মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায়কে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীতে তার দৃশ্যমান কোনো প্রভাব পড়েনি। ঢাকার প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে সকাল থেকেই যানবাহন চলছে স্বাভাবিক নিয়মে।

সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রায়েরবাগ, শনিরআখড়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়- প্রাইভেটকার, সিএনজি, মোটরসাইকেল, আঞ্চলিক বাস স্বাভাবিক দিনের মতোই চলছে। দূরপাল্লার বাস কিছুটা কম হলেও শহরের ভেতরে চলাচল ছিল সাবলীল।

আরো পড়ুন:

রাজধানীর প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী এলাকায় গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক 

ঢাবি উপাচার্যের নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি, পাঠানো হচ্ছে রিকুয়েস্ট

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

রায়েরবাগ থেকে নিউ মার্কেট যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী কাইউম। তিনি বলেন, শাটডাউন নাকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ- রাস্তায় তো তার ছিটেফোঁটাও দেখলাম না। রাজনৈতিক পাগলামির কারণে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে চাইছে।

তারাবো পরিবহনে মতিঝিলগামী রাফি বলেন, মিডিয়াতে দেখলাম কোনো অরাজকতা হয়নি। রাস্তাঘাট পুরো স্বাভাবিক। তাহলে এই কর্মসূচির প্রয়োজন কী?

একই এলাকার যাত্রী আবুল কাসেম বলেন, মহাসড়কে পুলিশ আছে ঠিকই, কিন্তু শাটডাউনের মতো কোনো পরিস্থিতি তো দেখলাম না। সবাই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে।

পুলিশের বক্তব্য

রায়েরবাগে হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এলাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। তিনটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, পুরো পরিস্থিতি নজরদারিতে আছে। যান চলাচল স্বাভাবিক।

তিনি জানান, রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতা ঠেকাতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৯টি চেকপোস্ট, ২৭টি পিকেট ও ৪২টি মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। দিনে চার শতাধিক এবং রাতে সাড়ে চার শতাধিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।”

ওসি আরও বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।

ঢাকা/এএএম/ফিরোজ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আওয় ম ল গ

এছাড়াও পড়ুন:

মোহাম্মদপুরে জোড়া খুন: গৃহকর্মীকে আসামি করে মামলা

ঢাকার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “নিহতের স্বামী আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। ওই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি সরকারের গোয়েন্দারা কাজ করছে।” 

এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের ৭ম তলার ফ্ল্যাট থেকে লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের (১৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় নাফিসার বাবা আ জ ম আজিজুল ইসলাম কর্মস্থলে ছিলেন।

নিহতদের স্বজনরা জানান, গৃহকর্মী আয়েশা মাত্র চার দিন আগে কাজ শুরু করেছিলেন।

ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গৃহকর্মী আয়েশা সকালে বোরকা পরে বাসায় আসেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যান। লায়লা ফিরোজের শরীরে ৩০টির বেশি এবং নাফিসার গলায় ৪টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানায়।

পরে পুলিশ বাথরুম থেকে দুটি ধারালো অস্ত্র (চাইনিজ সুইচ গিয়ার ও একটি চাকু) উদ্ধার করে। ভবনের দারোয়ান খালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা/এমআর/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ