ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিশেষজ্ঞ অ্যাশলে টেলিসকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘বেআইনিভাবে জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন।’

টেলিস একসময় মার্কিন প্রশাসনে কাজ করেছেন। তিনি ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ব্ল্যাকউইলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অধীনে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো টেলিসের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ এনেছে, তিনি খুবই সংবেদনশীল ‘১ হাজার পৃষ্ঠার বেশি গোপন সরকারি নথি প্রিন্ট করে বাড়িতে ফাইল ক্যাবিনেট ও আবর্জনার ব্যাগে লুকিয়ে রেখেছিলেন’।

মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি লিন্ডসে হ্যালিগান ঘোষণা করেছেন, ভিয়েনার বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী অ্যাশলে টেলিসকে সপ্তাহান্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য বেআইনিভাবে নিজের কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

হ্যালিগান বলেন, ‘আমরা দেশি–বিদেশি সব ধরনের হুমকি থেকে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করতে পুরোপুরি আন্তরিক। এই মামলার অভিযোগগুলো আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি। এই মামলার ঘটনা ও আইন স্পষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সেসব আইন অনুসরণ করে যাব।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে টেলিসের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি ফৌজদারি অভিযোগ ‘কেবলই একটি অভিযোগ’ এবং দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হয়।

টেলিস মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি দপ্তরে ঠিকাদার হিসেবেও কাজ করেছেন। সপ্তাহান্তে এফবিআই এজেন্টরা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ‘গোপনীয়’ এবং ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ প্রচুর নথি খুঁজে পেয়েছেন। এরপরই ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুনানি পর্যন্ত তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেলিস বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে ভাবেন এবং পুরো বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিযোগী হিসেবে মনে করেন।’

টেলিসের অন্যতম আইনজীবী ডেবোরা কার্টিস বলেছেন, ‘আমরা শুনানির অপেক্ষায় আছি, যেখানে আমরা আমাদের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারব।’ তিনি এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআইয়ের হলফনামায় বলা হয়েছে, টেলিস সরকারি কম্পিউটারে মার্কিন সামরিক বিমানের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর গোপন নথি প্রিন্ট করেছেন বা সহকর্মীকে প্রিন্ট করতে বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নথি অনুসারে, নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে টেলিসকে বেশ কয়েকবার সরকারি দপ্তর থেকে একটি ব্রিফকেস নিয়ে বের হতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি প্রিন্ট করা কাগজপত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এফবিআই আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিস একাধিকবার চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ২০২২ সালে এক নৈশভোজে টেলিস একটি ম্যানিলা ফোল্ডার নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা চীনা কর্মকর্তারা একটি উপহারের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেন।

হলফনামায় বলা হয়েছে, রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় টেলিসের কাছে ম্যানিলা ফোল্ডারটি দেখা যায়নি। তবে চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি কোনো গোপনীয় তথ্য পাচার করেছেন বলে সরাসরি অভিযোগ করা হয়নি।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: প র ন ট কর কর মকর ত কর ছ ন সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

বন্দরের তবলা বাদক তিলক চৌধুরীর পরলোকগমন

সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির তবলা বাদক ও বম্দর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য তিলক চৌধুরী (৫৫)।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বন্দর আমিন আবাসিক এলাকাস্থ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবানী শংকর রায়,বন্দর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু,কন্ঠশিল্পী নূরুল হক মান্নাহ,বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালকাভুক্ত শিল্পী আমজাদ হাসান,জি এম রহমান রনি,বাংলাদেশ টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পী গোলাম রসুল আজাদ,শিল্পী মেঃ শাহজামাল,মনসুর সাদেক আজাদ,মিনহাজ বাবু,সোহাগ রায়হান,চঞ্চল মাহমুদ,কণ্ঠশিল্পী সুরমি রায়,পুষ্পিতা সরকারসহ আরো অনেকে।

শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে তারা গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, তিলক চৌধুরী ছিলেন একজন গুণী যন্ত্রশিল্পী। তার আকস্মিক বিদায় আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। তার এ বিয়োগ কখনে পূরণ হবার নয়।

 আমরা গুণী এই শিল্পীর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসহ তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি একই সাথে পরপারে তার সদগতি কামনা করছি।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ