রুনা লায়লা এবার কোক স্টুডিও বাংলায় ‘মাস্ত কালান্দার’ গাইলেন
Published: 16th, November 2025 GMT
কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় মৌসুমে জনপ্রিয় সুফিগান ‘মাস্ত কালান্দার’ গাইলেন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। রুনা লায়লার জন্মদিনকে (১৭ নভেম্বর) সামনে রেখে আজ রাত সাড়ে আটটায় গানটি প্রকাশ পেয়েছে। এই গান দিয়ে তৃতীয় মৌসুমের ইতি ঘটছে।
গানটি নিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘“মাস্ত কালান্দার” সব সময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি গান। নতুনভাবে, তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে আবার গানটি গাইতে পেরে আমি আনন্দিত। প্রজন্ম-পরম্পরায় গানটির নতুনভাবে ফিরে আসা আমাকে আনন্দ দিয়েছে।’
গানটি প্রযোজনা করেছেন অর্ণব এবং সুরকার ও প্রযোজক অদিত রহমান। গানটি নিয়ে অর্ণব বলেন, ‘এই গান স্মৃতি, ভক্তি ও সংস্কৃতির অনুভূতি বহন করে। রুনা লায়লা আপুর কণ্ঠে নতুনভাবে এই গানটিকে পাওয়া আমাদের সবার জন্য গর্বের মুহূর্ত। “মাস্ত কালান্দার” শুধু গান নয়, এটি সব শ্রোতার সঙ্গে এক সেতুবন্ধ, যাঁরা এই গানকে জীবন, শিক্ষা ও ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছেন।’
কোক স্টুডিও বাংলা জানিয়েছে, গানটিতে চিরায়ত কাওয়ালির আধ্যাত্মিক সুর, বাংলার লোকজ ভাব ও আধুনিক সংগীতের মিশ্রণ ঘটেছে। গানের শুরুতে হাসন রাজার একটি গানের অংশবিশেষ শোনাবেন মাখন মিয়া। এরপর সুফি ঘরানার গভীরতা, লোকজ ছন্দ ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্র যুক্ত হয়েছে।
গানটিতে ফোয়াদ নাসের বাবুসহ কোক স্টুডিও বাংলার নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও অংশ নিয়েছেন।
রুনা লায়লার ক্যারিয়ারে ‘মাস্ত মালান্দার’ গানটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গান গাওয়া এই শিল্পী ১৮টিরও বেশি ভাষায় গান করেছেন। বাংলাদেশের বাইরে ভারত, পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: এই গ ন
এছাড়াও পড়ুন:
১৮ দলের সমন্বয়ে নতুন জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’
আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় পার্টির একাংশ ও জেপিসহ ১৮টি দলের সমন্বয়ে নতুন একটি নির্বাচনি জোট আত্মপ্রকাশ করেছে।
সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে ১৮ দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের নেতৃত্বে থাকছেন জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
আরো পড়ুন:
তফসিল ঘোষণা হতে পারে বুধবার, বিটিভি ও বেতারকে ইসির চিঠি
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
জোটের প্রধান উপদেষ্টা হলেন জাতীয় পার্টি–জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
জাতীয় পার্টি–জাপার চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (জাগফ) চেয়ারম্যান এবং জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার মুখপাত্র এর দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন জোটে ৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। জাতীয় পার্টি ও জেপি ছাড়া জোটভুক্ত অন্য দলগুলো হচ্ছে- জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, জাতীয় সংস্কার জোট, বাংলাদেশ লেবারপার্টি, স্বাধীন পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।
অনুষ্ঠানে জোটের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন দেশের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না। তিনি ১৯৮৬ সালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে নির্বাচন দিয়েছিলেন। আজও সেই কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এজন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা আশা করি প্রধান উপদেষ্টা সব দলকে নিয়ে একটি সুস্থ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করবেন। কোনো দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে সেই সরকার স্থায়ী হবে না-ইতিহাস এটাই প্রমাণ করেছে।”
হাওলাদার মুক্তিযুদ্ধ, সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীকে অবমাননা করা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।”
তিনি বলেন, “রাজনীতিতে কেউ চির শত্রু নয়, কেউ চির মিত্রও নয়। আমরা সবাই মিলে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পারি-যে স্বপ্নের কথা আমাদের নেতা এরশাদ সব সময় বলেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে শরিক দলের পক্ষে জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি শাহ মো. আবু জাফর, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সভাপতি আবু লায়েস মুন্না, তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব মেজর (অব.) ডা. হাবিবুর রহমান, গণফ্রন্টের মহাসচিব আহমেদ আলী শেখ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের এম ওয়াহেদ ফারুক, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারি, ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান এম আশিক বিল্লাহ, অ্যালায়েন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির (এডিপি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আর করিম, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এম আর এম জাফর উল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মির্জা আজম, ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান নারায়ণ কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কূটনৈতিকদের মধ্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সিলর মি. টিম ডাকেট, মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি কামরুল হাসান খান, ব্রুনাই মিশন প্রধান রোজাইমি আবদুল্লাহ, ভারতীয় উচ্চ কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) পুজা ঝা, এফিসাসের কাজী শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পার্টি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো–চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, মোস্তফা আল মাহমুদ, জহিরুল ইসলাম জহির, বেগম নাসরিন জাহান রত্না, ফখরুল ইমাম, মাসরুর মাওলা, নাজমা আক্তার, ব্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, জিয়াউল হক মৃধা, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান খান, সরদার শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, বেলাল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, নাজনিন সুলতানা, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শাহ জামাল রানা, শেখ মতলব হোসেন লিয়ন।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাইফ