বাংলাদেশের আশায় থাকলে সেই সমর্থকের বিয়ে হবে না
Published: 20th, May 2025 GMT
বাংলাদেশের ইনিংসে প্রথম ওভারের খেলা চলছিল। প্রথম চার বলে উঠেছে ৯ রান। বেশ ভালো একটা শুরু। ঠিক তখনই ক্যামেরা ধরা হলো গ্যালারিতে। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে গ্যালারিতে বসে এক সমর্থক মিষ্টি মিষ্টি হাসিতে হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডটি উঁচিয়ে ধরলেন। তাতে লেখা, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না জেতা পর্যন্ত আমি বিয়ে করব না’।
আরব আমিরাতের কাছে কাল রাতে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য হার নিয়ে প্রচুর কাটাছেঁড়া চলছে। কোথায় হারল, কেন হারল—এসব ক্রিকেটীয় কারণ আর কি! খুঁজলে এমন অনেক কারণই হয়তো পাওয়া যাবে। তবে এই কারণগুলোর পেছনের কারণ সম্ভবত মনস্তাত্ত্বিক।
বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা ম্যাচের শুরুতেই ‘ধনুর্ভঙ্গ’ পণ নিয়ে গ্যালারিতে বসে থাকা সেই ভক্তকে দেখে সম্ভবত ম্যাচের কলাকৌশল পাল্টেছেন। কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সমর্থকেরা প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। নইলে পারফরম্যান্স ক্রমেই নিম্নমুখী হওয়ার পরও কোন দেশের সমর্থক সাহস করে দলের বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত নিজেই নিজের বিয়ে আটকে রাখতে পারেন!
শুধু বাংলাদেশের সমর্থকেরাই পারেন।
আরও পড়ুনপাকিস্তান সফরে কটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, জানাল পিসিবি২৪ মিনিট আগেএখন যে সমর্থক দলের জন্য নিজের এতটা নিংড়ে দিতে পারেন, তাঁর জন্য কি দলের কিছুই করার নেই? অবশ্যই আছে এবং বাংলাদেশ দল ঠিক সেটাই করেছে। গ্যালারির সেই সমর্থকের চোখের ‘ছানি অপারেশন’ করে বাংলাদেশ দল তাঁকে বাস্তবতাটুকু বুঝিয়ে ছেড়েছে—যেন তিনি খামোখাই অপেক্ষা করে নিজের যৌবনকে জলাঞ্জলি না দিয়ে বিয়েটা সেরে নেন। কিংবা উল্টোভাবেও ভাবা যায়। বাংলাদেশ দলে বেশ কজন বিবাহিত ক্রিকেটার আছেন। বিয়ের মতো ‘দিল্লি কা লাড্ডু’ খেলে কী হয়, সেটা পৃথিবীর আপামর বিবাহিত পুরুষের মতো তাঁরাও জানেন, ‘বিয়ে একটা রোমাঞ্চকর উপন্যাস, যার প্রথম পরিচ্ছেদেই নায়কের মৃত্যু ঘটে।’
বাংলাদেশকে হারিয়ে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় আরব আমিরাত.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ল দ শ দল
এছাড়াও পড়ুন:
শিশুর স্বস্তির পোশাক
গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের রোগের প্রবণতা বাড়ছে। এ সময় বড়দের চেয়ে শিশুর অসুখ-বিসুখের প্রবণতা বেশি হচ্ছে। কারণ বড়দের চেয়ে শিশুর ত্বক অনেক বেশি নরম, কোমল ও তাপীয়ভাবে অপরিপক্ব। স্বভাবত বড়দের শরীরে যে তাপমাত্রা স্বাভাবিক, তা শিশুর বেলায় অসহ্যকর। এ জন্য তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুকে স্বস্তিতে রাখতে সঠিক কাপড় বেছে নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপযুক্ত কাপড় নির্বাচন করুন
সুতির মতো প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি পোশাক সবসময়ই উপযুক্ত নির্বাচন। সুতির পাশাপাশি লিনেন, মসলিন কিংবা পাতলা সাটিন কাপড়ের হালকা রং– যেমন সাদা, হালকা নীল রং কিংবা গোলাপি আভার পোশাক নির্বাচন করাই ভালো। এ ধরনের কাপড় নরম, অ্যালার্জিমুক্ত, শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঘটায় এবং সহজে শরীরে বায়ু চলাচল বাড়ায়। অবশ্যই পোশাকের প্যাটার্নের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ছোট বাচ্চাদের জন্য এ সময় অতিরিক্ত নকশাযুক্ত বা অলংকৃত পোশাক নির্বাচনে এড়িয়ে চলুন। গরমে সিন্থেটিক, পলিয়েস্টার, নাইলন, মোটা ফেব্রিকস অথবা গাঢ় রং শিশুর শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে। এ ধরনের কাপড় নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকুন।
শিশুর গরমের পোশাক যেমন হওয়া উচিত
বয়সের তারতম্যের ভিত্তিতে এ গরমে শিশুর জন্য বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সমাহার রয়েছে।
(০-৩ মাস) বয়সী নবজাতকের জন্য ছোট হাতা বা হাতাহীন বডি স্যুট উপযুক্ত পোশাক। এ ধরনের কাপড় নবজাতকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও রক্ত চলাচলের বিঘ্ন ঘটায় না।
(৩-১২ মাস) বয়সী শিশু ঘরেই থাকে এবং অল্পবিস্তর ওঠাবসা করে। এ বয়সে ছেলেদের জন্য ছোট হাতা বডি স্যুট বা স্লিভলেস রম্পারের সঙ্গে সুতির প্যান্ট বা শর্টস ও টি-শার্ট নির্বাচন করুন। মেয়েদের জন্য স্লিভলেস ড্রেস বা বাবল রম্পার ব্যবহার করা ভালো।
(১-৩ বছর) বয়সী শিশুরা নড়াচড়া ও হাঁটাচলা শেখে। এ বয়সে ছেলেশিশুর জন্য ঢিলেঢালা সুতির টি-শার্ট ও শর্টস এবং মেয়ের জন্য প্লে-স্যুট কিংবা অর্গানিক কটনের পোশাক বেছে নিন।
(৩-৫ বছর) বয়সী শিশুরা বাইরে যায় ও দৌড়ঝাঁপ করে এবং কেউ কেউ নিজে নিজে পোশাক পরতে চায়। তাই ছেলেদের জন্য ইলাস্টিক ওয়েস্ট শর্টস এবং সুতির ঢিলেঢালা হাফ হাতা শার্ট ও মেয়েদের জন্য স্লিভলেস টপ, হালকা ফ্রক ও স্কার্ট গরমে আরামদায়ক বোধ করতে সাহায্য করে।
গরমে পোশাক পরিচর্যা টিপস
গ্রীষ্মে দুপুর ১২টা থেকে ৪টার মধ্যে শিশুকে বাইরে যেতে একেবারে নিরুৎসাহিত করুন। ঘামে ভেজা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে ধুয়ে রোদে দিন। যেসব বাচ্চা ডায়াপার পরে তাদের দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অতিরিক্ত ডায়াপার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বাইরে গেলে শিশুকে লম্বা হাতা এবং প্রশস্ত ছায়াযুক্ত টুপি পরিয়ে দিন। এটি মাথা, গলা ও কানকে রক্ষা করে এবং হিটস্ট্রোক এড়াতে সাহায্য করে। তবে ইলাস্টিকযুক্ত টুপি এড়িয়ে চলুন। কারণ এটি রক্ত সঞ্চালনের বাধা দিতে পারে।
কেমন দাম
সুতি ও সাদামাটা নকশা হওয়ায় এ ধরনের পোশাকের দাম অন্যান্য পোশাক থেকে একটু কম। পোশাকের ধরন ও স্থান অনুযায়ী এ ধরনের পোশাকের দাম পড়বে ৩০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে রাজধানীর নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক, মতিঝিল, মিরপুরসহ দেশের খোলা মার্কেটগুলোয় এর দাম পড়বে ৮০ থেকে শুরু করে ৫০০ কিংবা ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
কোথায় পাবেন
বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস যেমন– শৈশব, আড়ং, নিপুণ, রঙ বাংলাদেশ, যাত্রা, বিশ্ব রঙ ইত্যাদিতে পাবেন শিশুর জন্য উপযোগী বাহারি পোশাক।
তাছাড়া বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, উত্তরার রাজলক্ষ্মীসহ বিভিন্ন শপিংমলে তো থাকছেই। ঘরে বসে অনলাইনেও কিনে নিতে পারেন আপনার শিশুর জন্য আরামদায়ক পোশাক।
দেশীয় ফ্যাশন হাউস ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর কর্ণধার সৌমিক দাস বলেন, ‘এই গরমে অবশ্যই আরামদায়ক সুতির কাপড়ে হতে হবে শিশুর পোশাক। সঙ্গে আঁটসাঁট প্যাটার্ন না হয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হয় শিশুর এ সময়ের পোশাকে।’ তিনি আরও জানান, রং এবং ভ্যালু অ্যাডিশনের দিক থেকে হালকা রং বা মিডিয়া ব্যবহার করতে হবে।
এ গরমে শিশুর যত্নে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাকে সঠিকভাবে পোশাক পরানো এবং হালকা আরামদায়কভাবে ঢেকে রাখা। এতে আপনার শিশু বিভিন্ন রোগবাহী জীবাণু থেকে সুরক্ষা পাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠবে। v
ছবি সৌজন্য: রঙ বাংলাদেশ