প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের এই ভূখণ্ডের মানুষ চিরতার পানি পান করে আসছেন। চিরতার ডাল ভেজানো পানির উপকারিতার কথা আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও আছে। তেতো স্বাদের এই পানীয় ওজন কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা, লিভারের সুরক্ষা থেকে শারীরিক সুস্থতায় কাজে দেয়।

চিরতার পানির ৭ উপকারিতা

১. নিয়মিত চিরতার পানি খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ কমতে থাকে। এটি ডায়াবেটিসের রোগী এবং ওজন কমাতে চাচ্ছেন, এমন ব্যক্তির জন্য খুবই উপকারী।

২.

চিরতা লিভারের বাইরের স্তরগুলো থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে লিভারকে সুস্থ রাখে। এই পানীয় খেলে ফ্যাটি লিভারসহ লিভারের অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৩. কৃমি দূর করতে সাহায্য করে চিরতার পানি।

চিরতা গাছের ডাল

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ভারতের অনুমতির অপেক্ষায় বুড়িমারীতে আটকা ভুটানের পণ্য 

থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট চালানের একটি কন্টেইনারবাহী ট্রাক লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছে। ভারতের সড়ক পথ ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকা রয়েছে সেটি। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে কন্টেইনার নিয়ে ট্রাকটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। 

আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম থেকে ভুটানের পথে প্রথম পণ্যবাহী কন্টেইনার

আরো পড়ুন:

হিলি বন্দরে কাঁচা মরিচ আমদানিতে ১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

আখাউড়া স্থলবন্দরে ৪ দিনের ছুটি শুরু

সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের প্রথম ‘ট্রায়াল রান’ শুরু করেছে ভূ-বেষ্টিত দেশ ভুটান। বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে এই ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত হলেও, দুর্বল অবকাঠামো এবং বিশেষ করে সড়কের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ভুটানের পণ্যের প্রথম চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে গত শুক্রবার ভোরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। শুক্রবারের কাস্টম জটিলতা কারণে ভারতে না পাঠাতে পারলেও শনিবার সকালে চালানটি ভারতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবার কথা ছিল। ভারতের সড়ক পথের অনুমতি না পাওয়ায় চালানটি আটকে যায়। ভারতের কলকাতা থেকে অনুমতি নিয়ে তবে এটি চালু করার কথা। আজ রবিবার ভারতে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লিখিত অনুমতি নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে, মৌখিক অনুমতি নিয়ে প্রথম চালানটি পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। 

ভুটানের পণ্যের চালান বহন করা কাভার্ড ভ্যানের চালক আলমগীর হোসেন বলেন, “প্রায় ২০ ঘণ্টা পথ অতিক্রম করে চট্টগ্রাম থেকে বুড়িমারী পৌঁছেছি শুক্রবার সকালে। সেই থেকে আজ রবিবার দুপুর গড়িয়ে গেল ভারতের অনুমতি পায়নি। বসে রয়েছে। এত বড় ক্ষতি কে পুষিয়ে দেবে জানি না। চরম দুর্ভোগে পড়েছি। কবে জটিলতা কাটিয়ে উঠবে সেটাও জানি না।” 

বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, “ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম চালুর কারণে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যাবসার বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এটির ফলে উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যের নতুন গতি ফিরে আসবে।” 

বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ভুটানের চালানটি শুক্রবার সকালে এসেছে। শনিবার সকালে স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম করে পাঠানোর কথা ছিল। ভারতের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এটি আটকে আছে। আমরা সব কাজ সমাপ্ত করেছি, ভারত যে মুহূর্তে চাইবে, আমরা সেই মুহূর্তেই চালানটি পাঠাতে পারব।” 

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রানজিট চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এই পরীক্ষামূলক পরিবহণকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সই হয় ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট’ চুক্তি।

ঢাকা/সিপন/মাসুদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ