সঞ্চয়পত্র বিক্রিসহ ৫ সেবা দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক
Published: 17th, November 2025 GMT
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে আর পাঁচ ধরনের সেবা দেওয়া হবে না। সেগুলো হলো— সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রি, গ্রাহক পর্যায়ে ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল, সরকারি চালান সেবা এবং চালান-সংক্রান্ত ভাংতি টাকা দেওয়া। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে এসব সেবা বন্ধ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে উল্লিখিত সেবাগুলো পাবেন গ্রাহকরা। ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের এসব সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি বাড়াবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভর্নর ড.
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ও ২২ সেপ্টেম্বর করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। বৈঠকে আগেও দুজন গভর্নর গ্রাহক-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সেবা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে আলোচনা হয়। ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে এসব সেবা দেয়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়াবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের এসব বিষয়ে অবহিত করতে শিগগিরই প্রচারণা চালানো হবে। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়কে এসব সিদ্ধান্তের বিষয় জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় আধুনিকায়ন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্বলিত ভল্ট স্থাপন এবং মূল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সম্প্রতি কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের ব্যাংক পাঁচ ধরনের সেবা দেওয়া ১২ কাউন্টার ৩০ নভেম্বরের পর বন্ধ হয়ে যাবে।
আগামী ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে নগদ টাকায় সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড কেনা-বেচা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে ট্রেজারি চালানও জমা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ভাংতি টাকা এবং ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে, ১৬টি কাউন্টারে কিছু সেবা মিলবে। সেগুলো হলো—ধাতব মুদ্রা বিনিময়, স্মারক মুদ্রা বিক্রি, অপ্রচলিত নোটের বিরোধ নিষ্পত্তি ও ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন ইত্যাদি। এসব সেবাও ভবিষ্যতে কীভাবে বন্ধ হবে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য বিভাগীয় কার্যালয়কে এসব সেবা ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা/নাজমুল/রফিক
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ধরন র স ব এসব স ব মত ঝ ল
এছাড়াও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা মারা গেলে কীভাবে টাকা পাবেন
সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা মারা গেলে কী হবে—এই প্রশ্ন প্রায়ই আসে। মৃত ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রের টাকা ও মুনাফা কে পাবেন—এ কথাও হয়।
উত্তর সহজ—মৃত ব্যক্তির নমিনি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা পুরো টাকা পাবেন। এমনকি প্রতি মাসের মুনাফাও তুলতে পারবেন।
এবার দেখা যাক, সঞ্চয়পত্র ক্রেতার মৃত্যুতে নতুন পদ্ধতিতে ক্রয় করা সঞ্চয়পত্রের টাকা নমিনি কীভাবে উত্তোলন করতে পারবেন।
এ জন্য নমিনি সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করবেন। শুধু আবেদন করলেই হবে না, কিছু কাগজপত্রও দিতে হবে আবেদনপত্রের সঙ্গে।
কী কাগজপত্র লাগে১. সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ক্রেতার মৃত্যুসনদ
২. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেডিকেল থেকে প্রাপ্ত ক্রেতার মৃত্যুসনদ
৩. নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
৪. নমিনির ২ কপি ছবি
৫. নমিনির নাগরিকত্ব সনদের কপি
৬. নমিনির স্বাক্ষর সত্যায়নের কপি
৭. নমিনির ব্যাংক হিসাবের এমআইসিআর চেক পাতার কপি
মৃত্যুর পর সঞ্চয়পত্র চালু রাখা যায় কি?
ক্রেতার মৃত্যুর পর পুরো টাকা না তুলে নমিনি চাইলে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ চালু রাখতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা চালু রাখতে পারবেন তিনি। চলতি মেয়াদ শেষ হলে মূল নগদায়ন করে নমিনি বিধি মোতাবেক নিজ নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
নতুন নমিনি যুক্ত নয়ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি সঞ্চয়পত্রের মালিকানা লাভ করে নতুন নমিনি নিযুক্ত করতে পারবেন না। তবে মূল নগদায়ন করে নিজ নামে ক্রয়ের মাধ্যমে পছন্দ অনুযায়ী নমিনি নিযুক্ত করতে পারবেন।
ক্রেতা ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে কী হবেএ ক্ষেত্রে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ক্রেতার উত্তরাধিকারীরা সঞ্চয়পত্রের মালিকানা লাভ করবেন।
কত ধরনের সঞ্চয়পত্র আছেবর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এগুলো হলো—পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে।
একেক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার একেক রকম। মেয়াদপূর্তির এই হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
মেয়াদ পূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙলে মুনাফা কমে যায়। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মেয়াদ পূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র না ভাঙাই ভালো।
একক নামের পাশাপাশি যৌথ নামেও সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ আছে।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা সবচেয়ে নিরাপদ। সুদের হারও বেশ ভালো। মধ্যবিত্তের সবচেয়ে নিরাপদ সঞ্চয়মাধ্যম হলো সঞ্চয়পত্র। এমন চিন্তা থেকে অনেকেই সঞ্চয়পত্র কেনেন।