রাজশাহীর বাগমারায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি ভিডিও পাঠিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গতকাল রোববার রাতে বাগমারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই গৃহবধূ।

ওই গৃহবধূর নাম স্বপ্না খাতুন। তিনি উপজেলার চানপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। হাফিজুর সৌদি আরবে কাজ করেন।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে ইমো অ্যাপে হাফিজুরের নম্বর থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্নার কাছে ভিডিও কল আসে। কলটি রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে স্বপ্নাকে একটি ভিডিও দেখানো হয়। এতে দেখানো হয়, হাফিজুরের হাতে হ্যান্ডকাপ আর ওই অবস্থায় তিনি কান্নাকাটি করছেন। একপর্যায়ে স্বপ্নাকে জানানো হয়, তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ। তাঁকে ছাড়াতে হলে এক্ষুনি ৫৫ হাজার টাকা পাঠাতে হবে; তা না হলে হাফিজুরকে কারাগারে পাঠানো হবে। পরে তাঁকে একটি মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাযুক্ত নম্বর দেওয়া হয়।

স্বজনদের পরামর্শে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন স্বপ্না। দুই দফায় তিনি ওই নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। এরপর দুপুরের দিকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হলে হাফিজুরের মুঠোফোন নম্বরে স্বপ্না সরাসরি কল দেন। বিস্তারিত জানালে হাফিজুর ধারণা করেন, কেউ তাঁর ইমো নম্বরটি হ্যাক করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

স্বপ্না খাতুন বলেন, হাফিজুর ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। ওই নম্বর থেকেই গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ জন্য তিনি সহজে বিশ্বাস করেছেন। তাঁকে যে ভিডিও দেখানো হয়েছে, তা তাঁর স্বামীরই বলে মনে হয়েছে।
হাফিজুরের ভাষ্য, হ্যাকাররা বাংলাদেশ থেকেই এ কাজ করেছে। তিনি সৌদি আরবে ভালো আছেন।

জিডির তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ভিডিওটি তৈরি করে ওই গৃহবধূকে দেখিয়ে প্রতারক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই প্রতারক চক্রের খোঁজ বের করার চেষ্টা চলছে।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

জিমেইলের জায়গা খালি করার ৫ কৌশল

জিমেইলের স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ ই–মেইল প্রাপকের কাছে না পৌঁছে ফিরে আসে বা জিমেইলের বেশ কিছু সুবিধা ঠিকমতো ব্যবহার করা যায় না। ফলে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে বিঘ্ন ঘটে। জিমেইলে নির্ধারিত স্টোরেজের চেয়ে বেশি জায়গা ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছে থেকে অর্থ নিয়ে থাকে গুগল। তবে অর্থ খরচ না করে সহজেই এ সমস্যার সমাধান করা যায়। জিমেইলের স্টোরেজ খালি করার পদ্ধতিগুলো জেনে নেওয়া যাক।

১. ট্র্যাশ ও স্প্যাম খালি করা

মুছে ফেলা ই–মেইলগুলো সঙ্গে সঙ্গে মুছে যায় না। ট্র্যাশ ফোল্ডারে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকে এবং এই সময়েও জিমেইলের জায়গা পূর্ণ থাকে। স্প্যাম ফোল্ডারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আর তাই নিয়মিত ট্র্যাশ ও স্প্যাম ফোল্ডারে থাকা ই–মেইলগুলো মুছে ফেলতে হবে।

২. বড় অ্যাটাচমেন্টযুক্ত ই–মেইল মুছে ফেলা

ই–মেইলের অ্যাটাচমেন্ট সাধারণত সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে। আর তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাটাচমেন্টযুক্ত ই–মেইলগুলো মুছে ফেলতে হবে। জিমেইলের সার্চ বক্সে has:attachment larger:10M লিখলেই ১০ মেগাবাইটের বেশি আকারের ই–মেইলগুলো দেখা যাবে।

৩. নিউজলেটার ও প্রমোশনাল ই–মেইলের নিবন্ধন বাতিল

প্রমোশনস ট্যাবে জমে থাকা অফার, বিজ্ঞাপন ও নিউজলেটার দ্রুত জায়গা দখল করে রাখে। আর তাই একই ধরনের বার্তা বেশি এলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ই–মেইল সাবস্ক্রিপশন সুবিধা আন সাবস্ক্রাইব করতে হরে।

৪. গুগল ওয়ান স্টোরেজ ম্যানেজার ব্যবহার

গুগল ওয়ানের স্টোরেজ ম্যানেজারে ই–মেইল, ড্রাইভ ও ফটোসের স্টোরেজ ব্যবহার এক জায়গায় দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করা অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো চিহ্নিত করে মুছে ফেলতে হবে।

৫. গুগল ড্রাইভ বা অন্যান্য ক্লাউডের লিংক ব্যবহার

বড় ছবি বা ভিডিও সরাসরি ই–মেইলে পাঠানোর বদলে গুগল ড্রাইভ বা অন্যান্য ক্লাউডের লিংক ব্যবহার করলে কম জায়গা দখল করে। আর তাই ছবি বা ভিডিওগুলো জিমেইলের বদলে ড্রাইভ বা অন্যান্য ক্লাউডের লিংকের মাধ্যমে আদান-প্রদান করতে হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ