ময়মনসিংহে ইউনিয়ন পরিষদের কাছের ঝোপ থেকে গভীর রাতে ককটেল উদ্ধার
Published: 17th, November 2025 GMT
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কাছে ঝোপ থেকে ককটেল ও পেট্রলবোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এসব বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় বিএনপির সমর্থক আবু বকর ছিদ্দিকের মুঠোফোনে অপরিচিত এক ব্যক্তি কল করে জানান, ৬ নম্বর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে দিতে বোমা রাখা হয়েছে। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
আরও পড়ুনমানিকগঞ্জে রাতে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ২২ ঘণ্টা আগেখবর পেয়ে পুলিশ ওই ইউপি কার্যালয়ের পেছনের ঝোপ থেকে ককটেল ও পেট্রলবোমা উদ্ধার করে। ককটেল ও পেট্রলবোমাগুলো একটি শপিং ব্যাগে ভরে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, ‘নাশকতা ঠেকাতে আমাদের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এ কারণে দুর্বৃত্তরা হয়তো বিস্ফোরকগুলো ওই ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে ফেলে যায়। শপিং ব্যাগের ভেতরে পাঁচটি ছোট-বড় ককটেল ও দুটি পেট্রলবোমা ছিল। মুঠোফোন নম্বরটি আমরা সংগ্রহ করেছি, কারা এই নাশকতার চেষ্টা করেছে, তা শনাক্তের চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুনগাজীপুরে গ্রামীণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের নামফলকে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ১ ঘণ্টা আগে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প ট রলব ম ককট ল ও উদ ধ র
এছাড়াও পড়ুন:
চিরচেনা ছবির হারানো নায়কেরা
শত্রুবাহিনীর শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারছেন এক কিশোর। তাঁর ডান পাশে রাইফেল তাক করে স্থির বসে আছেন আরও দুজন। তাঁদের বুকে তুষের মতো বদলা নেওয়ার আগুন। আর চোখে পরাধীন দেশকে মুক্ত করার প্রত্যয়। অসম সাহসী এই কিশোরদের পেছনে বিস্তীর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদ আর তার পেছনে বিশাল আকাশ। ডিসেম্বর মাস বলে ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা শুকিয়ে এসেছে। নদের ওপারে যে গ্রামটা, তা একটা রেখার মতো মিশে গেছে অসীমায়। এত এলিমেন্টের মধ্যেও কিন্তু ছবির মূল ফোকাস এই তিন কিশোর। তাঁরা যে ঝোপের আড়াল থেকে গ্রেনেড ছুড়ে মারছেন, তার ডান পাশে একটা বরুণগাছ। শত্রুপক্ষের পাল্টা আক্রমণ এলে এই গাছটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে লড়াইটা চালিয়ে যাবেন তাঁরা। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাঙালি মানসে এই দৃশটি একটি চিরচেনা আলোকচিত্র। বহু মাধ্যমে বহুল ব্যবহারের ফলে এই ছবির নির্মাতা যে নাইব উদ্দিন আহমেদ, তা অনেকেরই জানা। কিন্তু চিরচেনা এই ছবির নায়কদের কথা তেমন কেউ জানে না।
আমি বহুদিন ধরে চেষ্টা করছি এই ছবির নায়কদের খুঁজে বের করতে। অনেক বছর আগে কে যেন আমাকে বলেছিলেন, এই কিশোরদের বাড়ি টাঙ্গাইল অঞ্চলে এখন আর তাঁর নামটা মনে করতে পারি না। ৮ নভেম্বর রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারটা টুং করে বেজে উঠল। নির্মাতা শরীফ রেজা মাহমুদ লিখেছেন, ‘এই তিন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম আবদুল খালেক, আবদুল মজিদ ও মজিবর রহমান। তঁদের বাড়ির টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া গ্রামে।’ খালেক ও মজিদের ফোন নম্বর দিয়ে শরীফ জানালেন মজিবর মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। শরীফ এই তথ্যগুলো পেয়েছেন শেরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেহ মো. নূরুল ইসলাম হিরোর কাছে। শরীফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমি পেয়ে যাই এই ঐতিহাসিক ছবির হারানো নায়কদের।
ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে। ৩ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনী পাকিস্তানি হানাদারদের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল। ওই দিনই মিত্রবাহিনীর সঙ্গেই বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেন এই তিন বীর।মুক্তিযুদ্ধের সেই চিরচেনা ছবি [ময়মনসিংহ, ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১]। আলোকচিত্র: নাইব উদ্দিন আহমেদ