ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দুর্ভোগ
Published: 3rd, December 2025 GMT
ভোলা-বরিশাল সেতুসহ ছয় দফা দাবিতে ভোলা-বরিশাল-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ বুধবার দুপুর থেকে ভোলা সদর উপজেলায় মহাসড়কটির পরানগঞ্জ বাজার–সংলগ্ন বিশ্বরোড চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবির কথা জানানো হলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাঁরা বারবার কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সম্প্রতি চরফ্যাশন থেকে লংমার্চ করে ঢাকা শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করার পরও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।
আরও পড়ুনআড়াই ঘণ্টা পর শাহবাগ মোড় ছাড়লেন আন্দোলনকারীরা২৮ নভেম্বর ২০২৫এর আগে গত সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বোরহানউদ্দিন উপজেলার গ্যাসভিত্তিক ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের ব্যানারে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে ওই দিন শহর থেকে বোরহানউদ্দিন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল চলে।
আজকের বিক্ষোভ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, নৌবাহিনী ও র্যাবের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা দুপুর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছেন।
আরও পড়ুনভোলা-বরিশাল সেতুসহ ছয় দফা দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন২৭ নভেম্বর ২০২৫এদিকে যানজটে আটকে পড়া কয়েকজন চালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থেকে ভোগান্তির সঙ্গে আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। তবে ভোলা-বরিশাল সেতু হলে উপকূলীয় মানুষের উপকার হবে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন হবে। তাই এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা মানছেন অনেকেই।
চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক মো.
৬ দফা দাবির মধ্যে আছে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস দিয়ে ভোলায় কলকারখানা নির্মাণসহ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস–সংযোগ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ভাঙন প্রতিরোধসহ ভোলার হাসপাতালের সব শূন্য পদ পূরণ করা।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: বর শ ল স ত
এছাড়াও পড়ুন:
জাদুঘরের নিয়োগে ‘প্রত্নতত্ত্ব’ বিষয় অন্তর্ভুক্তির দাবি
জাদুঘরের চাকরির যোগ্যতার তালিকায় ‘প্রত্নতত্ত্ব’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগে ‘সহকারী কিপার’ (গ্রেড–৯) পদে নিয়োগে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জাদুঘরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদনপত্র দাখিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় আবেদনপত্র দাখিল করে জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পাঠ্যক্রমে ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, শিল্পকলা, জাদুঘরবিদ্যাসহ ইতিহাস ও শিল্প ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব বিষয়ের ওপর শ্রেণিকক্ষ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও মাঠকর্মের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হয়। বিভাগটির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে জাদুঘর–সংক্রান্ত বেশ কিছু বিশেষায়িত কোর্স পড়ানো হয়। যেমন জাদুঘরবিদ্যা: তত্ত্ব ও প্রয়োগ, প্রত্নসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন, অ্যাডভান্সড মিউজিয়াম স্টাডিজ ইত্যাদি।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাত্ত্বিক জ্ঞান ও হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ ‘সহকারী কিপার’ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্য করে তোলে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে এ ধরনের সমন্বিত ও কারিগরি কারিকুলাম চালু রয়েছে বলে তাঁরা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাপ্তরিক পর্যায়ে চিঠিপত্র আদান–প্রদানের পরও জাতীয় জাদুঘরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়টিকে যথাযথ স্থান দেওয়া হচ্ছে না। ইতিহাস ও ইসলামের ইতিহাসের পাশাপাশি ‘প্রত্নতত্ত্ব’কে সমমানের যোগ্যতা হিসেবে তালিকাভুক্ত না করায় যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারছেন না।
ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগে ‘সহকারী কিপার’ (গ্রেড–৯) পদে নিয়োগে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জাদুঘরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদনপত্র দাখিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা