পাকা চুল কি সত্যিই ক্যানসার থেকে বাঁচায়
Published: 17th, November 2025 GMT
চুলের রঙের ব্যাপারটা নির্ভর করে নির্দিষ্ট ধরনের কোষের ওপর। এই কোষের নাম মেলানোসাইট স্টেম সেল। জিনগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে এ ধরনের একটি কোষ দুটি ভিন্ন ফলাফলের দিকে যেতে পারে। একটি ফলাফল হলো বয়সজনিত পরিবর্তন, অন্যটি টিউমার।
এই টিউমারের নাম মেলানোমা। ত্বকের সব ধরনের ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো এই মেলানোমা। বলে রাখা ভালো, এখানে পারিপার্শ্বিক চাপ বলতে এমন কিছুর উপস্থিতিকে বোঝানো হয়, যার জন্য কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহে তৈরি হওয়া ফ্রি র্যাডিক্যালের মাত্রা বেড়ে গেলে সেটিও এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কেন চুল পাকেইঁদুরের ওপর করা সেই গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুরের মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএ যখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন থেমে যেতে পারে স্থায়ীভাবে। এ রকম হলে চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেল কমে যায়। ফলে চুল রং হারায়। অর্থাৎ চুল পেকে যায়।
ক্যানসার থেকে বেঁচে যাওয়াচুল পেকে গেলে আপনার হয়তো মন খারাপ হয়। কিন্তু চুল পেকে যাওয়ার এই ঘটনাটা ঘটার পেছনের বিজ্ঞানটা খেয়াল করুন। স্টেম সেলের বৃদ্ধি থেমে যাওয়ার কারণেই তো চুল পাকছে। জিনগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে যে কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত, তা যদি চুল পেকে যাওয়ার মতো এই বয়সজনিত পরিবর্তনের দিকে না যেত, তাহলে কী হতে পারত?
তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকত। সেখান থেকেই ক্যানসার হতে পারত। কিন্তু কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন থেমে গেলে ওই কোষ থেকে আর ক্যানসার হতে পারে না। অর্থাৎ পাকা চুল সৃষ্টির এই ঘটনার কারণে পরোক্ষভাবে ওই ক্যানসার থেকে বাঁচা যায়।
আরও পড়ুনঅসময়ে চুল পাকা রোধে ৮টি ঘরোয়া উপায়৩০ জুন ২০২৫যখন হয় ক্যানসারধরা যাক, পারিপার্শ্বিক চাপে কোনো মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির মতো কোনো নির্দিষ্ট কারসিনোজেনের প্রভাব থাকলে কিন্তু কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন আর বন্ধ হবে না।
কারসিনোজেন হলো এমন উপাদান, যার প্রভাবে ক্যানসার হতে পারে। কারসিনোজেনের প্রভাব থাকলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন চলতেই থাকবে। চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেলের পরিমাণও কমবে না। ফলে চুলও পাকবে না।
তবে অস্বাভাবিক ওই বিভাজন চলতে থাকবে অনেকটা নিভৃতেই। ফলে সৃষ্টি হবে ক্যানসারের ঝুঁকি।
সূত্র: ইউরোপিয়ান মেডিকেল জার্নাল
আরও পড়ুনযা খেলে অকালে চুল পাকা থামাতে পারবেন০৭ জুলাই ২০২৩.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
দুর্নীতির লাগাম টানতে ৭ পরিকল্পনার কথা জানালেন তারেক রহমান
দুর্নীতির সর্বব্যাপী বিস্তার রোধে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে তিনি বলেন, দুর্নীতি আজও লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, “দুর্নীতি কীভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে- তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই। মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া একজন গ্র্যাজুয়েটের সঙ্গে কথা বললেই বুঝবেন। মাসের পর মাস ধরে একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষকের দিকে তাকান। হাসপাতালে গিয়ে এক তরুণের পরিবার কীভাবে ভোগান্তিতে পড়ে, সেটা শুনুন। অথবা ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি দেখুন। খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই- সব কিছুর পিছনে সেই একই কারণ: দুর্নীতি। এটা লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে।”
তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়, এটা বহু যুগের আলোচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল। আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা আর অর্থনীতিকে মুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন- যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। তারপর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়; নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা, আর পরিষ্কার নজরদারি।”
তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে ‘দুদক’ গঠন; একটি স্বাধীন কমিশন, যেখানে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক, এডিবি সবাই বলেছিল- এটা বাংলাদেশের জবাবদিহিতার বড় অগ্রগতি। টিআইবি’র জরিপেও দেখা গেছে- ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। মানুষ নিজেরাই বলেছে- দুর্নীতি কমেছে। এটা কোনো গল্প নয়, এটা তখনকার সংস্কারের প্রমাণ।”
যেসব বড় পরিবর্তনের জন্য বিএনপি গর্ব করতে পারে সেসব বিষয়ও ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। তার মতে বিএনপি ১। শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাপনা: বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট, ব্যাংকিং ও মানি লন্ডারিং-বিরোধী আইন। ২। স্বচ্ছ ক্রয় নীতি: প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, নিয়মের মধ্যে সরকারি ক্রয়- যা পরবর্তীতে দেশের সবচেয়ে বড় স্বচ্ছতার আইনের ভিত্তি তৈরি করে। ৩। উন্মুক্ত বাজার: টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহন; যেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ায় দুর্নীতি কমে, সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়ে। ৪। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: প্রশাসন কম জটিল, কম ইচ্ছাধীন, বেশি মানুষের কাছে জবাবদিহিতা।
আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও শক্তভাবে চালাতে বিএনপির পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেগুলো হলো: ১। প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা: আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন, সরকারি সেবা; কেউই যেন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে না থাকে। ২। পুরোপুরি স্বচ্ছতা: উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট, শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন। ৩। বিচার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্কার: পেশাদার পুলিশিং, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ। ৪। ই-গভর্ন্যান্স: লাইসেন্স, জমি, পেমেন্ট; সব অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো (বিশ্বমান অনুযায়ী ৩০–৬০% দুর্নীতি কমতে পারে)। ৫। হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা: অনিয়ম ফাঁস করতে যারা সাহস দেখায়, তাদের নিরাপত্তা প্রদান। ৬। নৈতিক শিক্ষা: স্কুল–কলেজ থেকেই সততার চর্চা পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত করা ও ৭। শক্তিশালী আর্থিক নজরদারি: ডিজিটাল ব্যয় ট্র্যাকিং ও স্বাধীন অডিট, সংসদের কঠোর তদারকি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো লিখেছেন, বহু বছর অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ করে, যখন সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসঙ্গে আসে, তখন পরিবর্তন অসম্ভব নয়। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়-বিএনপি আবারো সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ঢাকা/ইভা