বাস্তব চরিত্রকে এবার পর্দায় ‘জীবন্ত’ করছেন বলিউড তারকা ইমরান হাশমি। তেজসপ্রভা বিজয় দেওস্কর পরিচালিত ‘গ্রাউন্ড জিরো’ ছবিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কমান্ড্যান্ট নরেন্দ্রনাথ ধর দুবের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইমরান। ২০০১ সালে নয়াদিল্লির লোকসভা কেন্দ্র ও গুজরাটের অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক অপারেশনকে ঘিরে এ ছবির কাহিনি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবিটির ট্রেলার। মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠানে ইমরান এ ছবিকে ঘিরে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথা উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

ইমরান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আসল সত্যি প্রকৃত ঘটনার চেয়ে ভয়ংকর—এই প্রবাদ এ ছবির গল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (নরেন্দ্রনাথ ধর) দুবেজির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা মনে পড়ে। ওনার চরিত্রেই আমি অভিনয় করছি। আমি ওনাকে বলেছিলাম যে এই গল্প ফিল্মের চেয়ে বেশি ফিল্মি। ২০০৩ সালে অফিসাররা এই অপারেশন যেভাবে পরিকল্পনা করে বাস্তবায়িত করেছিলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব।’

‘গ্রাউন্ড জিরো’ সিনেমা ইমরান। আইএমডিবি.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ইমর ন

এছাড়াও পড়ুন:

মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই চাপের মুখেও অনড় অবস্থানে রয়েছে কারাকাস। গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা ও দেশটির আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বিবেচিত হবে। কারাকাস এর তীব্র নিন্দা জানায়। পাল্টা জবাবে কারাকাস জানায়, ট্রাম্পের মন্তব্য তাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক হুমকি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তারা কোনো বিদেশি নির্দেশ বা হুমকি মেনে নেবে না। তাদের আকাশসীমার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

শনিবার সকালে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘সব উড়োজাহাজ সংস্থা, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারীর উদ্দেশে বলছি, দয়া করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং চারপাশের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’

কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা মাদক পাচার মোকাবিলার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, মাদুরোকে অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণের চেষ্টার ভিত্তি তৈরি করছে ওয়াশিংটন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কয়েক মাস ধরে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় গোপন সিআইএ অভিযান চালানোর অনুমোদনও দিয়েছেন।

এ সপ্তাহে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির স্থল অভিযান শুরু করবে। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরো বলেছেন, ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে চান এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ ও সামরিক বাহিনী এমন কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে প্রাণঘাতী বোমা হামলাও চালিয়েছে তারা। হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এটিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গত আগস্টে মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এটি তাঁর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ঘোষিত আগের পুরস্কারের অঙ্কের দ্বিগুণ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে তারা ‘কার্টেল দে লস সোলেস’কে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সংগঠনের সঙ্গে মাদুরোর সংশ্লিষ্টতা আছে।

এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই নেতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য একটি বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ