Prothomalo:
2025-11-30@13:28:02 GMT

কিশোরদের নতুন দুনিয়া

Published: 14th, October 2025 GMT

শৈশবে স্কুলই ছিল আমাদের দুনিয়ার কেন্দ্র। পরীক্ষার নম্বর, হোমওয়ার্ক কিংবা ক্লাসের ছোটখাটো ঝামেলাও তখন মনে হতো ভয়ংকর গুরুত্বপূর্ণ। চেনা বেঞ্চ, পরিচিত ঘণ্টার শব্দ কিংবা খেলাধুলার আড্ডার মধ্যেই হঠাৎ হঠাৎ উঁকি দিত নতুন সব নাটকীয়তা। আদনান মুকিতের লেখা প্রথম কিশোর উপন্যাস—দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার অব ফার্মের মুরগি সেই অভিজ্ঞতাগুলোই ফিরিয়ে আনে, মনে করিয়ে দেয় কিশোর বয়সের প্রতিটি দিন আসলে কতটা ঘটনাবহুল হয়ে উঠতে পারে।

এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইভান—দশম শ্রেণির ছাত্র। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খেলাধুলা, গান শোনা কিংবা অবসরে বই পড়া—এভাবেই কাটে তার দিন। আবার পথের কুকুর–বিড়ালের প্রতি মমতা কিংবা বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোও তার নিত্য অভ্যাস। বাবা থাকেন দেশের বাইরে, মা আর নেই, তাই ইভান থাকে ফুফা–ফুফুর কাছে। এসব শূন্যতা সত্ত্বেও সে গড়ে তোলে নিজের মতো এক জগৎ। কিন্তু একদিন সকালে স্কুলে ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে সেই দুনিয়া—সহপাঠীদের সামনে ইভানের ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে একটি ছুরি! কেউ তাকে ফাঁসাতে চাইছে, কিন্তু কেন? এখান থেকেই শুরু হয় তার অভিযান, যেখানে যোগ দেয় বিচিত্র সহপাঠী রুশা ও প্রাণের বন্ধু রাহাতসহ অনেকে। প্রতিটি অধ্যায়েই গল্প বাঁক নেয় নতুন নতুন রহস্যে।

এই উপন্যাসের বড় শক্তি হলো সমসাময়িক কিশোরজীবনের বাস্তব চিত্রণ। শ্রেণিকক্ষের ঘটনা, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক, আড্ডা, এমনকি ফোন–সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার—সবকিছুই ধরা দিয়েছে পরিচিত অথচ নতুন এক আঙ্গিকে। সমাজের কিছু অপ্রিয় বাস্তবতার ইঙ্গিতও পাওয়া যায় বইতে। পাশাপাশি লেখক তুলে এনেছেন কিশোর বয়সের মানসিক টানাপোড়েনও। পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা যেমন দেখানো হয়েছে, তেমনি বাবার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা শীতল কথোপকথনও আমরা খুঁজে পাই বইতে। কিশোর বয়সের আবেগ আর মানসিক জটিলতার সূক্ষ্ম চিত্রণ বইটিকে করেছে আরও গভীর।

ইভানের চরিত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তার দয়া আর সহমর্মিতা। এলাকার অসহায় কুকুর–বিড়ালদের যত্ন নেওয়া, বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানো, এমনকি যে তাকে ক্ষতি করতে চাইছে, তার প্রতিও সহানুভূতি দেখানো—ইভান যেন হয়ে ওঠে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচকতার প্রতীক। উপন্যাসজুড়েই প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিপদে পড়া প্রাণীদের উদ্ধার, তাদের নিয়ে উদ্বেগ—পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে।

লেখক আদনানের লেখালেখির মূল শক্তির জায়গা তাঁর রম্য। এই বইতে সেই হাস্যরস পুরোপুরিভাবেই পাঠক খুঁজে পাবেন। তাঁর ঝরঝরে অথচ টান টান গদ্য পাঠককে সহজেই টেনে নেয় গল্পের ভেতরে। সংলাপগুলো একেবারেই বাস্তব কিশোরদের কথাবার্তার মতো—যা গল্পকে করেছে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত। প্রতিটি অধ্যায়ে ছোট ছোট রহস্য, ক্লিফহ্যাঙ্গার আর চমক কিশোরদের পড়ার আনন্দকে দ্বিগুণ করবে। লেখক এই প্রজন্মের নাড়ির স্পন্দন বুঝেছেন; বরং অনেক প্রবীণ লেখকের মতো ‘আজকের ছেলেমেয়েরা কিছু বোঝে না’ ভাবেননি। তিনি দেখিয়েছেন, জেনারেশন জেড আসলে কতটা জানে, কতটা পরিপক্ব চিন্তাভাবনা করতে পারে। এ কারণেই তাঁর লেখা একদিকে যেমন মজাদার ও গতিময়, অন্যদিকে আবার আমাদের ছোটবেলার পড়া কিশোর উপন্যাসগুলোর মতোই একটা পরিচিত ক্ল্যাসিক আবহ তৈরি করে।

আমাদের দেশে বড় লেখকেরা সচরাচর কিশোরদের জন্য লিখতে আগ্রহী হন না, ফলে দীর্ঘদিন ধরে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই জায়গায় এই বই নিঃসন্দেহে কিশোর পাঠকের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। এটি মিশ্র ঘরানার কিশোর উপন্যাস—এখানে যেমন আছে কিশোরদের সহজ–সরল দৈনন্দিন জীবন, তেমনি গোয়েন্দাগিরির আভাস, নানা রোমাঞ্চকর অভিযান, মনস্তত্ত্বের টানাপোড়েন, সামান্য ফ্যান্টাসির ছোঁয়া আর থ্রিলারের উত্তেজনা। এই বৈচিত্র্যই বইটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। কিশোর উপন্যাস হলেও এটি কেবল কিশোরদের অভিযান নয়, বরং আমাদের চারপাশের বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে। যেসব ছেলেমেয়েকে আমরা ঠাট্টা করে ‘ফার্মের মুরগি’ বলে ডাকি, তারাই আসলে কতটা সক্ষম, কতটা বড় কিছু করতে পারে—উপন্যাসটি যেন সেটির একটি ঘোষণাপত্র। উপন্যাসটি যেমন কিশোরদের জন্য রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা, তেমনি প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের কাছেও এটি হয়ে উঠতে পারে নতুন করে ভাবার উপলক্ষ।

দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার অব ফার্মের মুরগি
আদনান মুকিত

প্রকাশক : প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২৫
প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম
পৃষ্ঠা : ১৬০
মূল্য : ৪২৫ টাকা

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ক শ র উপন য স আম দ র

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার নামে পশু জবাই করে ছদকায়ে জারিয়া আদায় রনির

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থ্যতা কামনায় ছদকায়ে জারিয়া আদায় করে দোয়া ও তবারক বিতরণ করা হয়।

রবিবার বাদ আসর উত্তর নরসিংপুর এশায়াতুস্ সুন্নাহ্ ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নামে দুইট পশু জবাই করে ছদকায়ে জারিয়া আদায় করেন মশিউর রহমান রনি।

এরপর খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে রান্না করা খাবার তবারক বিতরন করেন মশিউর রহমান রনি।

দোয়া শেষে মশিউর রহমান রনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নামে পশু জবাই করে ছদকায়ে জারিয়া আদায় করে আল্লাহ নিকট প্রার্থনা করিলাম আল্লাহতায়ালা আমাদের গনতন্ত্রের মাকে যেন খুব দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন দেশনেত্রী আমাদের মাঝে ফিরে এসে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

দোয়ায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন,সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম,জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, সাবেক সহসভাপতি শরিফ হোসেন মানিক,কায়েস আহাম্মেদ পল্লব,মুরাদ হাসান,ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিয়াদ দেওয়ান, থানা যুবদল যুগ্ন আহবায়ক আঃ রাজ্জাক,কাশীপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রিজওয়ান শিকদার,ফতুল্লা থানা যুবদল নেতা রতন, রুবেল হোসেন,বাপ্পী শিকদার, ৮নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি শেখ রুবেল, মাসুম বিল্লাহ,কামাল, ডাঃ সোহেল, শাহীন, ছাত্রদল নেতা লিয়ান মাহমুদ আকাশসহ কয়েকশত নেতৃবৃন্দ।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ