ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দুপক্ষের সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা নিহত
Published: 5th, July 2025 GMT
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সোহরাব মিয়া নামে ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহরাব মিয়ার (২৮) বাড়ি চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামে। তিনি চাতলপাড়া ইউনিয়নের কাঠালকান্দি ওয়ার্ড (৯ নম্বর) ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের উল্টা গোষ্ঠী ও মোল্লা গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। উল্টা গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আছেন চাতলপাড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন। মোল্লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আছেন ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল আমিন। ৫ আগস্টের পর দলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজারের কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে দুই পক্ষের লোকজন চাতলপাড় বাজারে রামদা, ছুরি, টেঁটা, বল্লম, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে মোল্লা গোষ্ঠীর সোহরাব নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে উল্টা গোষ্ঠীর পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সোহরাবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উল্টা গোষ্ঠীর লালারপুট গ্রামের একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নেয়ামুল মিয়া (৪০), বাবুল মিয়া (৪৩) ও সুরাফ মিয়াকে (৫০) কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত অন্যদের কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.
মোল্লা গোষ্ঠীর পক্ষের মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার দুপুরে অতর্কিত তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের গোষ্ঠীর সোহরাব টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
উল্টা গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিন মাস আগেও তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সমীর চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, দুটি গোষ্ঠীতেই বিএনপি-যুবদলের নেতা–কর্মী রয়েছে। তবে দলীয় কোনো বিষয়ে সংঘর্ষ হয়নি। ছাত্রদলের নেতা নিহত হয়েছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ছ ত রদল র প রথম আল র স ঘর ষ য বদল র ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
ডিআরইউর সভাপতি পদে সালেহ আকন, সা. সম্পাদক পদে সোহেল পুনর্নির্বাচিত
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মাইনুল হাসান সোহেল পুননির্বাচিত হয়েছেন।
আজ রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। পরে সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সভাপতি পদে নির্বাচিত দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান প্রতিবেদক আবু সালেহ আকন পেয়েছেন ৫০৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুরসালিন নোমানী পেয়েছেন ৪৩২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক ইনকিলাবের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নির্বাচিত মাইনুল হাসান সোহেল পেয়েছেন ৭৫২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মঈনুল আহসান পেয়েছেন ৪৮৯ ভোট।
নির্বাচিত অন্যরা হলেন সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদ সোহেল ও ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে আমিনুল হক ভূঁইয়া।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক মো. রাশিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তিরা হলেন মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন ও সুমন চৌধুরী।