ক্ষমতার কাছে গেলে অনেকের মুখোশ বদলে যায়: মম
Published: 5th, July 2025 GMT
একসময় টেলিভিশন নাটকে ব্যস্ততা থাকলেও বর্তমানে ওটিটিই যেন জাকিয়া বারী মমর অভিনয়ের নতুন ঠিকানা। তাঁর অভিনীত একাধিক ওয়েব সিরিজ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে নাটকেও তিনি অভিনয় করেন, যদি গল্প ও চরিত্র যথাযথ হয়। গেল ঈদে মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিনীত নাটক ‘স্কুল গেট’ ছিল এর বড় প্রমাণ।
সোহেল রাজ পরিচালিত নাটকটি ইউটিউবে দর্শকের আবেগ ছুঁয়ে গেছে, মন্তব্য ঘরে দেখা গেছে প্রশংসার ঢল। সেই প্রশংসার রেশ না কাটতেই এবার নতুন একটি কারণে শিরোনামে এলেন মম। এবার অভিনয়ের জন্য নয়, বরং চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩২টি চলচ্চিত্রকে প্রায় ১৩ কোটি টাকার সরকারি অনুদান দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। গত ১ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর অনুদান বণ্টন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আসে মমর পদত্যাগের খবর।
অভিনেত্রী জানান, তিনি গত ২৫ মেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মম বলেন, ‘ক্ষমতার কাছে যেহেতু আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া ছিল না, তাই কাজ করার ইচ্ছা নিয়েই এসেছিলাম। সেই কাজ করার সুযোগটুকু পাইনি। তাই মনে হয়েছে, আমার জায়গায় কেউ এসে দায়িত্ব পালন করলে কমিটির জন্য ভালো হবে।’ তিনি আরও জানান, ১ জুলাই যে অনুদান তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাছাই কিংবা চূড়ান্তকরণ কোনোটিতেই তিনি যুক্ত ছিলেন না।
মমর ভাষায়, ‘কাজ করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু নিয়মের জটিলতা, পুরোনো কাঠামোর বেড়াজাল, আর আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি সব মিলিয়ে নতুন কিছু করার কোনো সম্ভাবনা দেখিনি। তাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। অভিযোগ করার কিছু নেই, এটি আমাদের সিস্টেমের জটিলতা। আমি শুধু ফিরে এসেছি নিজের জায়গায়।’ অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমি এসেছিলাম রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে। ক্ষমতার কাছে গেলে অনেকের মুখোশ বদলে যায়। আমি চাইনি আমার চেহারাটা বদলে যাক। তাই ফিরে এলাম। এটিই সত্যি।’
উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের আশায় এবং সংস্কারের স্বপ্ন নিয়ে মম শুটিং ব্যস্ততা ফেলে যোগ দিয়েছিলেন অনুদান কমিটিতে। জুলাই বিপ্লবে চলচ্চিত্র শিল্পীদের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। বাস্তবের কাঠিন্য আর প্রশাসনিক জটিলতায় হতাশ হয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি।
একমাত্র মমই নন, এই কমিটি থেকে আরও দু’জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন–ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও নির্দেশক তিতাস জিয়া এবং নির্মাতা-সম্পাদক সামির আহমেদ। তারাও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
গত বছরের ৭ অক্টোবর সরকার ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি’ পুনর্গঠন করে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মো.
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: জ ক য় ব র মম চলচ চ ত র পদত য গ ক জ কর অন দ ন
এছাড়াও পড়ুন:
ডিআরইউর সভাপতি পদে সালেহ আকন, সা. সম্পাদক পদে সোহেল পুনর্নির্বাচিত
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মাইনুল হাসান সোহেল পুননির্বাচিত হয়েছেন।
আজ রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। পরে সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সভাপতি পদে নির্বাচিত দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান প্রতিবেদক আবু সালেহ আকন পেয়েছেন ৫০৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুরসালিন নোমানী পেয়েছেন ৪৩২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক ইনকিলাবের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নির্বাচিত মাইনুল হাসান সোহেল পেয়েছেন ৭৫২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মঈনুল আহসান পেয়েছেন ৪৮৯ ভোট।
নির্বাচিত অন্যরা হলেন সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদ সোহেল ও ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে আমিনুল হক ভূঁইয়া।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক মো. রাশিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তিরা হলেন মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন ও সুমন চৌধুরী।