চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইটের আঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু
Published: 23rd, October 2025 GMT
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রতিবেশীর ইটের আঘাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূ রিপু আক্তার (৩০) বাঁশখালী পৌরসভার লস্কর পাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে প্রতিবেশীর হামলার শিকার হন। নিহত গৃহবধূর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিপু আক্তার গত মঙ্গলবার তাঁর বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। আজ সকালে রিপুর পরিবারের সঙ্গে জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিবেশী ফরিদ আহমদ ও তাঁর ছেলে শহিদ উল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা রিপুর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত রিপু আক্তারকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ হবধ
এছাড়াও পড়ুন:
বাগমারায় স্নাতকের শিক্ষার্থীকে ‘চিকিৎসক’ বানিয়ে চোখের অস্ত্রোপচারের চেষ্টা, বাবা-ছেলের দণ্ড
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অনুমোদনহীন একটি চক্ষু হাসপাতাল চালিয়ে পাঁচ রোগীর চোখে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এক পল্লিচিকিৎসক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করা তাঁর ছেলে। ঠিক এমন সময় সেখানে হাজির হয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে ওই রোগীদের উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাবাকে অর্থদণ্ড ও ছেলেকে দেওয়া হয় কারাদণ্ড।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ে আল মক্কা-মদিনা চক্ষু হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পরিচয় দিতেন উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন (৪৩)। এ ছাড়া তাঁর ছেলে ফায়সাল আহমেদ (২১) নিবন্ধিত চক্ষুবিশেষজ্ঞ পরিচয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করে আসছিলেন। গতকাল রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হেলাল উদ্দিনকে এক লাখ টাকার অর্থদণ্ড এবং ফায়সালকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হেলাল উদ্দিন একজন পল্লিচিকিৎসক এবং তাঁর ছেলে ফায়সাল উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্নাতকের শিক্ষার্থী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ে ‘আল মক্কা-মদিনা চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পাঁচ শয্যার একটি বেসরকারি হাসপাতাল চালু করেন হেলাল উদ্দিন। তবে হাসপাতাল পরিচালনার কোনো নিবন্ধন বা সরকারি অনুমতি ছিল না। ফায়সালের মাধ্যমেই অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল।
গতকাল বিকেলে ওই হাসপাতালে পাঁচ রোগীকে চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য জড়ো করা হয়। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাঁদের চোখে ড্রপও দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান চালান ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম। এ সময় অস্ত্রোপচার কক্ষেই পাওয়া যায় ওই পাঁচ রোগীকে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে কেউ কোনো নথি দেখাতে পারেননি।
অভিযানের সময় ফায়সাল আহমেদ নিজেকে চক্ষুবিশেষজ্ঞ পরিচয় দেন। তাঁর দেওয়া সনদ ও নিবন্ধন নম্বর অনলাইনে যাচাই করে দেখা যায়, সেটি আরেকজন চিকিৎসকের। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফায়সাল নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক বলে স্বীকার করেন। হাসপাতালের কোনো বৈধ নথি, চিকিৎসার মান, পরিবেশ কিংবা চিকিৎসক না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত ফায়সালকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তাঁর বাবা হেলাল উদ্দিনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড) দেন। অর্থ পরিশোধের পর হেলাল উদ্দিন মুক্তি পান। অন্যদিকে ফায়সালকে রাতেই কারাগারে পাঠানো হয়।
ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটিতে একজন ঝাড়ুদার ছাড়া আর কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসাকর্মী পাওয়া যায়নি। অন্য চিকিৎসকের নিবন্ধন ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের জন্য আনা পাঁচ রোগীকেও উদ্ধার করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।