অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সঙ্গে জামায়াত প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
Published: 10th, September 2025 GMT
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাইকমিশনারের বাসভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পিআর পদ্ধতি ও গণতন্ত্রকে অর্থবহ করার ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া নারী অধিকার, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নারীর স্বাধীন বিচরণ সম্পর্কে জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা বিশেষ করে জ্বালানি ও পোশাকখাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা করেন বলেও দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিন্টন পোবকে, পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি আনা পিটারসনসহ ৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি ও ডা.
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রাজীব
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইন জুয়ার বিরোধেই নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তাকবির, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২
সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তরুণ তাকবির আহমেদ (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার পরদিনই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়।
পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবার গিয়ে নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি তাকবির আহমেদ।
ঘটনার পর তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মোঃ হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মোঃ রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়. মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে তারা।
পরদিন ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্য কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।