যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে সতর্ক করে দিয়েছেন, সফল হতে হলে মামদানিকে ওয়াশিংটনের প্রতি ‘সম্মানজনক আচরণ’ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

আরো পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন: বিমানবন্দরগুলোতে ১০ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর নির্দেশ

এবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন পুতিন

ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার এমন সময়ে এই মন্তব্য করেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে মামদানি তার ঐতিহাসিক জয়ের পর তার প্রশাসনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

বুধবার ফক্স নিউজের ব্রেট বেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তাকে (মামদানিকে) ওয়াশিংটনের প্রতি একটু শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, যদি তিনি তা না করেন, তাহলে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এবং আমি তাকে সফল করতে চাই। আমি নিউ ইয়র্ক শহরকে সফল করতে চাই।” তবে ট্রাম্প দ্রুতই স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি মামদানিকে নয়, নিউ ইয়র্ক সিটিকে সফল করতে চান।

এর আগে বুধবার সকালে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আমেরিকান বিজনেস ফোরামে এক ভাষণে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন নতুন মেয়রকে ‘সাহায্য করবে’। তবে তিনি মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “কমিউনিস্ট, মার্কসবাদী আর গ্লোবালিস্টরা সুযোগ পেলে শুধু বিপর্যয় আনে। এখন দেখা যাক, নিউ ইয়র্কে এক কমিউনিস্ট কেমন করে।”

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে মেয়র নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানিকে ‘উন্মাদ কমিউনিস্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, মামদানি জিতলে শহরের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তবে মামদানির দাবি, তিনি কমিউনিস্ট নন বরং একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী। তার নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল বিনামূল্যে শিশু যত্ন, বিনামূল্যে বাস সার্ভিস ও সরকারি পরিচালিত মুদি দোকান চালুর প্রতিশ্রুতি।

প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের শহর নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মামদানি। তার এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে মনে করা হচ্ছে। কারণ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মার্কিন মধ্যপন্থি ও প্রগতিশীল দলগুলোকে একত্রিত করার এবং ট্রাম্পকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

মামদানি তার বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে কীভাবে পরাজিত করা যায় তার একটি মডেল হিসাবে তার নির্বাচনকে তুলে ধরেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করে বলেন, “আমি আপনাকে চারটি শব্দ বলব: টার্ন দ্য ভলিউম আপ (আওয়াজ বাড়ান)।”

বুধবার এক ভাষণে মামদানি ট্রাম্পের বিরোধিতা করার তার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন, পাশাপাশি প্রশাসনের সাথে জড়িত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষেত্রে আমি আমার কথা কম বলব না। আমি তার কর্মকাণ্ড যেমন আছে তেমন বর্ণনা করতে থাকব, তবে সংলাপের পথ খোলা থাকবে।”

ঢাকা/ফিরোজ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য ক তর ষ ট র ন উ ইয়র ক ম মদ ন ক

এছাড়াও পড়ুন:

সকালের অ্যালার্ম, না ফোনভীতি? জেন–জিরা কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ জয় করবেন যেভাবে

যদি আপনি একজন মিলেনিয়াল হন, তাহলে হয়তো অফিসের ফোন ধরা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাববেন না। কিন্তু জেনারেশন জেড (জেন জেড)–এর কাছে কর্মক্ষেত্রের এই সাধারণ কাজটিই উদ্বেগের বিশাল কারণ। এই সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য অনুসারে, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া কর্মজীবীরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আতঙ্কিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—খুব সকালে ওঠা, বয়স্ক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা কর্মক্ষেত্রে সাধারণ আলাপচারিতায় নিজেকে যুক্ত করা।

ট্রিনিটি কলেজ অব লন্ডনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ গবেষণায় মতামত দেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। যুক্তরাজ্যজুড়ে ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা এই জরিপে অংশ নেন। এতে দেখা যায়, তরুণদের ৩৮ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে ছোটখাটো আলাপচারিতায় ভয় পান। প্রায় ৬০ শতাংশ বলেছেন, বয়স্ক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে তাঁদের সমস্যা হয়, আর ৩০ শতাংশ তরুণ ফোন ধরতে ভয় পান।

তবে এসব কর্ম–আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা জেনারেশন জেডের এই উদ্বেগগুলো দূর করার জন্য দিয়েছেন কিছু সহজ পরামর্শ—

গবেষণার তথ্য অনুসারে, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া কর্মজীবীরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আতঙ্কিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—খুব সকালে ওঠা, বয়স্ক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা কর্মক্ষেত্রে সাধারণ আলাপচারিতায় নিজেকে যুক্ত করা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ