৩৫ বছর পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরা। 

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ১৫টি কেন্দ্রে ৬০টি নির্বাচনি কক্ষে ভোট শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

আরো পড়ুন:

৩৫ বছরের ‘ফাঁড়া’ কাটিয়ে চাকসুর ‘ভোট উৎসব’ বুধবার

রাকসুতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

চাকসু ও হল সংসদের এই নির্বাচনে নিজেদের রায় দেবেন সাড়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। 

৬০টি নির্বাচনি কক্ষের প্রত্যেকটি কক্ষে রয়েছে পাঁচটি ব্যালট বাক্স। চাকসু নির্বাচনের জন্য চারটি এবং হল সংসদের জন্য একটি ব্যলট বাক্স থাকবে। একটি কক্ষে ৫০০ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। ভোট দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ভোটার পাচ্ছেন ১০ মিনিট সময়। একজন ভোটার চাকসুতে ২৬টি ও হল সংসদে ১৪টিসহ মোট ৪০টি ভোট দেবেন। 

চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন ৯০৮ প্রার্থী। এর মধ্যে শুধু চাকসুর ২৬টি পদে লড়বেন ৪১৫ জন প্রার্থী। চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ২২ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী পাঁচটি নির্বাহী সদস্য পদে ৮৫ জন।

অন্যদিকে, ১৪টি হল ও একটি হোস্টেল সংসদে লড়বেন ৪৯৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নয়টি ছাত্র হলের প্রার্থী ৩৫০ ও পাঁচটি ছাত্রী হলের প্রার্থী ১২৩ এবং হোস্টেল সংসদে প্রার্থী ২০ জন।

চাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ভোটার ১৬ হাজার ৮৪ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষার্থী। ছাত্র ভোটার শতকরা ৫৮.

৪৭ শতাংশ এবং ছাত্রী ভোটার ৪১.১৭ শতাংশ। মোট ভোটারের ৭০ শতাংশই অনাবাসিক, বাকি ৩০ শতাংশ ভোটার থাকেন হল, হোস্টেল ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কটেজে।

এদিকে, শহরে থাকা প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে শাটল ট্রেনের অতিরিক্ত দুটি শিডিউল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, শহর থেকে ক্যাম্পাস যাতায়াতের জন্য রয়েছে ১৫টি বিশেষ বাস।

১৫টি কেন্দ্রের পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি বিশেষায়িত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে দুইজন নির্বাচন কমিশনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন।

নির্বাচন চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর অন্তত ১ হাজার ২০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, প্রক্টরিয়াল বডির আওতায় আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ জন সদস্য। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় প্রতিটি অনুষদ ভবনে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।

ভোটগ্রহণ থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকায় এক মুহূর্তের জন্যও রেকর্ড বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন।
 
সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে চাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

এ পর্যন্ত ছয়বার চাকসু নির্বাচন হয়েছে। প্রথম চাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭০ সালে এবং সর্বশেষ ১৯৯০ সালে। আইনানুগ ছাত্রপ্রতিনিধিত্ব ছাড়াই চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। 

চাকসুর শেষ দুই নির্বাচনের একটি হয়েছিল ১৯৮১ সালে। সেই নির্বাচনে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অধিকাংশ পদে বিজয়ী হয়েছিল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। শেষবার চাকুস ভোটে ছাত্রশিবিরের একক বিজয় ঠেকাতে গঠিত হয়েছিল সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ। ফলাফলে অধিকাংশ পদে বিজয়ী হয়েছিলেন এই পরিষদের প্রার্থীরা।

এবারো শিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয় ঠেকাতে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ গঠনের চেষ্টা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

ঢাকা/মিজানুর/ইভা 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর হয় ছ ল র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

বন্দরের তবলা বাদক তিলক চৌধুরীর পরলোকগমন

সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির তবলা বাদক ও বম্দর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য তিলক চৌধুরী (৫৫)।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বন্দর আমিন আবাসিক এলাকাস্থ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবানী শংকর রায়,বন্দর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু,কন্ঠশিল্পী নূরুল হক মান্নাহ,বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালকাভুক্ত শিল্পী আমজাদ হাসান,জি এম রহমান রনি,বাংলাদেশ টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পী গোলাম রসুল আজাদ,শিল্পী মেঃ শাহজামাল,মনসুর সাদেক আজাদ,মিনহাজ বাবু,সোহাগ রায়হান,চঞ্চল মাহমুদ,কণ্ঠশিল্পী সুরমি রায়,পুষ্পিতা সরকারসহ আরো অনেকে।

শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে তারা গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, তিলক চৌধুরী ছিলেন একজন গুণী যন্ত্রশিল্পী। তার আকস্মিক বিদায় আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। তার এ বিয়োগ কখনে পূরণ হবার নয়।

 আমরা গুণী এই শিল্পীর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসহ তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি একই সাথে পরপারে তার সদগতি কামনা করছি।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ