বইয়ে গ্রাফিতি: সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে হামলা, আহত অনেকে
Published: 15th, January 2025 GMT
পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত চিত্রকর্ম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাঠ্যপুস্তক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ওই চিত্রকর্ম বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্যপক্ষ। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
আহতদের মধ্যে দশজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- শ্রেষ্ঠা রূপাইয়া (২৪), ইসাবা শুহরাত (২৫), রেংইয়ং ম্রো (২৭), ফুটন্ত চাকমা, ধনজেত্রা (২৮), অনন্ত ধামায়, ডিবিসির সাংবাদিক জুয়েল মার্ক (৩৫), শৈলী (২৭), দনওয়াই ম্রো (২৪) ও তনিচিরাং (৩০)। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের নিচে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নিতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মতিঝিল পরিদর্শক তদন্ত মোহায়মেনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের ধাওয়া খেয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত চিত্রকর্মের পক্ষে বিক্ষোভকারী চলে গেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ছাত্ররা সড়কের একপাশে অবস্থান করছে।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংবলিত একটি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছিল। সেখানে একটি গাছের পাঁচটি পাতায় লেখা ছিল মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আদিবাসী; পাশে লেখা ছিল ‘পাতা ছেঁড়া নিষেধ’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ‘স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টি’ ব্যানারে গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড- এনসিটিবি ঘেরাও করার পর রাতে ওই বইয়ের অনলাইন সংস্করণ থেকে চিত্রকর্মটি সরিয়ে ফেলা হয়।
এর প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টায় পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয় ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্রজনতা’ নামে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। পরে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ও একইসময়ে পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও করার ঘোষণা দেয়।
মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে খাবার বিক্রয়কারী খায়রুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যপুস্তক ভবন এর সামনে বেশ কিছু আদিবাসী অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এর একটু পরে এক দল শিক্ষার্থী এসে তাদেরকে এখান থেকে হটিয়ে দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে। তবে আহতদের নাম পরিচয় জানতে পারিনি।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: অবস থ ন
এছাড়াও পড়ুন:
সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৪
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পাঠাত্তা এলাকায় গভীর রাতে অবৈধ গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতের এই ঘটনায় ভাড়াটিয়া আলাউদ্দিনের পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আজিম উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া আলাউদ্দিনের ফ্ল্যাটে দীর্ঘক্ষণ গ্যাস জমে থাকার পর হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসেন এবং দ্রুত আহতদের উদ্ধার করেন।
দগ্ধরা হলেন, আলাউদ্দিন (৩৫) তাঁর মা জরিনা বেগম (৬৫) আলাউদ্দিনের দুই কন্যা-শিশু শিফা আক্তার (১৪) ও শিমলা আক্তার (৪)। তাদের সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, আহতদের শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে গেছে এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও গ্যাস লাইন মিস্ত্রীরা এখনো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি। গ্যাস লিকেজের উৎস শনাক্তের কাজ শুরু করা উচিত বলে জানান এলাকাবাসী।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের লাইনে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ থাকায় গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে। কেউকেউ বলছেন যেহেতু ঘরের মোবাইল ফোন গলে গেছে, সে হিসেবে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সময়ই চুলা জ্বলে না এবং লিকেজের সমস্যা হরহামেশাই ঘটে। তারা কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, গভীর রাতে ঘটনার পরপরই দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিস্তারিত বলা যাবে।
ঢাকা/অনিক/এস