দেশে পূর্বের মতো আর চাঁদাবাজি চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। তিনি বলেন, ‘‘চাঁদাবাজদের স্পষ্ট করে একটা বার্তা দিতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে পূর্ববর্তী কোনো প্র্যাকটিস আর বরদাশ করা হবে না।’’  

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতার কথা বলছি, সেখানেও পূর্বের মতো বিভিন্ন উপায়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের মতো ঘটনাগুলো চলমান আছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে এমন একটা পরিস্থিতিতে চলে এসেছি, অনেকে মনে করেন চাঁদা দেওয়াটাও মনে হয় আমার দায়িত্ব। আবার যারা চাঁদা নেয়, তারা মনে করে এটা তার অধিকার। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তো এভাবে চলে আসছে। কিন্তু এখন আর চলবে না।’’

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

রোহিঙ্গা সংকট: উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন করার প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত

‘৭১ ও ২৪ এর উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের জীবিকা সুষ্ঠু করা’

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেন, ‘‘গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা জীবন দিয়েছে, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য। সেই বাংলাদেশ বাস্তবায়নে পূর্ববর্তী সময়ের চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ যে বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করেছে, সেগুলোকে খুব শক্ত হাতে দমন করা হবে। আপনারা যেখানে চাঁদাবাজি দেখবেন, সেখানে প্রতিবাদ করবেন এবং রুখে দেবেন।’’

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ৩টি ইভেন্টে কয়েকশত প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ৩টি ইভেন্টের ১৬ জন প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত করা হয়। পরে সেখান থেকে ৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছার, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান, সমন্বয়ক উবায়দুল হক সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান ও গোলাম মোস্তফা। 

ঢাকা/রুবেল/বকুল

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উপদ ষ ট উপদ ষ ট

এছাড়াও পড়ুন:

চরমোনাই দরবারে মাহফিল উপলক্ষে কীর্তনখোলার তীরে লাখো মুসল্লির ভিড়

তিন দিনব্যাপী ইসলামি মাহফিল উপলক্ষে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই দরবার শরিফ মাদ্রাসার বিশাল ময়দান লাখো মুসল্লির পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে। আজ বুধবার জোহর নামাজ শেষে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে এই মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

মাহফিল উপলক্ষে এই ময়দানে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই মুসল্লিদের ভিড় শুরু হয়। আজ সকালেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাদ্রাসার বিশাল আয়তনের দুটি মাঠ। এরপর জোহরের নামাজ শেষে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাহফিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরমোনাই দরবারের মাদ্রাসার সুবিশাল মূল মাঠ ও ৩ নম্বর মাঠে সমাবেত হয়েছেন লাখো ভক্ত, অনুসারী ও সাধারণ মুসল্লি। মাঠ দুটিকে শামিয়ানায় আবৃত করে দেওয়া হয়েছে। আয়োজকেরা জানান, মঙ্গলবার থেকেই বাস-লঞ্চে এখানে মুসল্লিরা সমাবেত হতে শুরু করেন। আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসবেন। মাহফিল চলবে তিন দিন। এই তিন দিনই মুসল্লিদের স্রোত থাকবে এই মাহফিলে।

উদ্বোধনী পর্বে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেন, এখানে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসার প্রয়োজন নেই। যদি এমন কেউ এসে থাকেন, তবে নিয়ত পরিবর্তন করে আত্মশুদ্ধির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, দুনিয়ার মোহই সব অন্যায়ের কারণ। তিনি বলেন, ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় জীবনকে ইসলামের আলোকে পরিচালিত করলেই সত্যিকারের মুক্তি আসবে।

আয়োজকেরা জানান, চরমোনাই দরবারের এই মাহফিলের সূচনা হয়েছিল ১৯২৪ সালে। প্রতিবছর বাংলা মাস হিসাব করে চরমোনাইয়ে অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে দুটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অগ্রহায়ণে কিছুটা ছোট পরিসরে এবং ফাল্গুন মাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের মাহফিল আয়োজন হয়। তিন দিনের এই মাহফিলের শেষ দিন শুক্রবার হওয়ায় ওই দিন চরমোনাই মাঠে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে ভাষ্য আয়োজকদের। এরপর শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাহফিলের সমাপ্তি হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বায়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ জানান, তিন দিনব্যাপী মাহফিলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মোট সাতটি প্রধান বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ান পেশ করেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, আর মাঝের তিনটি বয়ান পেশ করেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। এ ছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় দরবারগুলোর পীর এবং শীর্ষস্থানীয় ওলামারা মাহফিলে বয়ান করবেন।

তিন দিনব্যাপী মাহফিলের প্রথম দিন আজ সকালে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে প্রতিনিধি সম্মেলন হয়। দ্বিতীয় দিন সারা দেশ থেকে আগত ওলামায়ে কিরামদের নিয়ে ওলামা সম্মেলন ও শেষ দিন সকালে সারা দেশ থেকে আগত ছাত্র-জনতাকে নিয়ে ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মাহফিলে আগত যুবক, শ্রমিকদের নিয়ে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজন করবে বিশেষ মতবিনিময় সভা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ২৪ বন্দি মুক্তি পাচ্ছে
  • সিরামিক এক্সপো উপলক্ষে ডিবিএলের সৌজন্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
  • কুমিল্লায় আগামীকাল শুরু হচ্ছে ৯ দিনব্যাপী বইমেলা, থাকছে প্রথমা ও বন্ধুসভার স্টল
  • মার্সেল পণ্য কিনে ফ্রিজ, এসি, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, ফ্যানসহ নিশ্চিত
  • পানি ছাড়াই এখন হাঁস পালন
  • সিরামিক এক্সপো ২০২৫, ডিবিএল সিরামিকস প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
  • সাংবাদিকতাকে একটা মাত্রায় নিয়ে গেছে প্রথম আলো: মির্জা ফখরুল
  • চরমোনাই দরবারে মাহফিল উপলক্ষে কীর্তনখোলার তীরে লাখো মুসল্লির ভিড়