এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য শুরু ২০ জানুয়ারি
Published: 6th, November 2025 GMT
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আদালত মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আগামী ২০ জানুয়ারি।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
আরও পড়ুনএস কে সুরের স্বর্ণালংকার-অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারেই থাকবে২৮ জানুয়ারি ২০২৫দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দিন মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, গত ২৫ অক্টোবর এস কে সুরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ওই দিন তাঁর উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
আজ এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে অভিযোগপত্র সংক্ষেপে পড়ে শোনান। এরপর বিচারক অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন।
আরও পড়ুনসাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা২৩ ডিসেম্বর ২০২৪মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিলের জন্য দুদকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, ২১ কর্মদিবস অর্থাৎ ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর চৌধুরী দুদক আইনের ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
আরও পড়ুনএস কে সুর চৌধুরী পরিবারের ব্যাংক লকার জব্দের আদেশ২২ জানুয়ারি ২০২৫আরও পড়ুনসাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের সম্পদ ক্রোকের আদেশ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র এস ক
এছাড়াও পড়ুন:
হাজি সেলিম রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা
রাজধানীর শাহবাগ থানার চানখাঁরপুল এলাকায় ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাজি সেলিমকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি রিমান্ডে ইশারায় মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাইনুল ইসলাম খান পুলক।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, গত ২০ অক্টোবর হাজি সেলিমের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। কয়েক দিন আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার ১২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হাজি সেলিমকে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ‘বাক্প্রতিবন্ধী’ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি ইশারায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা মামলার তদন্তে সহায়ক হবে। আসামির দেওয়া তথ্য মামলার তদন্তের স্বার্থে যাচাই–বাছাই অব্যাহত আছে। মুক্তি পেলে আসামির পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, অসুস্থতাজনিত কারণে হাজি সেলিমের কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট শাহবাগ থানার চানখাঁরপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ক্ষুদ্র ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় মনিরের স্ত্রী এ বছরের ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুরান ঢাকার লালবাগ ও চকবাজার এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজি সেলিম দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ১৯৯৬ সালে ঢাকা-৮ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রয়াত বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কাছে হেরে যান।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন হাজি সেলিম। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজি সেলিম প্রার্থী হননি। তাঁর বদলে ছেলে সোলায়মান মোহাম্মদ সেলিমকে ঢাকা-৭ আসন থেকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। তিনি নির্বাচিতও হয়েছিলেন।
হাজি সেলিম ও তাঁর স্ত্রী গুলশান আরার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলা করে দুদক। বিচারিক আদালত ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল ওই মামলায় রায় দেন। রায়ে তাঁর ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০২২ সালে ওই মামলায় হাজি সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। কিছুদিন কারাভোগের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন দেন।