুজন মরিয়া হয়ে ওঠেন। গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করেন, কিন্তু সেখানেও হোঁচট। যাদের তিনি কাজ শিখিয়েছিলেন, তাদের অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হলেও তাঁর নিজেরটা বারবার রিজেক্ট হতো। মানুষ তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত, পাগল বলত। তবে আব্দুল্লাহ আল মুন্না ও আলামিন—এই দুই মেন্টরের প্রতি সুজন আজীবন কৃতজ্ঞ।
মেয়ের আগমনে ভাগ্যবদল২০২১ সালের সেপ্টেম্বর। সুজনের ঘর আলো করে আসে প্রথম সন্তান নুসাইবা শফিক। সুজন বিশ্বাস করেন, মেয়ের জন্মই ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মেয়ের জন্মের পরের মাসেই হাতে আসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিশাল পেমেন্ট। যে সুজনকে একসময় কেউ গুনত না, সেই সুজনই হয়ে ওঠেন এলাকার সফল মুখ।
সুজন বলেন, ‘আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, বাস্তবতা বুঝি। তাই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, নিজের আয়ের একটা অংশ মানুষের জন্য খরচ করব।’
তারুণ্যকে বাঁচাতে খেলার মাঠের ডাকনিজের জীবনের মোড় ঘোরার পর সুজন নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য টান। এলাকার বড় ভাই সোহাগ, রনি, রুমন ও তুষারদের দেখতেন কাজীপাড়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা লালন করতে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে তাঁরা দূরে সরে গিয়েছিলেন। বড় ভাইদের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন কাঁধে তুলে নেন শফিকুল।
মাদক ও খারাপ কাজ থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে ২০২৩ সালের বিজয় দিবসে প্রতিষ্ঠা করেন ‘কাজীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব’। বর্তমানে ৭০ সদস্যের এই ক্লাবের কোনো বাহ্যিক বিনিয়োগকারী নেই। সুজন নিজের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেন এই ক্লাবের পেছনে।
একটি টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতার পর শফিকের কাজীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব