আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতও বিমার আওতায় আসবে
Published: 13th, October 2025 GMT
ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদেরও বিমার আওতায় আনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন হলে গ্রাহকেরা তাঁর আমানতের বিপরীতে দুই লাখ টাকা পাবেন। এ অর্থ তাঁদেরকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে।
ব্যাংকের আমানতকারীরা এখনই এই সুবিধার আওতায় এলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিদ্যমান আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্তরা ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে এই আইনের আওতায় তহবিলের সদস্য হবেন এবং ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দেবেন। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা আড়াই বছর পর এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এই সুবিধা কার্যকর হলে আর্থিক খাতের প্রায় ৯৩ শতাংশ আমানতকারী বিমার আওতায় চলে আসবেন। প্রতি তিন বছরে একবার এ সীমা পর্যালোচনা করা হবে।
এমন বিধান রেখে সরকার ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
জানা যায়, পুরোনো আইনে কোনো ব্যাংক বন্ধ হলে বিমার আওতায় গ্রাহকেরা পেতেন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা। এ অর্থ তাঁদের দেওয়ার বিধান ছিল ১৮০ দিনের মধ্যে। তবে ব্যাংক আমানত বিমা আইনে ব্যাংক–বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে গ্রাহকেরা কত ক্ষতিপূরণ পাবেন, তার কোনো উল্লেখ ছিল না। নতুন অধ্যাদেশে ব্যাংক–বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদেরও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ব্যাংকের গ্রাহকের মতো একই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) ভাইস চেয়ারম্যান ও অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান্তি কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা দ্রুত বিমার আওতায় এলে এই খাতের জন্য ভালো হয়। এতে সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে, যা পুরো খাতকে আবারও চাঙা করতে ভূমিকা রাখবে।
পৃথক তহবিল ও বিভাগ গঠন হবে
সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক) ও আমানত সুরক্ষা তহবিল (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নামে দুটি পৃথক তহবিল থাকবে। তহবিল দুটি পরস্পর বিনিয়োগযোগ্য হবে না এবং পরস্পরের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করতে পারবে না। তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড হবে। তবে তহবিলটি অন্যান্য তহবিল থেকে স্বতন্ত্র হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় ও সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তহবিল পরিচালনায় ‘আমানত সুরক্ষা বিভাগ’ নামে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য বিভাগ থেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র হবে।
অধ্যাদেশ জারির পর বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমানত সুরক্ষা তহবিলের সদস্য হিসেবে গণ্য হবে। কোনো নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলে সেটিও আইন অনুযায়ী তহবিলের সদস্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে লাইসেন্স প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম। বিদ্যমান আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্তরা ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে এই আইনের আওতায় তহবিলের সদস্য হবে এবং ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দেবে।
কার কত প্রিমিয়ার
নতুন অধ্যাদেশে প্রিমিয়াম হারের পরিমাণ হচ্ছে পরিশোধিত মূলধনের দশমিক ৫০ শতাংশ বা ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ। তবে এটি পরিশোধিত মূলধনের দশমিক ৫০ শতাংশের কম হবে না। সংশোধিত অধ্যাদেশে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। এ বিধানের আলোকে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াধীনে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া এ তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক মুনাফার চেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্র, বৈচিত্র্য ও তহবিলের তারল্য সংরক্ষণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: তহব ল র সদস য হ ব ম র আওত য় গ র হক র
এছাড়াও পড়ুন:
টানা তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতের আমির হিসেবে শপথ নিলেন শফিকুর রহমান
টানা তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নিয়েছেন শফিকুর রহমান। নতুন করে নির্বাচিত আমির হিসেবে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য শপথ নিয়েছেন তিনি।
আমির নির্বাচনের জন্য গঠিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে শপথপাঠ করান। জামায়াত আমিরের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন আর মেজরিটি এবং মাইনোরিটির কোনো সংঘাত আমরা আর দেখতে চাই না।’
উন্নত দেশগুলোতে মেজরিটি-মাইনোরিটি বলে কিছু নেই উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘তারা ইউনাইটেড নেশন, ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমাদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে এটি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে জাতিকে মুখোমুখি করে রাখা যায়। আমরা এটি মানি না, মানতে চাই না।’
এ সময় বিগত সরকার জামায়াত নেতাদের ওপর অন্যায়-জুলুম চালিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জেলখানা ছিল আমাদের প্রথম বাসস্থান। বারবার আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের কোনো অভিযোগ ছিল না। অভিযোগ একটাই যে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু সেই প্রতিবাদটাও আমরা স্বস্তির সঙ্গে করতে পারতাম না। আমাদের ওপর নানাবিধ অপশাসন, কালো আইন ও হুকুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শপথ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি নিজেকে এই দায়িত্বের জন্য মোটেও যোগ্য মনে করি না। এই মজলুম সংগঠনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের হাতে যে মানুষ তৈরি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আমার চেয়ে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সহকর্মী রয়েছেন। তারপরও আমি জানি না কেন সম্মানিত সদস্যবৃন্দ আমাকে তাঁদের এই আমানতের ভার দিয়েছেন।’
গত ৯ থেকে ২৫ অক্টোবর সদস্যদের গোপন ভোট গ্রহণের মাধ্যমে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদে জামায়াতের আমির নির্বাচন করা হয়। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ জন রুকন (শপথধারী সদস্য) ভোট দেন। সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো আমির নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান।
আজ ও আগামীকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।