গাজীপুর মহানগরের জরুন এলাকার কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের চারটি কারখানায় বারবার বন্ধের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ১৭০ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ মূলত শ্রমিক ছাঁটাই করতেই বারবার বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে।

১ অক্টোবর কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সই করা নোটিশের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই নোটিশে ১৭০ শ্রমিককে ছাঁটাই করে তাঁদের নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্ধের ঘোষণা দেওয়া কারখানাগুলো হলো—কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ১২০ দিনের নোটিশ পিরিয়ড দিয়ে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়ে ১ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা করা হয়। পরে নতুন নোটিশের মাধ্যমে আরও তিন মাস বাড়িয়ে ১ নভেম্বর থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাজারের অস্থিতিশীলতা, ব্যাংকের সঙ্গে হিসাবের অমিল, কাঁচামালের ঘাটতি ও পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ না থাকার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সংযুক্ত তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের চাকরি ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং ১ নভেম্বর থেকে তাঁদের চাকরি অবসান হয়েছে বলে গণ্য হবে। বাংলাদেশ শ্রম আইন–২০০৬ অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে। প্রতিবারই কিছু কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করছে।

আবদুল হাকিম নামের আরেক শ্রমিক বলেন, ‘কারখানা নিয়মিত চললেও মাঝেমধ্যে বন্ধের কথা বলে শুধু শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি এই কারখানায়। এখন নতুন করে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন, এর মধ্যে এক হাজার প্রতিবন্ধী শ্রমিক। ব্যাংক জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ নানামুখী সমস্যায় পড়ছে। মালিকপক্ষ কারখানাটি চালু রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। একাধিকবার বন্ধের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। এখনো কারখানা চালু রাখার চেষ্টা চলছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ২ হাজার ২০৩ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। ওই সময় শ্রমিকেরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন। এবার নতুন করে ১৭০ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংক জটিলতার কারণে এলসি করতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে। যখনই নতুন কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন বন্ধের নোটিশ পিছিয়ে দিয়ে কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধের নোটিশের একটি কপি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ট ই কর

এছাড়াও পড়ুন:

কোহলির সেঞ্চুরির পরই মাঠে ঢুকলেন এক ভক্ত

সেঞ্চুরির উদ্‌যাপন মাত্র শেষ করেছেন। এর মধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে মাঠে ঢুকে পড়লেন বিরাট কোহলির এক ভক্ত। মাঠে ঢুকে কোহলির পা ছুঁয়ে শ্রদ্ধা জানান সেই ভক্ত। রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কোহলির ৫২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি উদ্‌যাপনের ঠিক পরপরই ঘটে এ ঘটনা।

কোহলি আজ সেঞ্চুরি করেছেন ৩৮তম ওভারের শেষ বলে। মার্কো ইয়ানসেনের বলটি চার মেরে সেঞ্চুরি করেন তিনি। সেঞ্চুরির উদ্‌যাপনের পরই হঠাৎই এক তরুণ নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে দৌড় দিয়ে পৌঁছে যায় সরাসরি কোহলির সামনে।

আবেগে আপ্লুত ভক্তটি সঙ্গে সঙ্গে কোহলির পা ছুঁয়ে শ্রদ্ধা জানান। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত মাঠে প্রবেশ করে তরুণটিকে সরিয়ে নেন। পুরো ঘটনাটির সময় কোহলি ছিলেন শান্ত ও সংযত; উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে একবার তাকালেও কোনো অস্বস্তি প্রকাশ করেননি তিনি। পরে নিরাপত্তা সদস্যরা ভক্তকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান।

এর আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫২তম সেঞ্চুরি তুলে নেন বিরাট কোহলি, যা ক্রিকেটের এক সংস্করণে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত ফেব্রুয়ারির পর এটিই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগের সেঞ্চুরিটি করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।

কোহলির সেঞ্চুরির পরই ঘটে ঘটনাটি

সম্পর্কিত নিবন্ধ