ফেনী জেলার ফুলগাজীসহ বিভিন্ন উপজেলায় মিলছে না খাওয়ার পানি। বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মের এই সময়ে দেখা দেয় ভয়াবহ পানির সংকট।
তপ্ত গরমে মানুষ যখন পানিতেই শান্তি পায়, ঠিক তখনই পর্যাপ্ত খাওয়ার পানি, রান্না, গোসল, অজুসহ যাবতীয় কাজে পানি পাচ্ছেন না এই অঞ্চলের মানুষ।
এতে স্থানীয় লোকজন খুবই ভোগান্তির শিকার হন। সাধারণত ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট গভীরতার টিউবওয়েলগুলোতে এই সমস্যা প্রবল। পাশাপাশি ৮০ থেকে ১০০ ফুট গভীরের টিউবওয়েলেও দেখা যাচ্ছে একই সমস্যা।
আবার অনেক ক্ষেত্রে কম গভীরতাসম্পন্ন টিউবওয়েলগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ থাকলেও তাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রনের উপস্থিতি; যা মানবদেহের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলে জনজীবনে বাড়বে আরও দুর্ভোগ। বিষয়টি গুরুত্বের নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সুমাইয়া তাবাচ্ছুম
আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা
ফুলগাজী, ফেনী
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
পথের পাশের টিউবওয়েলটি কত মানুষেরই না তৃষ্ণা মেটায়
কুষ্টিয়া শহর থেকে সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে বন্ধু ফারুকুর রহমান। শহর ছাড়িয়ে একটু খোলা প্রকৃতি দেখার ইচ্ছায় সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দিকে রওনা দিলাম।
দহকুলা গ্রাম পেরিয়ে সামনেই পেয়ে গেলাম বিস্তীর্ণ মাঠ। সড়কের দুপাশে পাকা ধানখেত। কৃষকেরা সোনালি ধান কাটায় ব্যস্ত। এই সময় ফারুকের ফোন বেজে উঠল, বাড়ি থেকে জানানো হলো ভূমিকম্প হয়েছে। আমার ফোনেও একই খবর। চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকায় ভূমিকম্পের কিছুই টের পাইনি।
ফোনে কথা বলতে বলতে চোখে পড়ল—চারদিকে জনবসতি নেই, শুধু মাঠ আর মাঠ। সেই নির্জনতার মাঝেই সড়কের এক মোড়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি বেলগাছ। গাছগুলোর সামনে একটি টিউবওয়েল। টিউবওয়েলের কাছেই গাছে বাঁধা রাবারের দড়িতে ঝুলছে প্লাস্টিকের ছোট কাপ। সেই কাপ টেনে টিউবওয়েলের কাছে এনে ফারুক পানি খেল।
ঠিক তখনই সড়ক ধরে এক ভ্যানচালক এসে থামলেন বেলগাছতলায়। তিনিও পানি খেলেন। জানালেন, সড়কের ধারে বড় গাছপালা নেই বললেই চলে। এই বেলগাছগুলো নাকি অযত্নেই বেড়ে ওঠা। দুই বছর আগে এলাকার এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মাঠে কাজ করা কৃষক আর পথচারীদের সুবিধার জন্য টিউবওয়েল বসান। দূরে মাঠে আরও কিছু টিউবওয়েল আছে কিন্তু দীর্ঘ দূরত্বের সড়কের পাশে এটি ছাড়া নেই।
বেলগাছগুলোতে পাখির আনাগোনা দেখা গেল। কয়েকটি পাখি উড়াল দিল, আবার ফিরেও এল। গাছ, টিউবওয়েল আর খোলা মাঠ—জায়গাটি যেন পথিকের জন্য বিরতিস্থান।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আমরা আবার রওনা দিলাম। সামনে নাজিরপুরের রাস্তা। পেছনে রয়ে গেল সাতটি বেলগাছ, টিউবওয়েল আর পথচলার সাধারণ কিন্তু দরকারি এক ব্যবস্থা, যা হয়তো প্রতিদিনই অনেক মানুষকে একটু থামতে শেখায়।