নাটোরে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করে নারীর স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
Published: 23rd, October 2025 GMT
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে এক নারীর স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই নারী।
অভিযুক্ত নিসান হাসান (২২) বড়াইগ্রামের জোনাইল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলার চরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সহযোগীরা হলেন কুশমাইল গ্রামের নয়ন হোসেন (২৩), সরাবাড়িয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম (২০) ও একই গ্রামের হৃদয় হাসান (২১)।
বড়াইগ্রাম থানা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, উপজেলার দিঘইর গ্রামের বাসিন্দা ফুল কুমারী গমেজের (৪৬) স্বামী করনেলিউস গমেজ তিন বছর আগে মারা যান। তাঁদের একমাত্র মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করেন। ফুল কুমারী একাই বাড়িতে থাকেন। গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হঠাৎ তাঁর বাড়িতে গিয়ে হইচই শুরু করেন এবং দরজা খুলতে বলেন। রাতে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা এলাকাবাসীকে জানান, ওই নারীর ঘরে পুরুষ রয়েছে এবং তিনি অনৈতিক কাজে জড়িত। এরপর দরজা না খুললে ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন তাঁরা। একপর্যায়ে ভয় পেয়ে ফুল কুমারী দরজা খুললে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালান। কাউকে না পেয়ে তাঁরা ওই নারীর গলায় থাকা সোনার চেইন ও বিছানার নিচে রাখা পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান।
ফুল কুমারী গমেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা নিসান হাসান হত্যা মামলার আসামি। তাঁর বাবাও নারী নির্যাতন মামলার আসামি। এ কারণে আমি রাতের বেলা সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলতে চাইনি। পরে ঘরে আগুন লাগানোর হুমকি দিলে আমি দরজা খুলে দিই। তখন তারা ঘরে ঢুকে কাউকে না পেয়ে আমার গলা থেকে চেইন ও কিছু টাকা নিয়ে পালায়।’
নিসান হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী বাড়িতে মদ তৈরি করে বিক্রি করেন। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। এই আক্রোশে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ছ ত রদল
এছাড়াও পড়ুন:
নান্দাইলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশালমিছিল
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশালমিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর উপজেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ কর্মসূচি শুরু করেন মনোনয়নবঞ্চিত নাসের খান চৌধুরীর অনুসারীরা।
নাসের খান চৌধুরী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। গতকাল তাঁর সমর্থকেরা মশাল হাতে নিয়ে বিক্ষোভের সময় ‘নান্দাইলের অবৈধ মনোনয়ন, মানি না মানব না’ স্লোগান দিয়ে মহাসড়কটির নতুন বাজার এলাকা পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইয়াসের খান চৌধুরী।
মিছিলকারীদের কয়েকজন জানান, তাঁরা বিএনপির নেতা নাসের খান চৌধুরীর কর্মী-সমর্থক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দল যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আগে প্রার্থী মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার জন্য তাঁরা সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন। এর ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তাঁরা মশালমিছিল বের করেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের চরম দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নেতা-কর্মী রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, মনোনয়ন দেওয়ার সময় তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বর্তমানে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁকে তৃণমূলের কর্মীরা মেনে নেবেন না।
পরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে নান্দাইল আসনের জন্য ঘোষিত মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। সেই সঙ্গে দলের স্বার্থ বিবেচনায় ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।
যাঁরা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এসব কর্মসূচি পালন করছেন জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ কালাম বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। বড় দলে অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। নান্দাইলেও বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এর আগেও কয়েকটি আসনে এমন হয়েছে, কিন্তু এখন আর হচ্ছে না। নির্বাচন কাছে চলে এলে এসব আর হবে না।