নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী ও কবিরহাট উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মেঘনা গ্রুপের এক কর্মকর্তাসহ দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তি হলেন মেঘনা গ্রুপের (ফ্রেশ) আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম ছারওয়ার (৪৫)। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার আবদুস সাত্তার মণ্ডলের ছেলে। নিহত অপরজন হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিরাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হায়দার (৫২)।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টার দিকে শহরের পশ্চিম মাইজদী এলাকায় মাইজদী-রাজগঞ্জ-ছয়ানী সড়কের নাহার কটেজের মোড়ে মোটরসাইকেল আরোহী মেঘনা গ্রুপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম ছারওয়ারকে পেছন থেকে চাপা দেয় একটি পণ্যবাহী গাড়ি। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ওই গাড়ির পেছনের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে সুধারাম থানার পুলিশ গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে এবং গাড়িটি আটক করে।

সুধারাম থানার উপরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সড়কের মোড় ঘুরতে গিয়ে সম্ভবত পণ্যবাহী গাড়িটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়েছে। এতে মোটরসাইকেল থেকে আরোহী গোলাম ছারওয়ার ছিটকে গাড়ির পেছনের চাকার নিচে পড়ে যান। গাড়িটি আটক করা হয়েছে। চালক পালিয়ে গেছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অপর দিকে আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কবিরহাটের গ্রামের বাড়ি থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস করানোর জন্য জেলা শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যাচ্ছিলেন বেলাল হায়দার (৫২) নামের এক ব্যক্তি। পথে সুন্দলপুর ইউনিয়নের হাতাইল্লা পোল নামের স্থানে বিপরীত দিক হতে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে বেলালকে বহনকারী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের পর বেলাল হায়দারকে জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত হন বেলালের স্ত্রী, অটোরিকশার চালক, প্রাইভেট কারের চালক, আরোহীসহ কমপক্ষে আরও পাঁচজন। তাঁরা জেলা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.

শাহিন মিয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে কবিরহাট থানার পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত ব্যক্তির লাশ পরিবার বাড়িতে নিয়ে গেছে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: দ র ঘটন ঘটন য়

এছাড়াও পড়ুন:

জকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করানো হচ্ছে। 

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) প্রথম দিনের মতো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে (নতুন ভবন, ২০৪ নম্বর কক্ষ) টেস্ট হয়। এ সময় চিকিৎসকদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। 

আগামীকালও এ পরীক্ষা করা যাবে। ডোপ টেস্টের খরচ বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে গতকাল জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জকসু নির্বাচনি আচরণবিধির ৩ নম্বর শর্ত অনুযায়ী ডোপ টেস্টে অংশ না নিলে প্রার্থীর প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। টেস্টের সময় প্রার্থীদের পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।

৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শেষে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিলে বলা হয়, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ ও ১২ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ ডিসেম্বর। প্রার্থীরা ১৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। ভোট গ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচনের আয়োজন করে প্রশাসন।

ঢাকা/লিমন/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ