‘অনেকের আপত্তিতে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎ উৎসব স্থগিত, বাতিল নয়: চারুকলার ডিন
Published: 10th, October 2025 GMT
‘অনেকের আপত্তি’ ও ‘গন্ডগোলের আশঙ্কা’ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব’ আয়োজন স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। তবে বাতিল করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে এই অনুষ্ঠান হতে পারে বলে আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম।
অন্যদিকে আয়োজকদের একজন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী বলন, তাঁকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে অথচ আওয়ামী লীগের নাম–গন্ধে কোথাও কোনোদিন তিনি ছিলেন না।
১৯ বছর ধরে চারুকলায় এই ‘শরৎ উৎসব’ উদ্যাপিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিল সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। তাঁরা সব প্রস্তুতি শেষ করার পর হঠাৎ স্হগিত করা হয় বলে প্রথম আলোকে জানান মানজার চৌধুরী (সুইট)। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন এবং এর মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী একটি ‘বাজে ইঙ্গিত’ গেল বলে মনে করেন তিনি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতির বন্দনা করি। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত—এগুলোর সঙ্গে তো কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই অনুষ্ঠান করে আসছি। আর আমরা তো কোনো ভুঁইফোড় সংগঠনও না।’
তবে ছোট পরিসরে গেন্ডারিয়ার কচিকাঁচার মেলার মাঠে শরৎ উৎসব করা হচ্ছে বলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন। তিনি জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছে আগামীকাল।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি স্হগিত করা হয়েছে, বাতিল করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে উদ্যাপন করা হবে। আগামীকাল একটি মিটিং করে আমরা পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে অনেকের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এবং গন্ডগোলের ইঙ্গিত পেয়ে আমরা এটি সাময়িকভাবে স্থগিত করি। অনেক জায়গা থেকে ফোনে আপত্তি জানানো হয়েছে৷ অনেকে ফোনে বলেছেন, আমরা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অনুষ্ঠান করার সুযোগ দিচ্ছি, আমরা যদি এমনটা করি, তাহলে গন্ডগোল হবে। সেই জায়গা থেকে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প রথম আল ক অন ষ ঠ ন আপত ত
এছাড়াও পড়ুন:
বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম আসরের খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া ‘প্লেয়ার্স অকশন’ বা খেলোয়াড় নিলাম আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। ছয় ফ্রাঞ্চাইজিদের নিয়ে হবে বিপিএলের পরবর্তী আসরের খেলোয়াড় নিলাম।
এই প্রক্রিয়া আগে ছিল, প্লেয়ার্স ড্রাফট। প্লেয়ার্স ড্রাফট ছিল অনেকটাই ভাগ্যের পরীক্ষা। সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করতো ভাগ্যের ওপর। নতুন করে বিপিএল শুরুর অপেক্ষায় থাকা বিপিএলে তাই পুরোনো দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বাদ। ড্রাফট বাদ দিয়ে নিলামের মাধ্যমে দল গোছানোর সুযোগ পাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিরা। সেখানে অবশ্য নির্দিষ্ট সীমানা ঠিক করে দিয়েছে বিসিবি।
নিলামের আগে যা যা জানা প্রয়োজন এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক,
নিলাম কবে, কখন, কোথায়:
৩০ নভেম্বর, বিকেল ৪টা, হোটেল র্যাডিসন
নিলামে অংশগ্রহণ করবে কারা:
ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
নিলামে কত ক্রিকেটার
বিসিবির পাঠানো চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে জানা গেছে, নিলামে উঠবেন ১৪৭ স্থানীয় ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটার আছেন ২৬০ জন।
ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য
স্থানীয় ১৪৭ ও বিদেশি ২৬০ ক্রিকেটারের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি এবং আলাদা আলাদা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য পারিশ্রমিকের ছয়টি ক্যাটাগরি করেছে বোর্ড। এ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ৫০ লাখ। এরপর যথাক্রমে ৩৫, ২২, ১৮, ১৪ ও ১১ লাখ। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য পাঁচটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৩৫ হাজার ডলার। এরপর রয়েছে বি, সি, ডি এবং ই। পারিশ্রমিক যথাক্রমে ২৫, ২০, ১৫ ও ১০ হাজার ডলার।
কীভাবে হবে নিলাম
স্থানীয় ক্রিকেটারদের এ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকে মূল্য বাড়ানো যাবে ৫ লাখ টাকা। বি ক্যাটাগরির প্রতিটি ডাক মূল্য ৩ লাখ টাকা। এরপর সি ক্যাটাগরিতে ১ লাখ, ডি-ই-এফ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকের মূল্যা ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুসারে যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ১ হাজার ডলার।
সরাসরি চুক্তিতে স্থানীয় ক্রিকেটার
মেহেদী হাসান মিরাজ (সিলেট টাইটান্স), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স), মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর রাইডার্স), নুরুল হাসান সোহান (রংপুর রাইডার্স), তাসকিন আহমেদ (ঢাকা ক্যাপিটালস), সাইফ হাসান (ঢাকা ক্যাপিটালস), হাসান মাহমুদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), সৌম্য সরকার (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), শেখ মেহেদী হাসান (চট্টগ্রাম রয়্যালস), তানভীর ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) ও তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স)।
সরাসরি চুক্তিতে বিদেশি ক্রিকেটার
অ্যালেক্স হেলস (ঢাকা ক্যাপিটালস), উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস), আহমেদ আবরার (চিটাগং রয়্যালস), মোহাম্মদ নওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), খাজা নাফি (রংপুর রাইডার্স), শাফিয়ান মুকিম (রংপুর রাইডার্স), সাইম আইয়ুব (সিলেট টাইটান্স), মোহাম্মদ আমির (সিলেট টাইটান্স), কুশল মেন্ডিস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) ও জনসন চার্লস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস)।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্রয়সীমা
সর্বনিম্ন ১৪ জন স্থানীয় ক্রিকেটার ফ্রাঞ্চাইজিতে থাকতেই হবে। সর্বোচ্চ ১৬ জন স্থানীয় ক্রিকেটার রাখা হবে। সরাসরি সাইন করা বাদে দলগুলো স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য খরচ করতে পারবে সাড়ে চার কোটি টাকা। নিলাম থেকে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়কে কিনতেই হবে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা নিয়মও আছে। এ এবং বি ক্যাটাগরি থেকে ২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার থাকতেই হবে। সি এবং ডি ক্যাটাগরির খেলোয়াড় থাকতে হবে ৬ জন। ই এবং এফ ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় থাকতে হবে ৪ জন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য পৃথক নিময়
যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিদেশি ক্রিকেটার রেজিস্ট্রি করে বিপিএলে অংশ নিতে পারবে। নিলাম থেকে দলগুলোকে অন্তত ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে। সরাসরি সাইন করা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক মিলিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করতে পারবে।
পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশনা
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। মাঠে নামার আগেই ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা। আরো ৫০ শতাংশ টাকা পেয়ে যাবেন ফাইনাল লিগ খেলার আগে এবং বাকি ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন টুর্নামেন্ট শেষ হবার ৩০ দিনের মধ্যে।
পরবর্তী আসরের জন্য..
বিপিএলের পরের আসরে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা স্কোয়াড থেকে দুজন খেলোয়াড়কে রিটেইন করতে পারবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। নতুন করে যদি কোনো দল আসে তারা আগেভাগেই সরাসরি সাইনে দল বাছাই করতে পারবে।
নিলাম পরিচালনা করবেন
বিপিএলে নিলাম পরিচালনা করবেন রাফে নিজাম। এর আগেও তিনি বিপিএলে কাজ করেছেন।
ঢাকা/ইয়াসিন