সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর
Published: 17th, November 2025 GMT
১০ কিলোমিটার দীর্ঘ আর ৩ কিলোমিটার চওড়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের নতুন চরটির নাম ডুবোচর। স্থানীয় মানুষেরা একে ডোবাচর বা ডুবাগা বলে। ডুবাগা শব্দের অর্থ—যে চর প্রবল জোয়ারে ডুবে যায়। চরটিতে এর আগে মাছ চাষের জন্যই কৃষকেরা ধানের আবাদ করতেন। এবার প্রথমবারের মতো ধানের ফলন কৃষকের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। মাছের পাশাপাশি ধান থেকেও ভালো আয়ের আশা করছেন তাঁরা।
গতকাল রোববার ডুবোচর ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি রঙের পাকা ধানের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। মাঠে কৃষকেরা ব্যস্ত ধান কাটতে। কেউ মাঠ থেকে ধান তুলে এনে স্তূপ সাজাচ্ছেন। কেউ কেউ ট্রাক্টরে ধান বোঝাইয়ে ব্যস্ত। কৃষকদের মতে, চরের প্রায় ৫০০ কানি (১৬০ শতকে ১ কানি) আবাদি জমিতে এ বছর ধান উঠবে অন্তত ৩০ হাজার মণ বা ১ হাজার ২০০ টন। কৃষকেরা যেটিকে বাম্পার ফলন বলে উল্লেখ করেছেন।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, ডোবাচরে এ বছরই প্রথম এত বেশি পরিমাণে চাষ হলো। গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে বাজিমাত হয়েছে বলেই এবার চাষ বেড়েছে বহুগুণে। আগামী মৌসুমগুলোতে চাষ উত্তরোত্তর বাড়বে বলেই তাঁদের ধারণা। আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি বিভাগের কোনো মাঠ কর্মকর্তার দেখা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে কৃষকের। সন্দ্বীপের কৃষি কর্মকর্তা মো.
কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। চরের মধ্যভাগে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন মো. নুরুল ইসলাম (৫৫)। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চরের চাষ এক হাজার কানি ছাড়িয়ে যাবে।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি।জমিতে বিছিয়ে রাখা ধানের ছড়া স্তূপ করছিলেন মো. নুর উদ্দিন (৫০)। নুর উদ্দিন এ বছর ১২ কানি জমিতে চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি ২০ কানি জমিতে আমন লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন। নুর উদ্দিন, নুরুল ইসলামদের মতো প্রায় সব চাষির আশা, তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বেশি আমনের চাষ করবেন।
ধানে আর মাছে সাফল্যডুবোচরে গিয়ে দেখা গেল, মাঠজুড়ে সোনালি ধান নিয়ে কৃষকের তৎপরতা। তবে কেবল ধান নিয়েই এখানে কৃষকের কারবার থেমে নেই। ধানের জমিতে মাছও চাষ করছেন। অনেক কৃষক মাছ চাষ করবেন বলে ধান লাগিয়েছিলেন। দুটিতেই এসেছে সাফল্য।
তালিম হোসেন পূর্বপুরুষের জমিতে ফিরে চাষ শুরু করেছেন। ১২ কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি। একই জমিতে মাছও ছেড়েছিলেন। এবার তিনি মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো। ভবিষ্যতে চাষ আরও বাড়াবেন। মাছের বিক্রিও বাড়বে বলে আশা তাঁর।
সন্দ্বীপের সবুজচর ও এই ডুবোচরের ধানি জমি থেকে আহরিত মাছের হাট নিয়ে ১১ অক্টোবর প্রথম আলোয় ‘মাছের জন্য ধান চাষ, দিনে কোটি টাকা আয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মাছে আর ধানে এখানকার কৃষকদের উপার্জন এখন তুঙ্গে।
ডুবোচরে ফলন বেশিজোয়ারের সঙ্গে ডুবোচরে পলি জমা হয় প্রতিবছর। আর এ কারণেই এখানকার জমি উর্বর। পাশের সবুজচর ও স্বর্ণদ্বীপের জমিতে এখন আর নতুন পলি জমে না। যত দিন পলি জমার সুযোগ পাবে, তত দিন উর্বরতা থাকবে অক্ষুণ্ন। ধানের ফলন যেমনি বেশি হবে, তেমনি মাছের আনাগোনাও থাকবে বেশি। এমন তথ্যই দিয়েছেন কৃষকেরা। তালিম হোসেন স্নাতক শেষ করে এখানে চাষে নেমে উপার্জন করছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, পলি জমতে পারে বলেই বাম্পার ফলন হচ্ছে আমনের। ক্রমে চর উঁচু হয়ে জোয়ারে ডুবে যাওয়া বন্ধ হবে। তখন মাছ আহরণ আর ধানের ফলনে ভাটা পড়বে।
আরও পড়ুনমাছের জন্য ধান চাষ, দিনে কোটি টাকা আয়১১ অক্টোবর ২০২৫পরিবহন আর শ্রমিকের সংকটপ্রায় সব কৃষকেরই দাবি, শ্রমিকের সংকটের কারণে ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। পাশের সবুজচরের প্রায় চার হাজার কানি জমি থেকেও এই সময়ে আমন ঘরে তোলা হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে ডুবোচরে ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না। কয়েক হাজার কৃষিশ্রমিকের দরকার পড়লেও শ্রমিক মিলছে না। অন্যদিকে রয়েছে যাতায়াত আর পরিবহনের সংকটও। সন্দ্বীপের জনবসতি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের এই চরে নেই রাস্তাঘাট। জমি চাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টরে করে ঘরে তুলতে হয় ধান।
মো. মোস্তফা (৬২) নামের এক কৃষক বলেন, ‘ট্রাক্টরগুলো বারবার চলাচল করে রাস্তা বানিয়ে নিচ্ছে। এগুলোই আমাদের ভরসা। ধান তাড়াতাড়ি ঘরে তুলতে না পারলে লঘুচাপ বা নিম্নচাপে জোয়ারে ভেসে যাওয়ার বা বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে।
ডুবোচরের আমন ফলন তাক লাগিয়েছে সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কৃষকদের। সন্দ্বীপ শহর বা উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে জেগে ওঠা নতুন ভূমি এই ডুবোচর। গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়া সন্দ্বীপের বাটাজোড়া, কাটগড়, হুদ্রাখালী ইউনিয়নের অংশ নিয়ে জেগে উঠেছে এই চর। এখানকার সাবেক বাসিন্দারাই এই চরে আমন চাষে নেমেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই প্রায় অর্ধশত বছর ধরে ছিলেন সন্দ্বীপের বাইরে। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় অনেকেই এখন এই ডুবোচরে এসে বসতঘর তৈরি করছেন। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে শুরু করেছেন বসবাস। সেখানকার ধানের জমির আল ধরে হাঁটতে গেলে পায়ের সঙ্গে ধানের ছোঁয়ায় ঝনঝন করা মধুর শব্দ প্রাণ ভরিয়ে দেয়।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব ম প র ফলন সন দ ব প র ধ ন র ফলন চ ষ কর কর ছ ন ড ব চর আমন র প রথম করছ ন ন হওয়
এছাড়াও পড়ুন:
ফিরেই ভক্তদের ঘুম উড়ালেন কিয়ারা
ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরবর্তী পাঁচ মাস পর্যন্ত শুটিং করেন এই অভিনেত্রী। প্রথম সন্তানের মা হয়েছেন তা-ও কেটে গেছে আরো পাঁচ মাস। মা হওয়ার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখা দিলেন এই অভিনেত্রী। আর তার আবেদনময়ী উপস্থিতিতে ঘুম উড়েছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে কিয়ারার তার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে চিরচেনা অঙ্গনে ফেরার আভাস দেন। ক্যাপশনে লিখেন—“পরবর্তী অধ্যায় আরো আগুন হবে। কাজটা করেই ফেলি।” তারপর থেকে অপেক্ষায় ছিলেন তার ভক্তরা। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া আভাস বাস্তবে রূপ নেয়। মুম্বাইয়ের একটি শুটিং সেটে আবেদনময়ী রূপে হাজির হয়ে তাক লাগিয়ে দেন এই অভিনেত্রী। এ মুহূর্তের ভিডিও এখন অন্তর্জালে ভাইরাল।
আরো পড়ুন:
ধুরন্ধর ঝড়: কে কত টাকা পারিশ্রমিক নিলেন?
নেহার নাচকে কেন ‘অশ্লীল’ বলছেন নেটিজেনরা?
এ ভিডিওতে দেখা যায়, মাতৃত্বের পর ওজন ঝরিয়ে একেবারে ছিপছিপে গড়নে ফিরেছেন কিয়ারা। তার পরনে কাঁধখোলা ডেনিম শার্ট আর শর্টসে কিয়ারার চেহারা যেন মাতৃত্বের লাবণ্যে পরিপূর্ণ। অভিনেত্রীর এমন লুকই এখন আলোচনার বিষয়ে রূপ নিয়েছে। ভূয়সী প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা।
একজন লেখেন, “সেক্সি মাম্মি, উফফ! সে নারীত্বকে আলিঙ্গন করেছে।” আরেকজন লেখেন, “সে এখন আরো বেশি আবেদনময়ী।” অক্ষয় লেখেন, “দেখতে চমৎকার লাগছে।” নীতেশ লেখেন, “বাহ, ওকে সত্যিই বিশ্ব সুন্দরীর মতো লাগছে।” শালিনি লেখেন, “উফফফ, এত সুন্দর মামি!” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে নেট দুনিয়ায়।
তবে কোনো সিনেমার শুটিং দিয়ে নিজ ভুবনে ফিরেননি কিয়ারা আদভানি। গতকাল একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করেন এই অভিনেত্রী।
কিয়ারা আদভানি ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্ড়ে ঘর বেঁধেছেন। ‘শেরশাহ’ সিনেমার শুটিং সেট থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা। এরপর এ জুটির প্রেম-বিয়ে নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমীরে সাতপাকে বাঁধা পড়েন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যৌথ এক বিবৃতিতে বাবা-মা হতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। গত ১৫ জুলাই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন কিয়ারা।
ঢাকা/শান্ত