দুর্ঘটনার শিকার এনসিপি নেতা মাহিন সরকার
Published: 21st, April 2025 GMT
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার ও তার স্ত্রী।
রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে প্রত্যাশা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির একটি ট্রাক তাদের প্রাইভেটকারে ধাক্কা দেয়।
মাহিন সরকার বলেন, “ট্রাকের ধাক্কার আমাদের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আমার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।”
স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকেই প্রত্যাশা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ট্রাকচালককে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢাকা/রায়হান/ইভা
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বিপিএল নিলাম: কীভাবে হবে, খরচ কত টাকা আর চোখ থাকবে কাদের ওপর
বিপিএলের ১২তম আসরের নিলাম আজ। রাজধানীর একটি হোটেলে নিলাম অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় কিনবে ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই নিলামে অংশ নিতে নাম নিবন্ধন করেছেন স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে চার শর বেশি খেলোয়াড়। এর মধ্য থেকে কমপক্ষে ৮৪ জন দল পাবেন, যা দলগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে আরও বাড়তে পারে।
নিলামে কতটি দলএবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজি—ঢাকা ক্যাপিটালস, রংপুর রাইডার্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস, সিলেট টাইটানস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সব কটি দলই নিলামে অংশ নিচ্ছে। কয়েক মৌসুম ড্রাফট পদ্ধতিতে খেলোয়াড় বাছাইয়ের পর এবার বড় পরিসরে নিলাম হতে যাচ্ছে। সামনের আসরে দলগুলো এবারের স্কোয়াড থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে।
নিলামে কত খেলোয়াড়নিলামে নাম আছে স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে ৪১৫ খেলোয়াড়ের। এর মধ্যে স্থানীয় খেলোয়াড় ১৫৮ জন, বিদেশি ২৫৭ জন। স্থানীয়দের ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’ ও ‘এফ’—মোট ৬ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। বিদেশি ক্রিকেটারদের ভাগ করা হয়েছে ৫ ক্যাটাগরিতে। তবে নিলামে থাকা সবার নাম ডাকা হবে না। বেশ কিছু ক্রিকেটার আগেই সরাসরি চুক্তি করেছেন।
সরাসরি চুক্তিতে কতজন
নিলামের আগে প্রতিটি দলকে দুজন বাংলাদেশি (এ ও বি ক্যাগারি) খেলোয়াড় এবং কমপক্ষে এক থেকে দুজন বিদেশি খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজিই দুজনকে মোট ১২ জন স্থানীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড় দুজন করে নিয়েছেন ৫টি দল, ১টি দল নিয়েছে ১ জন। অর্থাৎ, নিলামের আগে ৬ দলে মোট ২৩ জন ক্রিকেটার নাম লিখিয়ে ফেলেছেন।
প্রতিটি দলকে নিলাম থেকে কমপক্ষে ১২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার কিনতে হবে। সর্বোচ্চ ১৪ জন কেনা যাবে। প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় কিনতে হবে। যেমন ‘এ’ ও ‘বি’ মিলিয়ে কমপক্ষে দুজন, ‘সি’ ও ‘ডি’ মিলিয়ে কমপক্ষে ৬ জন এবং ‘ই’ ও ‘এফ’ ক্যাটাগরি মিলিয়ে কমপক্ষে ৪ জন খেলোয়াড় কিনতে হবে।
নিলাম থেকে বিদেশি কিনতে হবে কমপক্ষে দুজন করে। এ ছাড়া বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও বিসিবির অনুমোদনসাপেক্ষে যত ইচ্ছা বিদেশি খেলোয়াড় খেলোয়াড় নিবন্ধন করানো যাবে। তবে এক ম্যাচে বিদেশি খেলানো যাবে কমপক্ষে দুজন ও সর্বোচ্চ চারজন।
খেলোয়াড়দের দাম কেমনস্থানীয় খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ টাকা, নিলামের প্রতি ডাকে মূল্য বাড়ানো যাবে ৫ লাখ টাকা করে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৩৫ লাখ টাকা, প্রতি ডাকে বাড়বে ৩ লাখ করে। ‘সি’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ২২ লাখ, প্রতি ডাকে বৃদ্ধি ১ লাখ করে। এ ছাড়া ‘ডি’, ‘ই’ ও ‘এফ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের দাম প্রতি ডাকে বাড়বে ৫০ হাজার টাকা করে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৩৫ হাজার ডলার। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি ডাকে মূল্য বাড়বে ৫ হাজার ডলার করে। ২৫ হাজার ভিত্তিমূল্যের ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের দাম প্রতি ডাকে বাড়বে ৩ হাজার ডলার করে।
একটি দল মোট কত টাকা খরচ করতে পারবেদলগুলো চাইলেই যত ইচ্ছা টাকা খরচ করতে পারবে না, সীমা আছে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য মোট সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ করতে পারবে প্রতিটি দল। তবে সরাসরি চুক্তি করা খেলোয়াড়দের খরচ এর বাইরে থাকবে।
বিদেশিদের জন্য প্রতিটি দল খরচ করতে পারবে সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার। নিলামের আগে সরাসরি চুক্তিতে নেওয়া খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এর আওতায় পড়বে। নিলামের আগে সরাসরি সই করানো খেলোয়াড়ের চুক্তির অর্থ প্রকাশ করতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। সেই অর্থ বাদ দিয়ে বাকিটা দিয়ে নিলাম থেকে বিদেশি কিনবে তারা।
নিলামের আগে কোন খেলোয়াড় কোন দলে নাম লিখিয়েছেনঢাকা ক্যাপিটালস
স্থানীয় খেলোয়াড়: তাসকিন আহমেদ ও সাইফ হাসান
বিদেশি খেলোয়াড়: অ্যালেক্স হেলস ও উসমান খান
সিলেট টাইটানস
স্থানীয় খেলোয়াড়: মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসুম আহমেদ
বিদেশি খেলোয়াড়: মোহাম্মদ আমির ও সাইম আইয়ুব
রংপুর রাইডার্স
স্থানীয় খেলোয়াড়: মোস্তাফিজুর রহমান ও নুরুল হাসান
বিদেশি খেলোয়াড়: খাজা নাফে ও সুফিয়ান মুকিম
নোয়াখালী এক্সপ্রেস
স্থানীয় খেলোয়াড়: হাসান মাহমুদ ও সৌম্য সরকার
বিদেশি খেলোয়াড়: জনসন চার্লস ও কুশল মেন্ডিস
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
স্থানীয় খেলোয়াড়: নাজমুল হোসেন ও তানজিদ হাসান
বিদেশি খেলোয়াড়: সাহিবজাদা ফারহান ও মোহাম্মদ নেওয়াজ
চট্টগ্রাম রয়্যালস
স্থানীয় খেলোয়াড়: মেহেদী হাসান ও তানভীর ইসলাম
বিদেশি খেলোয়াড়: আবরার আহমেদ
শীর্ষস্থানীয় দেশি ক্রিকেটারদের অনেকেই সরাসরি চুক্তিতে সই করেছেন। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু ক্রিকেটার আছেন, যাদের নিয়ে একাধিক দল কাড়াকাড়ি করতে পারবে। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস নিলামের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন। এ ছাড়া অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞদের থেকে শুরু করে সম্প্রতি এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে আলো ছড়ানো রিপন মণ্ডল, হাবিবুর রহমানরাও থাকতে পারেন দলগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রে।
কতজনের দল হবেখেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ ২২ সদস্যের দল (রিজার্ভসহ) রাখতে পারবে। ম্যানেজার, কোচ, বিশ্লেষকসহ দলীয় কর্মকর্তা নিবন্ধন করা যাবে সর্বাধিক ১২ জন।
নিলাম দেখা যাবে কীভাবে?বিকেল চারটায় শুরু নিলাম অনুষ্ঠান সরাসরি দেখাবে টি স্পোর্টস। এ ছাড়া বিসিবির ইউটিউব চ্যানেলেও দেখানো হবে।
অর্থ প্রদান ও চুক্তির শর্তফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে নিলামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড়দের অর্থ দিতে হবে তিনটি ধাপে—
প্রথম কিস্তি: চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ২৫ শতাংশ
দ্বিতীয় কিস্তি: দলের শেষ লিগ ম্যাচের আগে ৫০ শতাংশ
তৃতীয় কিস্তি: টুর্নামেন্ট শেষে ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ
সব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী কর কাটা হবে।
চূড়ান্ত দলের তালিকা নিলাম শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে জমা দিতে হবে।
সব খেলোয়াড়ের চুক্তি হবে বিসিবির নির্ধারিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিপত্রে।
শৃঙ্খলা ও বিধিবিধাননিলামসংক্রান্ত কোনো নিয়ম লঙ্ঘন, প্রভাব খাটানো বা অনিয়ম করলে বিড বাতিল, অর্থদণ্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজি স্থগিত বা বাতিলের মতো শাস্তি হতে পারে। সব ধরনের অভিযোগ বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল তদন্ত করবে এবং তাদের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
ভবিষ্যৎ আসরের রিটেনশন নীতি২০২৬ সালে বিপিএলের দ্বাদশ আসর হবে নতুন মালিকানা চক্রের প্রথম মৌসুম। ১৩তম আসর থেকে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বাধিক ২ জন স্থানীয় ও ২ জন বিদেশি খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে।
নতুন দলগুলোও একই নিয়মে নিলামের আগে খেলোয়াড় সই করাতে পারবে।
বিপিএলের সব ধরনের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধীন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী।