সোমালি অভিবাসীদের ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলার জবাবে কী বললেন ইলহান ওমর
Published: 3rd, December 2025 GMT
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় বসবাস করা সোমালি অভিবাসীদের নিয়ে আবারও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁদের ‘আবর্জনা’ বলেছেন। পাল্টা জবাবে ডেমোক্রেটিক দলীয় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর বলেছেন, তাঁর প্রতি ট্রাম্পের আসক্তি বিরক্তিকর।
ইলহান সোমালি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মিনেসোটা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প কংগ্রেস সদস্য ইলহান ও অন্য সোমালি অভিবাসীদের ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যেতে বলেন।
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প তাঁর অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যের ধার অনেক বাড়িয়েছেন, বিশেষ করে গত মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর। সন্দেহভাজন হামলাকারী আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।ট্রাম্পের এ মন্তব্যের জবাব দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নেন ইলহান। তিনি লেখেন, ‘আমার প্রতি তাঁর আসক্তি বিরক্তিকর। জরুরি ভিত্তিতে তাঁর সাহায্য দরকার। আশা করি, তিনি সেটা পাবেন।’
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প তাঁর অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যের ধার অনেক বাড়িয়েছেন, বিশেষ করে গত মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর। সন্দেহভাজন হামলাকারী আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।
তালেবান আবার আফগানিস্তান দখলের পর যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে উদ্ধার অভিযান চালায়। ওই অভিযানের অংশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে যান ওই বন্দুকধারী। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসব ঘটনা ট্রাম্প সোমালিয়ার মতো ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন কড়াকড়ি করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন।
যদি আমরা আমাদের দেশে আবর্জনা ঢুকতে দিতেই থাকি, তবে আমরা ভুল পথে চলে যাব। ইলহান ওমর আবর্জনা। তিনি আবর্জনা। তাঁর বন্ধুরাও আবর্জনা।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্টট্রাম্প বলেছেন, ‘যদি আমরা আমাদের দেশে “আবর্জনা” ঢুকতে দিতেই থাকি, তবে আমরা ভুল পথে চলে যাব। ইলহান ওমর আবর্জনা। তিনি আবর্জনা। তাঁর বন্ধুরাও আবর্জনা।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এরা এমন মানুষ নয়, যারা কাজ করে। এরা এমন মানুষ নয়, যারা বলে, চল, এগিয়ে যাই। চল, এই জায়গাটা মহান করি। এরা শুধু অভিযোগ করে। এরা অভিযোগ করে এবং যেখান থেকে তারা এসেছিল, সেখানে কিছুই পায়নি।’
আরও পড়ুনইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে বললেন ট্রাম্প০৩ নভেম্বর ২০২৫ইলহান ওমর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রায় কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন। কিন্তু তিনি বছরের পর বছর ধরে তাঁকে (ইলহান) যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে অভিযোগ করে যেতে দেখেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি একজন অদক্ষ ব্যক্তি। তিনি সত্যিই একজন ভয়ংকর মানুষ।’
ইলহানের জন্ম সোমালিয়ায়। গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে আট বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেশ থেকে পালিয়ে যান। কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে চার বছর কাটানোর পর ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন।
আরও পড়ুনইলহান ওমর কী বলেছেন, কেন তাঁর পেছনে লেগেছেন রিপাবলিকানরা০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র বল ছ ন সদস য
এছাড়াও পড়ুন:
সাভার–ধামরাইয়ের কৃষক রক্ষায় পদক্ষেপ নিন
ঢাকার সাভার ও ধামরাই—এ দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় কৃষিজমি দ্রুত কমে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার মূলে রয়েছে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং শিল্পবর্জ্যের ভয়াবহ দূষণ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দশকে এ অঞ্চলে শিল্পকারখানার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৯৪ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৩২–এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে কৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, সাভারে যা ২ হাজার ৫১০ হেক্টর ও ধামরাইয়ে ১ হাজার ১২৭ হেক্টর। শিল্প ও কৃষির মধ্যকার অসম লড়াইয়ে এভাবে কৃষিজমি বিলীন হয়ে যাওয়াটা খুবই উদ্বেগজনক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহায়তায় করা নমুনা পরীক্ষায় এ বিপর্যয়ের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলেছে। এর থেকে জানা যাচ্ছে, কারখানার নালা এবং কৃষিজমির জমা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ (ডিও) এত কম যে জলজ জীবন প্রায় ‘প্রাণঘাতী পর্যায়ে’ চলে গেছে। পানিতে অ্যামোনিয়া, ফসফেট ও নাইট্রেটের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে ট্যানারিশিল্পের ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়াম এবং ডাইং ও ওষুধ কারখানার নিকেল ও সিসা মাটিতে মিশে মাটিকে বিষাক্ত করছে।
গবেষকেরা বলছেন, ভারী ধাতুগুলো মাটি থেকে শস্যে চলে যাচ্ছে। এর ফলে ফসলের গুণাগুণ পরিবর্তিত হচ্ছে, উৎপাদন কমছে এবং এই ধাতুগুলো খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এই দূষণের মূল কারণ হলো শিল্পকারখানার মালিকদের আইন না মানার প্রবণতা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর উদ্যোগের অভাব।
নগরবিদদের মতে, আইন ও নীতি অনুযায়ী শিল্পকারখানা নির্দিষ্ট এলাকায় হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কারখানাগুলো কৃষিজমির ভিত উঁচু করে গড়ে উঠছে এবং তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন না করেই অবাধে সেগুলো নালা, খাল এবং নদীনালার মধ্য দিয়ে কৃষিজমিতে ফেলছে। স্থানীয় খালগুলো দখল ও ভরাট হয়ে সরু হয়ে যাওয়ায় কারখানার বর্জ্য উপচে কৃষিজমিতে জমা হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, একসময় যে জমি থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন সেখানে চাষ করাই সম্ভব হচ্ছে না। তখন কম দামে জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘কারখানার পচা পানির কারণে ফসল হয় না, হুদাই খাজনা দিতে হয়।’
স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। ‘গায়ের জোরে’ শিল্পমালিক নিজ স্বার্থে পরিবেশ ধ্বংস করছেন আর প্রশাসন যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশ রক্ষার আইন থাকা সত্ত্বেও কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও যখন তা প্রয়োগ হয় না, তখন বোঝা যায় মুনাফার কাছে পরিবেশ ও জীবনের মূল্য কত তুচ্ছ।
এ পরিস্থিতি কেবল পরিবেশদূষণ বা কৃষিজমি কমার সমস্যা নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং সুশাসনের ওপর একটি বড় আঘাত। রাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে কার্যকর তদারকি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। নিয়মিত মাটি ও পানি পরীক্ষা করে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রবেশ বন্ধ করা আবশ্যক।