রুনা লায়লার জন্মদিন: সংগীতজীবনের বর্ণময় ৬ দশকের উদ্যাপন
Published: 17th, November 2025 GMT
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ৭৩ বছর পূর্ণ করলেন। একইসঙ্গে পূর্ণ করলেন তার গৌরবময় সংগীত-জীবনের ৬০ বছর। উপমহাদেশের তিন দেশ—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সমানতালে গান গেয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন রুনা লায়লা। ১৮টি ভাষায় তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। ফলে তিনি যে উপমহাদেশের শীর্ষ সংগীতশিল্পীদের একজন—এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশের বাংলা গানকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে তার অবদান অনন্য। দেশ-বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অগণিত স্বীকৃতির মাঝে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ তার অর্জনকে আরো মহিমান্বিত করেছে।
আরো পড়ুন:
কনসার্টে গায়ক একনের পরনের প্যান্ট নিয়ে টানাটানি
চতুর্থ সন্তানের মা হলেন কার্ডি বি
ভক্তদের কাছে রুনা লায়লার এবারের জন্মদিনটি বিশেষ। কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় মৌসুমের শেষ গানটি প্রকাশ পেয়েছে তার গাওয়া জনপ্রিয় সুফি কাওয়ালি ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ দিয়ে—যে গানটি বহু বছর আগে তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছিল।
তবে জন্মদিন নিয়ে শিল্পীর বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, পরিবারকে সময় দিয়েই কাটাবেন দিনটি। ঘরোয়া পরিবেশেই উদ্যাপিত হবে জন্মদিন।
১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। সংগীতজীবনের শুরু ষাটের দশকের শেষ দিকে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে। শিল্পী আহমেদ রুশদির গায়কিতে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগীতাঙ্গনে পথচলা শুরু করা এই কণ্ঠশিল্পী দ্রুতই উর্দুভাষী শ্রোতাদের মন জয় করে নেন। ‘উনকি নজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গাম মিলা’—এর মতো গান তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
এরপর ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে তার কণ্ঠের জাদু। ‘ও মেরা বাবু ছৈল ছাবিলা’ তাকে পরিচিত করে তোলে সাদাকালো যুগেই। পরে সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর সঙ্গে ‘ডিস্কো দিওয়ানে’ (১৯৮২) অ্যালবাম তাকে বিশ্বব্যাপী নতুন আরেক পরিচিতির শিখরে পৌঁছে দেয়।
যদিও তিন দেশে সাফল্য পেয়েছেন, রুনা লায়লার সংগীতজীবনের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশ। ‘দ্য রেইন’ (১৯৭৬), ‘জাদুর বাঁশি’ (১৯৭৭), ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ (১৯৮৯), ‘অন্তরে অন্তরে’ (১৯৯৪)—সহ মোট সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ গায়িকা নির্বাচিত হয়েছেন। ‘সাধের লাউ বানাইলা মোরে বৈরাগী’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িতে গেলাম’—এর মতো বাংলা লোকগান তার কণ্ঠে নতুন প্রাণ পেয়েছে।
দীর্ঘ ও সফল এই যাত্রায় মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি—এ কথা প্রায়ই উল্লেখ করেন রুনা লায়লা। তিনি বলেন, “মা আমাকে প্রচণ্ড সহযোগিতা করেছেন। ছোটবেলায় গান গাইতে গেলে মা সবসময় সঙ্গে যেতেন।”
ঢাকা/রাহাত/শান্ত
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে স্মারকলিপি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নিতাইপুর, মাহমুদপুর উত্তরপাড়া, দক্ষিণ কান্দাপাড়া পাকার মাথা, মিজমিজি মাদ্রাসা এলাকায় গ্যাসের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহনের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী জানান- দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকায় গ্যাস নাই বললেই চলে। গ্যাসের কারণে আমাদের বাসা বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ ও দৈনন্দিন বাসা বাড়িতে মা-বোনেরা কষ্টকর জীবন যাপন ও কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা সহ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী এনায়েততুল্লাহ নামে একজন বলেন, আমরা কয়েকবছর ধরে গ্যাসের বিল দিচ্ছি কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। এই অভিযোগ নিয়ে আসছিলাম। আশা করি আমরা গ্যাস পাবো। আমরা নাগরিক অধিকার যেন পাই।
এলাকাবাসীর পক্ষে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, এলাকাবাসী তিন বছর ধরে গ্যাস পাচ্ছে না। এলাকাবাসী বিল দিয়েও সেবা পাচ্ছে না। আমরা যেহেতু জনগণ নিয়ে কাজ করি। তাই জনগণের দাবী নিয়ে এসেছি।
উপমহাব্যবস্থাপক আমাদের কথা মনযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি সমস্যা চিহ্নিত করে এটার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছি, আমরা বলেছি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার ব্যাপারে এখানের অনেক কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত থাকে। এটা আমরা জানি কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। তারা এটাকে কৌশলে কাজে লাগিয়ে মানুষকে জিম্মি করে টাকা নেয়। নতুন একটা বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে সন্ত্রাস দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
এটা করতে না পারলে বাংলাদেশের শান্তি নিরাপত্তা উন্নতি অভাব অভিযোগ শেষ হবে না। শুধু গ্যাস অফিস নয় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত দুর্নীতিতে ভরে আছে। যার যার জায়গা থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের সেবা তারা দিতে পারবে।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহন বলেন, আমরা বিষয়টি দেখবো। আমাদের চাহিদা অনেক। চাহিদা বেশি থাকার কারণে অনেকেই গ্যাস পাচ্ছে না। সেই সাথে আমাদের কোনো লোক যদি অবৈধ গ্যাস সংযোগের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সমাজ কল্যান বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মাহাবুব আলম, শিক্ষাবিদ মো জাহিদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা জসিম, ফরহাদ সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোক্তভোগীরা।