বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারে পুলিশের গুলিতে নিহত শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনের মরদেহ কবর থেকে তুলতে দেয়নি তার পরিবার। আজ মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো, আলী হাসান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন মরদেহটি তুলতে গেলে পরিবারের বাঁধার মুখে ফিরে যান। 

আজ দুপুরে শহীদ ইয়ামিনের মরদেহটি তুলতে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক টাউন কবরস্থানে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় ফরেনসিক বিভাগের লোকজন, সাভার মডেল থানা-পুলিশ, নিহতের স্বজন ও মামলার বাদী উপস্থিত ছিলেন। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত ইয়ামিনের মরদেহ কবর থেকে তুলতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা ও মামলার বাদী আপত্তি জানান। পরে ইয়ামিনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পুলিশের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন নিহতের স্বজনদের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মরদেহটি উত্তোলনের বিষয়টি অবহিত করেন এবং তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের নির্দেশ স্থগিত করে ইয়ামিনের মরদেহ না তুলে তারা চলে যান। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে শহীদ ইয়ামিনের মরদেহটি উত্তোলনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের বাঁধার কারণে মরদেহটি উত্তোলন না করেই চলে আসতে হয়েছে।’

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান বলেন, ‘শহীদ ইয়ামিনের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল করার জন্য আদালত থেকে আমাকে নিয়োগ করা হয়। সেই আলোকে আমরা সাভারে যাই। কবরস্থানে যাওয়ার পরে শহীদ ইয়ামিনের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি এবং মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনে অনিচ্ছুক থাকায় কার্যক্রমটি স্থগিত করা হয়েছে। তারা আমার কাছে একটি ফরমাল আবেদন দিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করেছেন, ইয়ামিন শহীদী মর্যাদা পেয়েছে বিধায় তারা লাশ উত্তোলনে অনিচ্ছুক। এ বিষয়টি আমরা আদালতকে অবহিত করব এবং পরে আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

গত ১৮ জুলাই দুপুরে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপরে উঠে গুলিতে শহীদ হন শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন। তিনি রাজধানীর মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় শহীদ ইয়ামিনের মামা আব্দুল্লাহ আল মুন কাবির বাদী হয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত কবর থেকে শহীদ ইয়ামিনের মরদেহটি উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: কবর থ ক পর ব র

এছাড়াও পড়ুন:

কবরস্থানে মাটি চাপা দেওয়া ছিল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ

নিখোঁজের ২১ দিন পর গোপালগঞ্জের একটি কবরস্থান থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার খাগাইল এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম মিজানুর রহমান মোল্লা (৪৮)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর এলাকার হারেজ মোল্লার ছেলে ও মুঠোফোন ব্যবসায়ী ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাহিদ মোল্লা। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা ও হারেজের ব্যবসায়িক অংশীদার।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ৮ নভেম্বর রাতে মুঠোফোনে কল করে মিজানুরকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলেন জাহিদ। মিজানুরকে ডেকে নেন জাহিদ। এর পর থেকে মিজানুরের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ওই কবরস্থান থেকে মিজানুরের গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের শনাক্তের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
মিজানুরের স্ত্রী জামিলা ইসলাম অভিযোগ করেন, ৮ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে মিজানুরকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে মুঠোফোনে ডেকে নেন তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার জাহিদ। এর পর থেকেই মিজানুর নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর ব্যবহৃত সব নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • কবরস্থানে মাটি চাপা দেওয়া ছিল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ