প্রায় দুই মাস ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে শুধু দেশি পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে প্রবল বৃষ্টিপাতের পরপরই চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজের দাম একলাফে ৩০-৩৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এই আকস্মিক দামবৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

ক্রেতাদের অভিযোগ, পেঁয়াজ চাষ করে কৃষক ন্যায্য দাম পান না, অথচ মধ্যস্বত্বভোগীরা এই সুযোগে রমরমা মুনাফা লুটে নেয়। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় কার লাভ, কার ক্ষতি- রাইজিংবিডি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী আব্দুল বাশির ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা পার্শ্ববর্তী জেলার হাটবাজার থেকে কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য দামে পেঁয়াজ কিনি। কৃষকের লাভ না হলেতো আমাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করবে না। আমরাও সামান্য লাভে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। মোটাদাগে বলা যায়, কারোর ক্ষতি হচ্ছে না, সবাই লাভবান হচ্ছেন।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল হক দুলাল বলেন, “কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ইয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হয়েছে। যেসব কৃষক পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পেরেছেন, তারা এখন দাম পাচ্ছে। এভাবে দাম পেলে পেঁয়াজ আবাদ আরো বাড়বে।”

অন্যদিকে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মত ভিন্ন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক্সপার্ট কিউরেটর শহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় কৃষকের কাছে বর্তমানে তেমন পেঁয়াজ মজুদ নেই। স্থানীয় বাজারে যেসব দেশি পেঁয়াজ আসছে, তা মূলত পার্শ্ববর্তী জেলা- যেমন রাজশাহীর তাহেরপুর, বানেশ্বর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা থেকে পাইকাররা সরবরাহ করছেন।

শহিদুল ইসলামের মতে, “এই প্রক্রিয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি করে সবচেয়ে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্ত্বাভোগীরা। কৃষকরা তেমন লাভ পাচ্ছেন না। নভেম্বর মাসজুড়ে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। তবে তিনি এটাও মনে করেন যে, এমন দাম পেলে কৃষকরা কিছু অংশে লাভবান হবেন এবং দেশি পেঁয়াজের আবাদে আরো উৎসাহিত হবেন।”

সব মিলিয়ে, পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন সরবরাহকারী মধ্যস্বত্বভোগী পাইকাররা। অন্যদিকে, যারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে পেরেছেন, সেই কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা এবং সেই সব কৃষক, যারা সংরক্ষণের অভাবে মৌসুমের শুরুতে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

ঢাকা/শিয়াম/এস

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প ইনব বগঞ জ

এছাড়াও পড়ুন:

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় আছেন উদ্যোক্তারা: জিইডির প্রতিবেদন

নতুন ব্যবসা চালু করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় আছেন বহু উদ্যোক্তা। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সর্বশেষ মাসিক অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

জিইডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন যদি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক গতিপথ ঠিক করে এবং নতুন সরকার এসে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক ও ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন সংস্কারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখে, তাহলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ফিরে পাবে।

জিইডির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ দেখিয়েছে জিইডি। জিইডি বলছে, একদিকে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে স্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস ও দুর্বল ব্যাংকিং খাত স্থানীয় চাহিদা ও বেসরকারি বিনিয়োগকে সীমিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভালো অবস্থায়

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। এ ছাড়া প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ বেড়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অবস্থান ভালো হওয়ার বড় কারণ।

জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বা বহির্বাণিজ্যের সূচকে অস্থিরতা ছিল। রপ্তানি আয়ের সূচকও ওঠানামা করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এপ্রিল ও জুনে রপ্তানি আয়ে পতন দেখা যায়। তবে অক্টোবরে এই সূচকের অবস্থানে উন্নতি দেখা যায়। তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানির সূচকে বছরের অর্ধেক সময় পর্যন্ত ধীরগতি দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে উন্নতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে মোট রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। এর কারণ খাদ্যের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহের শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা ও আমদানি করা পণ্যের চাপ কম থাকায় চলতি বছরের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার বড় কারণ হচ্ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান ৪৭ শতাংশ

খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে চাল। জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান ছিল ৪৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় সামান্য কম। আর মাছ ও মাংসের ভূমিকা ছিল যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে পর্যাপ্ত মৌসুমি সরবরাহ ভালো থাকায় সবজির দাম কম ছিল। তাই সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সবজি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, আবার পুতিনকেও উষ্ণ অভ্যর্থনা: একসঙ্গে দুই কূল কি রাখতে পারবে ভারত
  • পুতিনের ভারত সফর, কী থাকছে অর্থনীতিতে
  • সংস্কারকাজ শেষে হবিগঞ্জ-৫নং কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট
  • সরকারকে না জানিয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা : বাণিজ্য উপদেষ্টা
  • জামালপুরে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় আছেন উদ্যোক্তারা: জিইডির প্রতিবেদন