৫ দাবিতে স্মারকলিপি দিতে যমুনা অভিমুখে ৮ দল
Published: 6th, November 2025 GMT
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিতে যমুনা অভিমুখে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় ঢাকার পুরানা পল্টন মোড় থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রায় আট দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগে দলগুলো পল্টন মোড়ে পৃথক মিছিল নিয়ে জড়ো হয়।
শাপলা চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন জামায়াত নেতাকর্মীরা। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসের দুই অংশসহ অন্যদলগুলোর নেতাকর্মীরা আগ থেকেই পল্টন মোড়ে অবস্থান নেন।
পদযাত্রা শুরুর আগে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তথা নির্বাচনি পরিবেশ তৈরিসহ নানা বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
দলগুলোর পাঁচ দফা দাবি হলো—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম–নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
আটটি দলের মধ্যে রয়েছে—জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/ইভা
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করছে যুক্তর
যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সীমিত করছে দেশটির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ভিসার অপব্যবহার এবং যুক্তরাজ্যের নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন এই দুটি দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি এই দুই দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে। আর কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু স্নাতক পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ ওই দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো— ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, সান্ডারল্যান্ড ও কোভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়, বিপিপি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার ও গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়।
ভর্তির সুযোগ সীমিত করার মূল কারণ যুক্তরাজ্যের বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্টের (বিসিএ) নতুন নিয়ম।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেসব দেশকেই বিবেচনায় করতে হবে, যাদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে- যা আগে ছিল ১০ শতাংশ।
তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ২২ শতাংশ, যা নতুন সীমার অনেক বেশি।
এসময়ে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাখ্যাত ২৩ হাজার ৩৬টি আবেদনের একটি বড় অংশ এসেছে শুধু এই দুই দেশ থেকেই। পাশাপাশি কাজ বা শিক্ষা ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসে পরবর্তীতে আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এতে চাপের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের প্রধান উৎস।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারে কম না হলেও, নতুন নিয়ম, বাড়তি যাচাই-বাছাই ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে দেশটিতে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত এখন আরো কঠিন হয়ে উঠবে।
ঢাকা/এস