জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো.

শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় হলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুনজুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আজ ৭ ঘণ্টা আগেসাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: অপর ধ

এছাড়াও পড়ুন:

জাক্কুম গাছ: ‘তার ফল যেন শয়তানের মাথা’

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে জাহান্নামবাসীদের খাদ্য হিসেবে এক ভয়ংকর গাছের উল্লেখ করেছেন, যার নাম জাক্কুম।

এর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অর্থাৎ ‘এটা উত্তম আতিথেয়তা, নাকি জাক্কুমগাছ? নিশ্চয় আমি উহাকে জালেমদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। নিশ্চয় তা এমন এক গাছ, যা প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের তলদেশ থেকে উৎপন্ন হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ৬২-৬৫)

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ভয়ংকর চেহারার এক গাছের ফলই হলো কোরআনে বর্ণিত সেই জাক্কুম গাছ। এই ফলের আকৃতি মানুষের মাথার খুলির মতো হওয়ায় অনেকে একে শয়তানের মাথার সঙ্গে তুলনা করে প্রচার করছেন।

এই প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—সত্যিই কি এটি সেই জাক্কুমগাছ, আর কেনই বা এর ফলকে ‘শয়তানের মাথা’র মতো বলা হলো?

জাক্কুম গাছের বাস্তবতা: দুনিয়া নাকি আখেরাত

কোরআনে বর্ণিত এই জাক্কুম গাছকে নিয়ে ছবি প্রচার হওয়ার পর অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এই গাছের ছবি সত্য হলেও, একে আখেরাতের জাক্কুম মনে করার কোনো কারণ নেই।

সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শরিয়াহ অনুষদের সাবেক ডিন ড. সাউদ আল-ফুনায়সান স্পষ্ট করে বলেন, “জাক্কুমগাছের যে ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা বা ফটোশপ করা।

“এমনকি যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই ধরনের গাছ পৃথিবীতে সত্যি সত্যিই আছে, তবু অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুনিয়া ও আখেরাতের জিনিসের মধ্যে নামের মিল থাকা অস্বাভাবিক নয়।

পৃথিবীতে যেমন ‘দুধ’, ‘মধু’, ‘নদী’, ‘গাছপালা’ ইত্যাদি আছে, আখেরাতেও জান্নাতে একই নামের জিনিস থাকবে (যেমন জান্নাতের নহর), কিন্তু স্বাদ ও প্রকৃত স্বরূপের দিক দিয়ে দুটোর মধ্যে কোনো মিল থাকবে না। এটি কেবল নামের সাদৃশ্য। আখেরাতের জান্নাত বা জাহান্নামের বাস্তব রূপ মানুষের পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়।” (ইসলাম অনলাইন ডট নেট)

আরও পড়ুনগাছ লাগানো সদকায়ে জারিয়া০৬ নভেম্বর ২০২০সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘জাক্কুম’ গাছের ছবি

সম্পর্কিত নিবন্ধ