দুর্নীতি মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না জ্যাকুলিন
Published: 5th, July 2025 GMT
প্রতারক সুকেশ চন্দ্র শেখরের ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলার জেরে অনেকটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজের জীবন। পুলিশি জেরা আর আদালতে চক্কর কাটতে কাটতে সময়টা হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তবু হাল ছাড়েননি এই বলিউড অভিনেত্রী। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। দুর্নীতি মামলা থেকে রেহাই পাবেন কিনা নতুন করে এই প্রশ্ন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, আদালত জ্যাকুলিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়ায়।
সংবাদ প্রতিদিনসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, সুকেশের মামলা থেকে মুক্তির জন্য কিছুদিন আগে জামিনের আবেদন করেছিলেন জ্যাকুলিন।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অনিশ দয়ালের বেঞ্চে ওই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেখানে অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন, সুকেশ চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে পাওয়া বিলাসবহুল উপহারের অবৈধ উৎস সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। জ্যাকুলিনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী সিদ্ধার্থ আগরওয়াল, প্রশান্তা পাটেল ও শক্তি পান্ডে আদালতে যুক্তি দেন।
আইনি দলটি জোর দিয়ে জানায়, অভিনেত্রী উপহারগুলো ব্যক্তিগত মনে করেছিলেন এবং তাঁকে কখনও জানানো হয়নি যে সেগুলো প্রতারণার মাধ্যমে কেনা। কিন্তু আইনজীবীদের যুক্তি-তর্কের পরও বৃহস্পতিবার ৩ জুলাই জ্যাকুলিনের সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
২০০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সুকেশ। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই আইনি জটিলতায় জড়াতে হয়েছে জ্যাকলিনকে। ইডি [ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট] আদালতে পেশ করা হলফনামায় জানিয়েছে যে, অভিনেত্রী সুকেশের থেকে ৫ কোটি ৭১ লক্ষ ১১ হাজার ৯৪২ টাকার শুধু উপহারই নেননি, সঙ্গে দুটি বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যা তাঁর ভাই ও বোনের, সেখানেও ১,৭২,৯১৩ মার্কিন ডলার ২৬,৭৪০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার স্থানান্তর করার জন্য অনুরোধ করেছিল।
অভিনেত্রী বারবার দাবি করেছেন, সুকেশের থেকে পাওয়া উপহারের আর্থিক উৎস সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানা ছিল না। সে কারণে তিনি উপহার নেন। কিন্তু ইডির দাবি, জেরার সময় সত্যতা গোপন করেছেন জ্যাকুলিন। অভিনেত্রী বারবার জানিয়েছিলেন ‘ঠগ’ সুকেশ চন্দ্রশেখর নাকি তাঁকে ফাঁসিয়েছে। তবে তা নিয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি।
ইডির তদন্তে আসা তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকুলিন জেনে বুঝেই সুকেশের অপরাধের টাকা ব্যবহার করেছেন। এমনকি, সুকেশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর জ্যাকুলিন নিজের ফোন থেকে সমস্ত তথ্য মুছে ফেলেছিলেন।
যদিও আদালতে সুকেশ আগেই দাবি করে, ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপ মামলায় জ্যাকুলিন কোনোভাবেই জড়িত নন। হোয়াটসঅ্যাপে ‘ঠগ’ সুকেশ আশ্বাস দিয়েছিল জ্যাকুলিনকে কোনো ঝঞ্ঝাটে পড়তে দেবে না সে। অথচ সেই বিপাকেই পড়তে হলো অভিনেত্রীকে।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
‘অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়তে হবে’
নারী ও কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা মোকাবিলায় কার্যকর আইন সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিস্তৃত ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে টেকসই করতে হলে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হবে। অনলাইন অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও শক্তিশালী করা, সাইবার তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
ইউএনওপস বাংলাদেশ, এটুআই, আইসিটি বিভাগ, বিআইআইএসএস এবং বাংলাদেশস্থ মালদ্বীপ হাইকমিশনের যৌথ আয়োজনের এই কর্মসূচি ‘নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে চলমান ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনের অংশ।
গোলটেবিল বৈঠকে সাইবারস্টকিং, অনলাইন হয়রানি, ডিপফেক, ছবি ও ভিডিও বিকৃতি এবং ইমেজবেইজড অ্যাবিউজসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সহিংসতার ঝুঁকি, ক্ষতি ও প্রতিকার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, আইনজীবী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত, সিভিল সোসাইটি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনওপস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধারণ বলেছেন, ডিজিটাল সহিংসতা শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। এটি উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবাধিকার—এই তিন অঙ্গনেই চ্যালেঞ্জ। তাই, সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করে এ সম্মিলিত প্রতিকার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
এটুআইএর প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রফিক বলেছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের জন্য সুযোগ ও উন্নতির এক বিরাট পরিসর তৈরি করেছে। তবে, এই পরিসর কখনোই ভয় বা সহিংসতার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে না। নারীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে আমরা সমতাভিত্তিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ কল্পনাও করতে পারি না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার এবং দপ্তর সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এএএম/রফিক