চুমু খেয়ে প্রেম-বাগদানের গুঞ্জন উসকে দিলেন হুমা-রচিত
Published: 17th, November 2025 GMT
অনেক দিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে, অভিনয় প্রশিক্ষক রচিত সিংয়ের সঙ্গে প্রেম করছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। যদিও তারা এ সম্পর্কের কথা কখনো স্বীকার করেননি। গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে জানা যায়, দীর্ঘ দিনের কথিত প্রেমিক রচিতের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন করেছেন হুমা কুরেশি।
এরপর বাগদান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়; তবে মুখে কুলুপ আঁটেন হুমা-রচিত। এর কিছুদিন পর বম্বে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে হুমা কুরেশি বলেন, “আমি কেন এই গুঞ্জন নিয়ে কথা বলব?” কেবল তাই নয়, এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।
আরো পড়ুন:
কঙ্কনার সঙ্গে বিচ্ছেদ ও সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন রণবীর
কৃত্রিম ব্রেস্ট অপসারণ: শার্লিন বললেন, প্রজাপতির মতো লাগছে
এর কিছুদিন পর একাধিক অনুষ্ঠানে হাতে হাত রেখে উপস্থিত হতে দেখা যায় হুমা কুরেশি ও রচিতকে। এবার পাবলিক প্লেসে হুমা কুরেশিকে চুমু খেয়ে প্রেম-বাগদানের গুঞ্জন উসকে দিলেন এই জুটি। এ মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপ এখন অন্তর্জালে ভাইরাল।
এ ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন হুমা কুরেশি ও রচিত। হুমার পরনে ডেনিমের পোশাক। রচিতের সঙ্গে কথা বলছেন, হাসছেন হুমা। একপর্যায়ে হুমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং চুম্বন করেন রচিত। তাদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দঘন মুহূর্ত দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। কেবল তাই নয়, দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতেও ভুল করছেন না তারা।
দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের এমএমআরডিএ গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ‘মাইগ্ল্যাম ফেস্ট-২০২৫’। এতে পারফর্ম করেন সংগীতশিল্পী হিমেশ রেশমিয়া। এই কনসার্টে যোগ দেন হুমা কুরেশি ও রচিত। সেখানে এ জুটিকে প্রেমে ডুবে থাকতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন—ফাতিমা সানা শেখ, মনোয়ার, সানিয়া মালহোত্রা প্রমুখ।
এর আগে বম্বে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাগদানের গুঞ্জন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমা কুরেশি। এ অভিনেত্রী বলেছিলেন, “এ বিষয়ে আমি কী বলতে পারি? মানুষের হাতে অনেক সময়। এটা নিশ্চিত, সঠিক সময় এলে আমি নিজের মুখেই ঘোষণা করব। কিন্তু আমি বলার আগেই মানুষ নিজেরাই ধরে নেয় এবং ঘোষণা করে ফেলে। যখন সেটা সত্যিই ঘটবে, তখন সবাই জেনে যাবে। আমি কেন গুঞ্জনের সমাপ্তি টানব? আমি তো এটা ছড়াইনি…। কেউ এটা পরিকল্পনা অনুযায়ী করেছে। আমার বিয়ে হলে সবাই জানবে।”
এর আগে হুমা-রচিতের ঘনিষ্ঠজন হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছিলেন, “হুমা তার দীর্ঘ দিনের প্রেমিক, অভিনয় প্রশিক্ষক রচিত সিংয়ের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন করেছেন।”
রচিত সিংহ একজন নামকরা অভিনয় প্রশিক্ষক। ‘রচিত সিং ওয়ার্কশপ’ নামে তার নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি কর্মশালা পরিচালনা করেছেন রচিত। তার কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন—গুলশন দেবাইয়া, ইমাদ শাহ, কুণাল কাপুর, পূজা হেগডে, হর্ষবর্ধন রানে, অমৃতা সুবাস, সহানা গোস্বামী, অহনা কুমারা, রণবীর সিং, বরুণ ধাওয়ান, ভিকি কৌশল, আনুশকা শর্মা, অনীত পড্ডা, শানায়া কাপুরের মতো অভিনয়শিল্পীরা।
এর আগে পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার মুদাসসার আজিজের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। দীর্ঘ ৩ বছর সম্পর্কে ছিলেন তারা। ২০২২ সালের শেষের দিকে জানা যায়, ভেঙে গেছে এই সম্পর্ক।
ঢাকা/শান্ত
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চলচ চ ত র গ ঞ জন কর ছ ন
এছাড়াও পড়ুন:
গাজীপুরে ফুটল ফুটি কার্পাস: খুলছে মসলিন পুনরুদ্ধারে সম্ভাবনার দ্বার
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধন খামারে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ফুটি কার্পাস গাছ। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া এই গাছের পুনরায় বিকাশ বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। মসলিন কাপড় তৈরিতে যে সূক্ষ্ম সুতার প্রয়োজন হয়, তার মূল উৎস ছিল এই ফুটি কার্পাসের তুলা।
প্রাচীন রোমান সাহিত্যিক পেট্রোনিয়াস মসলিনকে বলেছিলেন ‘হাওয়ায় বোনা কাপড়’। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের চোখে এটি ছিল ‘ভোরের কুয়াশায় বোনা এক বিস্ময়‘। সেই অতুলনীয় কাপড়ের মূলে যে তুলার জাদু লুকিয়ে ছিল, তা পুনরুদ্ধার হয়েছে শ্রীপুরের গবেষণা খামারে।
বিজ্ঞানলেখক আবদুল গাফফার রনির মাধ্যমে ফুটি কার্পাসের উপস্থিতির তথ্য ছড়িয়ে পড়লে গবেষকরা জানতে পারেন, কৃষক তাজউদ্দিনের বাড়ি ছাড়াও শ্রীপুরের সরকারি গবেষণা খামারেই চলছে চারটি ভিন্ন জাতের চাষ।
কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া, দিনাজপুর, বাগেরহাট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম—এই চার অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা চার জাতের ১৬০টি চারা গত বছরের ২৯ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে খামারে রোপণ করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে গাছগুলো মানুষের উচ্চতার দ্বিগুণ হয়ে ক্ষুদ্র বৃক্ষের আকার ধারণ করেছে। সকালে ফ্যাকাশে হলুদ আর দুপুরে গোলাপি রঙে রূপ বদলানো ফুল, শক্ত বাকল এবং তুলাভরা গুটি গবেষকদের উৎসাহ আরো বাড়িয়েছে।
কিছু গাছ বছরে দুই বার ফুল দেয় বলেও জানিয়েছেন ওয়াহাব। তার ভাষায়—“ফুটি কার্পাস প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এর আঁশ খাটো হলেও অতি সূক্ষ্ম, উজ্জ্বল ও টেকসই, যা মসলিন তৈরির জন্য একেবারে আদর্শ।”
একসময় মেঘনা-শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষা অঞ্চলে এই গাছের ব্যাপক বিস্তার ছিল। এমনকি গাজীপুরের কাপাসিয়া নামটিও এসেছে ‘কার্পাস’ বা তুলা থেকে। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে এই গাছ বিলুপ্তির মুখে পড়লে তাঁত বোর্ডের মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্প বড় বাধার সম্মুখীন হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালিয়ে রাঙামাটি ও কাপাসিয়া থেকে মোট ৩৮টি ফুটি কার্পাস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা বর্তমানে গবেষণার আওতায় পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।
তুলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা আ ন ম জহির উদ্দিন বলেছেন, “সংরক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে ফুটি কার্পাস আবারও কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হতে পারে। ভবিষ্যতে এর বাণিজ্যিক চাষের পথও খুলে যেতে পারে।”
এই বিরল গাছের পুনর্জাগরণে শ্রীপুরের তুলা গবেষণা খামার এখন ঐতিহ্যপ্রেমী, গবেষক ও তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বাংলার হারানো মসলিনের জৌলুস ফিরিয়ে আনার পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, এমনটাই মত গবেষকদের।
ঢাকা/রফিক