রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিতকরণ, হল ডাইনিংয়ে ভর্তুকি চালু, রাকসু নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’। আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করেন তাঁরা । একই সঙ্গে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর একটি শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা থাকলেও এক বছর পার হতে চললেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা উচ্চমূল্যে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে এবং মেস বা গণরুমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

ফুয়াদ রাতুল আরও বলেন, ‘প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। এই ৫ দফা দাবি আদায়যোগ্য এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবিগুলোর পক্ষে জনমত গঠন এবং প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করতেই ৭ দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকেও এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।’

পাঁচ দফা দাবির এক নম্বরে আছে নতুন হল নির্মাণ করে শতভাগ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সিট বণ্টনের অবৈধ প্রক্রিয়া বাতিল করে অধ্যাদেশ অনুযায়ী বয়োজ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে সিট প্রদান করতে হবে। প্রভোস্টের স্বাক্ষরের জন্য ধার্যকৃত ৫০ টাকার বিবিধ উন্নয়ন ফি বাতিল করতে হবে। ২ নম্বর দাবি হলো– বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে হল ডাইনিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। বর্তমান ক্যাটারিং ব্যবস্থা বন্ধ করে ভর্তুকি দিয়ে সব হলে পুষ্টিকর ও সুলভ মূল্যের খাবার চালু করতে হবে। তিন নম্বর দাবি– বধ্যভূমি থেকে হবিবুর রহমান হল পর্যন্ত এবং স্টেশন বাজার থেকে বিনোদপুর অভিমুখী দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবিলম্বে চলাচলের উপযোগী করে সংস্কার করতে হবে।

৪ নম্বর দাবি– বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উন্নতমানের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আর ৫ নম্বর দাবি হলো ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে অবিলম্বে শিক্ষার্থী সংসদ (রাকসু) নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সংঘটিত আগের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা, যেমন সাতটি হলে কোরআন পোড়ানো, শিক্ষকের বাসায় ককটেল হামলা এবং জোটের কর্মসূচিতে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার, ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ, বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলনের সংগঠক তারেক আশরাফ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সদস্য আল আশরাফ রাফি।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ন শ চ ত করত

এছাড়াও পড়ুন:

বন্দরের তবলা বাদক তিলক চৌধুরীর পরলোকগমণ

সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির তবলা বাদক ও বম্দর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য তিলক চৌধুরী (৫৫)।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বন্দর আমিন আবাসিক এলাকাস্থ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবানী শংকর রায়,বন্দর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু,কন্ঠশিল্পী নূরুল হক মান্নাহ,বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালকাভুক্ত শিল্পী আমজাদ হাসান,জি এম রহমান রনি,বাংলাদেশ টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পী গোলাম রসুল আজাদ,শিল্পী মেঃ শাহজামাল,মনসুর সাদেক আজাদ,মিনহাজ বাবু,সোহাগ রায়হান,চঞ্চল মাহমুদ,কণ্ঠশিল্পী সুরমি রায়,পুষ্পিতা সরকারসহ আরো অনেকে।

শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে তারা গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বলেন, তিলক চৌধুরী ছিলেন একজন গুণী যন্ত্রশিল্পী। তার আকস্মিক বিদায় আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। তার এ বিয়োগ কখনে পূরণ হবার নয়।

 আমরা গুণী এই শিল্পীর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসহ তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি একই সাথে পরপারে তার সদগতি কামনা করছি।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ