জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই সচিবালয় এলাকায় মোতায়েন আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য। বিভিন্ন স্থানে বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে তল্লাশি এবং পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। 

সচিবালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল ৯টার মধ্যেই দপ্তরে পৌঁছেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, আজ একটু বাড়তি শঙ্কা নিয়ে কর্মস্থলে আসতে হয়েছে।

সচিবালয়ের একটি দপ্তরের উপ-সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা চাপ তো থাকেই। তবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো। তাই, আতঙ্কের কিছু নেই বলেই মনে করি। দর্শনার্থী প্রবেশের বিষয়ে থাকতে পারে কড়াকড়ি। 

সচিবালয়ের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নাশকতা ঠেকাতে আমরা পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে আছি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রবিবার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কর্মসূচি পালন করতে আসা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীও আছেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশনস) এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, রাজধানীতে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা আমরা হতে দেব না। নাগরিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য। কেউ সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাবেন।

সচিবালয়ের বাইরের রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে র‍্যাব, এসএমপি ও স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আছে মোবাইল টহল ও কুইক রেসপন্স টিম।

সচিবালয়ে আসা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেছেন, রায় যা-ই হোক, আমরা চাই, যেন অস্থিরতা না বাড়ে। অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক, এইটাই সবার প্রত্যাশা।

রায়কে ঘিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঢাকা/এএএম/রফিক

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর কর মকর ত বল ছ ন

এছাড়াও পড়ুন:

কক্সবাজারে নদীবন্দরের সীমানা নিয়ে উত্তেজনা, বিক্ষোভে পিছু হটল বিআইডব্লিউটিএ

কক্সবাজার শহরে নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ রোববার দুপুরে শহরের বাঁকখালী নদীর কস্তরাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে পিছু হটেন বিআইডব্লিউটিএর (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ) কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ কস্তুরাঘাট এলাকায় নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা আসবেন—এমন খবরেই সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৯টা থেকে বদরমোকাম, কস্তুরাঘাট ও পেশকারপাড়ার লোকজন গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এতে ওই এলাকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে একই জায়গায় কয়েক শ নারী-পুরুষ এক হয়ে মানববন্ধন করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা কস্তুরাঘাট এলাকায় পৌঁছান। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণের কাজ বন্ধ করেই ফিরে যায় বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর বাঁকখালী নদীর ওই অংশে উচ্ছেদ অভিযানে ৪৯৬টি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে প্রায় ৬৩ একর জমি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার জমি আবার দখলের ঝুঁকি থাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও সীমানা পিলার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ।

যা বলছেন বিক্ষোভকারীরা

অবরোধকারীদের দাবি, উচ্ছেদ হওয়া স্থানের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত জমিও রয়েছে। পারুল আক্তার নামের এক নারী বলেন, ‘আমাদের খতিয়ান আছে, খাজনাও দিচ্ছি। ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বা আলোচনা না করে ঘরবাড়ি ভাঙা ও কাঁটাতার দেওয়া চলবে না।’

সাবিনা ইয়াছমিন নামের আরেক নারী বলেন, অনেক পাকা ভবন যখন তৈরি হলো, তখন কেউ থামাননি। এখন হঠাৎ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এ জায়গায় স্থায়ী কোনো অবকাঠামো হতে দেবেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এ মানববন্ধনে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। তাঁদের একজন কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি নাসিমা আকতার। তিনি বলেন, বাঁকখালী নদীর দখল নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পৃথক তিনটি মামলা রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ নিয়েও হাইকোর্টে তিনটি মামলা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না করে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে জায়গাজমিতে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা অন্যায়। আলোচনার মাধ্যমে সংকটের নিরসন না করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
কর্মসূচিতে থাকা জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক ও আইনজীবী মো. ইসমাইল বলেন, বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ করা জমিতে অসংখ্য মানুষের খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে তিনিসহ ৭৭ জন মামলা করেছেন।

নদী বন্দরের সীমানা নির্ধারণের খবর শুনে সড়কে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সকালে কক্সবাজারের কস্তুরা ঘাট এলাকায়

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • জাপাকে মাঠে নামতে না দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • রাজবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে আগুনের ঘটনায় জিডি
  • হত্যা বন্ধে কোনো ম্যাজিক, সুইচ অন-অফ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা 
  • সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করাটাই মূল চ্যালেঞ্জ
  • চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ ও সুবর্ণাকে
  • কক্সবাজারে নদীবন্দরের সীমানা নিয়ে উত্তেজনা, বিক্ষোভে পিছু হটল বিআইডব্লিউটিএ
  • আসন্ন নির্বাচন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অ্যাসিড টেস্ট: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • সামনের নির্বাচন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় টেস্ট: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা