রক্তরোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ফ্লো সাইটোমেট্রি: মৌলিক থেকে অ্যাডভান্সড’ শীর্ষক দুই দিনের এক কর্মশালা শুক্রবার শেষ হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার এ কর্মশালার আয়োজন করে ‘ইয়াং হেমাটোলজিস্টস অব বাংলাদেশ’। এতে অংশ নেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের রক্তরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এনজি হেং জু ও সিংহেলথের আন্তর্জাতিক সহযোগী দপ্তরের পরিচালক বিজয়া রাও।

সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী তরুণ হেমাটোলজিস্টদের হাতে সনদ তুলে দেন রেনাটা পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বাংলাদেশের তরুণ রক্তরোগবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে কর্মশালার এ আয়োজন ছিল চমৎকার সম্পর্ক তৈরির উৎস। বিশেষ করে এখানে বাংলাদেশের ৮৭ তরুণ রক্তরোগবিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, রেনাটা পিএলসি এ অনুষ্ঠানের সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে রক্তরোগ গবেষণায় তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে।

বাংলাদেশ হেমাটোলজি সোসাইটির সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম বলেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ চিকিৎসকেরা আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হেমাটোলজি সোসাইটির সভাপতি আমীন লুৎফুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক মো.

আদনান হাসান মাসুদসহ তরুণ হেমাটলজিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

চিকিৎসা পেয়ে বনে ফিরল দলছুট হাতি

পায়ে একাধিক গভীর ক্ষত নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় পাহাড়ে পড়েছিল একটি বন্যহাতি। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাতিটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসে বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। গাজীপুর সাফারি পার্ক ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসকদের যৌথ সহযোগিতায় চিকিৎসা দেওয়া হয় হাতিটিকে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের কাটাবাড়ি এলাকায় অসুস্থ হাতিটির চিকিৎসা দেওয়ার পর বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগ জানায়, একটি বন্যহাতি পায়ে গভীর কয়েকটি ক্ষত নিয়ে কাটাবাড়ি পাহাড়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শেরপুরের তত্ত্বাবধানে হাতির সুস্থতায় উদ্যোগ নেওয়া হয়। গাজীপুর সাফারি পার্ক ও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় প্রথমে ইনজেকশন দিয়ে হাতিটিকে অজ্ঞান করা হয়। পরে ক্ষতস্থানে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করে আরেকটি ইনজেকশনের মাধ্যমে হাতিটির জ্ঞান ফেরানো হয়। চিকিৎসা শেষ হলে হাতিটি ধীরে ধীরে পাহাড়ের গহিনে দলের কাছে ফিরে যায়।
অসুস্থ বন্যহাতিটির চিকিৎসায় অংশ নেন গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন 
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, নালিতাবাড়ী প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাকিব হোসেন সাগর, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শাহীন কবির, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন, মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী।
মেডিকেল টিমের প্রধান চিকিৎসক গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রায় ৩-৪ মাস আগে বল্লমজাতীয় অস্ত্র দিয়ে হাতিটিকে আঘাত করা হয়। ৩-৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ওই আঘাতের গভীরতা প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো। আঘাতের কারণে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার দেহের মেজর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাতিটির আঘাতপ্রাপ্ত স্থান ড্রেসিং করে তার দেহে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হাতিটি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে 
বলে আশা তাঁর।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, হাতিটি অসুস্থ থাকায় দলছুট ছিল। খুঁডিয়ে খুঁডিয়ে জঙ্গলে একাই চলাফেরা করত। আমরা হাতিটির গতিবিধি কয়েকদিন ধরে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। এখন থেকে হাতিটির ওপর নজরদারি থাকবে এবং প্রয়োজনে আবারও চিকিৎসা দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে বেশ কিছু দিন ধরে বন্যহাতির পাল বিচরণ করছে। এসব হাতি মাঝে মধ্যেই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। হয়তো স্থানীয় কারও আস্ত্রের আঘাতেই দলছুট হাতিটির পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • চিকিৎসা পেয়ে বনে ফিরল দলছুট হাতি