পৌরসভার ১১৯ সড়কই বেহাল, কষ্টে চলাচল
Published: 6th, November 2025 GMT
সড়কজুড়েই কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত। বেশির ভাগ অংশেরই উঠে গেছে পিচঢালাই। পাকা সড়ক ভেঙে রূপ নিয়েছে কাঁচা সড়কে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কগুলোতে জমছে পানি। কিছু জায়গায় নালার পানিও সড়কে উপচে পড়ছে।
এমন অবস্থা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১৯টি সড়কের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের এসব সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী। পৌর শহরে বড় বড় দালান, বিপণিবিতান হলেও সড়কের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এ ছাড়া পয়োনিষ্কাশন–ব্যবস্থাও বেহাল। এসব কারণে ভোগান্তি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই ওয়ার্ডে মোট ১৩টি সড়ক চলাচলের উপযুক্ত নয়। এ ছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৮টি, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭টি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬টি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৭টি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৯টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৯টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১২টি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১২টি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭টি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৮টি, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬টি সড়ক বেহাল।
সরেজমিনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেরালিয়া সড়ক, মেহের খাঁ-তাজুল চৌধুরী সড়ক, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাগাজী সড়ক, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের টুকা মিয়া সড়ক ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান আলী সরদার সড়ক ঘুরে দেখা যায়, এসব সড়কের ইট উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তে নালার পানি জমে আছে। এসব পথে ময়লা পানি ও কাদা মাড়িয়ে হাঁটছেন পথচারীরা। এ ছাড়া মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও রিকশা চলছে ধীরগতিতে।
জানতে চাইলে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো.
জালালিয়া মসজিদ এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, ‘বাজারে যাওয়া বা স্কুলে শিশুদের আনা–নেওয়া করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। পৌরসভায় অভিযোগ করেও কোনো ফল হয়নি।’ একই কথা বলেন পৌরসভার দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাস্তার বেহাল থাকার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। এ কারণে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।’
পৌরসভার প্রকৌশল শাখা জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। এর আয়তন ২৮ দশমিক ২৬ বর্গকিলোমিটার। ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌর এলাকার বাসিন্দা প্রায় ২ লাখ। এসব বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে ৩০০টি। এর মধ্যে ১১৯টি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এই ১১৯টি সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
এসব সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে ইতিমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে পৌরসভা। গত ১৫ অক্টোবর সড়কগুলো সংস্কারের জন্য ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দেন পৌরসভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করছি, আগামী অর্থবছরেই বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের সড়কগুলো নতুনভাবে পাকা করা, নালা সংস্কার ও পানিনিষ্কাশন–ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।’
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র প রসভ প রসভ র ব যবস র সড়ক সড়ক র
এছাড়াও পড়ুন:
থাইল্যান্ড: পরাধীনতাকে জয় করা এক জাতির গল্প
বিশ্বের মানচিত্রে বিজয়ের সংজ্ঞা সব সময় যুদ্ধক্ষেত্র বা বারুদের গন্ধে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো বিজয় মানে হলো হাজারো ঝড়ের মধ্যেও মাথা নত না করা। আজ ৫ ডিসেম্বর, আমাদের প্রতিবেশী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের ‘জাতীয় দিবস’। একই সঙ্গে দিনটি উদ্যাপিত হয় দেশটির ‘ফাদার্স ডে’ বা বাবা দিবস হিসেবেও। কারণ, ১৯২৭ সালের এই দিনেই জন্ম নিয়েছিলেন থাইল্যান্ডের আধুনিক ইতিহাসের রূপকার প্রয়াত রাজা ভূমিবল অতুল্যতেজ (নবম রামা)।
ডিসেম্বর মাসের বিজয়ের গল্পে থাইল্যান্ডের নাম উঠে আসে এক অনন্য কারণে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড (সাবেক নাম ‘শ্যামদেশ’) কখনোই ইউরোপীয় কোনো শক্তির উপনিবেশ ছিল না। যখন প্রতিবেশী মিয়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া বা ভিয়েতনাম ব্রিটিশ কিংবা ফরাসি শাসনের শৃঙ্খলে বন্দী ছিল, তখন থাইল্যান্ড তার কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও জাতীয় ঐক্যের জোরে স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। তাদের এই স্বাধীনতা রক্ষা করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় বিজয়। আর আধুনিক যুগে সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আগলে রাখার প্রতীক ছিলেন রাজা ভূমিবল।
থাইল্যান্ডের আধুনিক ইতিহাসের রূপকার রাজা ভূমিবল অতুল্যতেজ