যুব ও ছাত্রদলের ১৭ নেতাকর্মী কারাগারে
Published: 13th, July 2025 GMT
নাটোরের লালপুরে থানা হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের ১৭ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এ সময় চিপ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক আল-আমিন জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন– উপজেলা যুবদলের সদস্য শাকিবুল আলম সুলভ, মাইনুল ইসলাম বিপ্লব, গোপালপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা ভুবন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান বকির সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, সোহাস, মিল্টন, সুমন মেহেদী, সজীব, তানভীর, মালেক, আরিফ, চঞ্চল, লিটু, রাকিব ও বাপ্পি। ওই নেতাকর্মীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন।
নাটোর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, ৮ এপ্রিল লালপুরে প্রেপ্তারের পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল উদ্দিনকে থানা থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। এ ঘটনায় বাগাতিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার চৌধুরী বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে লালপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ১০০-১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। রোববার মেয়াদ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উপজেলা যুবদলের সদস্য শাকিবুল আলম সুলভ বলেন, এগুলো ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা। আমারা আইনিভাবে মোকাবিলা করব।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ছ ত রদল ছ ত রদল র উপজ ল য বদল
এছাড়াও পড়ুন:
বিব্রতকর পরাজয়ের সঙ্গে মিলল ‘‘ভুয়া, ভুয়া’ দুয়োধ্বনি
উইকেটে মাত্রই গিয়েছিলেন লিটন দাস। ঠিকঠাক থিতুও হতে পারেননি। আগেই অযাচিত শট খেলতে গেলেন। ঠিকঠাক টাইমিং মেলাতে পারেননি। ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাজঘরে।
গ্যালারিতে শোরগোল পড়ে যায়, ‘ভুয়া-ভুয়া-ভুয়া’ দুয়োধ্বনি। পরের ব্যাটসম্যান ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলও খেলে ফেলেন। কিন্তু দর্শকদের ক্ষোভ থামে না! শুধু অধিনায়ক লিটনের জন্যই না, তানজিদ, পারভেজ, সাইফ যারাই আয়ারল্যান্ডের দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মসমর্পণ করে ফিরেছেন প্রত্যেকের জন্যই দর্শকদের জবাব প্রস্তুত ছিল! এই মাঠে আগের তিন ম্যাচেই হেরেছে দল। নতুন শুরুতে আবার সেই পুরো ফল। দর্শকদেরই বা দোষ কোথায়!
আরো পড়ুন:
বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিল আয়ারল্যান্ড
টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
স্বাগতিকদের শুরুর হতশ্রী ব্যাটিং শুধুমাত্র আয়ারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হয়নি। চরম বাজে ব্যাটিং অ্যাপ্রোচও ছিল ক্রিকেটারদের। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বাউন্ডারি পেতে যদি ২৮ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে টি-টোয়েন্টি খেলার মূল্য কোথায়? অসহায় আত্মসমর্পণে বাংলাদেশ প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরেছে ৩৯ রানের ব্যবধানে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভালো করবে এই আশাতেই বুক বেঁধেছিল সমর্থকরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ব্যর্থতার জলে হাবুডুবু খেয়েছে গোটা দল। না হয়েছে বোলিং, না হয়েছে ব্যাটিংয়ে। ২২ গজে বাজে একটি দিন কাটিয়ে বিব্রতকর পরাজয়কে সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটাররা।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং ছিল দারুণ। প্রথম ওভারে অধিনায়ক পল স্টারর্লিং দুটি বাউন্ডারি পান। তৃতীয় ওভারে টিম টেক্টর পেসার শরিফুলের ওভারে চারটি বাউন্ডারি মারেন। তানজিম সাকিব বোলিংয়ে এসে ব্রেক থ্রু এনে দিলেও আয়ারল্যান্ড ১ উইকেটে ৪৮ রান তুলে নেয় পাওয়ার প্লে’তে।
শুরুর ঝড়ো ব্যাটিং পরে ধরে রাখেন টিম টেক্টর। ১৯ বলে ৩২ রান করেন তিনি। তাকে রিশাদ থামালেও হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফারের ৪৪ রানের জুটি আইরিশদের এগিয়ে নেয়। টেক্টর ছিলেন দারুণ। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তুলে নেন টি-টোয়েন্টির সপ্তম ফিফটি। ৪২ বলে করেন ৬৯ রান।
শেষ ওভারে তানজিম হাসানকে দুটি ছক্কা হাঁকান চোখের পলকে। ওই ওভারে ১৭ রান আসলে বাংলাদেশের মনোবলে কিছুটা ধাক্কা খায়। ৪১ রানে ২ উইকেট নিয়ে তানজিম ছিলেন দলের সেরা বোলার। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ছিলেন সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত। তবে উইকেট পাননি কোনো। শরিফুল ও রিশাদ পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
বাংলাদেশের শুরুর চার ব্যাটসম্যানের কেউ ডাবল ডিজিটে যেতে পারেননি। তানজিদ (২), পারভেজ (১), লিটন (১) ও সাইফ (১৩ বলে ৬) আউট হন। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলীর ব্যাটে প্রতিরোধ বাংলাদেশ। ৩৪ বলে ৪৮ রান আসে তাদের জুটিতে।
জাকের ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রান করে ফিরে আসলেও তাওহীদ হাল ছাড়েননি। তুলে নেন টি-টোয়েন্টির পঞ্চম ফিফটি। তানজিম (৫) ও নাসুম (০) দ্রুত আউট হলে তাওহীদ নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে নবম উইকেটে বাংলাদেশ পায় প্রতিরোধ। সেটা ম্যাচ জয়ের জন্য নয় অবশ্যই। পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার। শরিফুল ও তাওহীদ ৩১ বলে ৪৮ রান করেন। যেখানে শরিফুলের অবদান ১২। তাদের এই জুটিতেই দলের রান তিন অঙ্কে যায়। শেষ পর্যন্ত তাওহীদের একার লড়াইয়ে ১৪২ করতে পারে দল। ৫০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৩ রানে নটআউট তাওহীদ।
বাংলাদেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিজ ১৩ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন। ৩ উইকেট নেন ব্যারি ম্যাকার্থি। ২টি পেয়েছেন মার্ক আডায়ার।
যেখানে শেষ, সেখানেই শুরু। গত ৩১ অক্টোবর এই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। হারের যন্ত্রণা সইতে না পেরে সমর্থকরা পুরো দলকে ‘ভুয়া-ভুয়া’ দুয়ো দেন। ঠিক পরের ম্যাচেই আবার একই স্লোগানে মুখরিত চট্টগ্রামের গ্যালারি। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে, ম্যাচ হারের পর পর্যন্ত বারবার ভেসে এসেছে ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান।
২৯ নভেম্বর একই মাঠে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। সিরিজ বাঁচাতে পারবে কিনা বাংলাদেশ সেই প্রশ্নও উঠা শুরু হয়ে গেছে।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল