সফল নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণের অর্ধেকপথ পার করা সম্ভব হবে: মান্না
Published: 16th, November 2025 GMT
দেশে একটি সফল নির্বাচন হলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের অর্ধেক পথ পার করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন সময়টা উত্তরণের। যে কথা হচ্ছে সেটা হচ্ছে একটা নির্বাচন। একটা সাকসেসফুল ইলেকশনই (সফল নির্বাচন) আমাদেরকে গণতন্ত্রের উত্তরণের অর্ধেকটা পথ পার করে দেয়।’
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মাওলানা ভাসানী ও গণ–অভ্যুত্থানের রাজনীতি: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় নয় বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা ও জুলাই জাতীয় সনদের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১১ মাস ধরে বা ১০ মাস ধরে এতগুলো পার্টি (রাজনৈতিক দল) বসল, নিজেরা কথাবার্তা বলল। তারপরে যেভাবেই হোক একটা সনদ (জুলাই জাতীয় সনদ) নিয়ে আবার বাইরে চলে আসল.
নাগরিকেরা ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন বলে মনে করেন মাহমুদুর রহমান। দেশের প্রান্তিক, পিছিয়ে পড়া এবং নারীদের অবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন স্ট্রাগলটা ডাইরেক্টলি (সরাসরি লড়াই) জীবনের সাথে, অর্থনীতির সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। ...মানুষের জীবন পরিবর্তন করাটাই তো আমার রাজনীতি।’ দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পারায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, গণ–অভ্যুত্থান যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য যে রাজনৈতিক শক্তি লাগে, সেটা না থাকলে গণ–অভ্যুত্থানের বিপরীতে ফ্যাসিবাদীদেরই আরেকটা নতুন রূপ হাজির হতে পারে। সে জন্য বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি বিকল্প রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।
ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার হতে হবে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘স্পষ্ট করেই বলা দরকার, জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল তারা পরিষ্কার করে বলেছে যে তাদের দাবি না পূরণ হলে নির্বাচন তারা হতে দেবে না। এইটার অর্থ কী? এই হুমকি তারা কাকে দিচ্ছে? তাদের মত শুনতে হবে, এই জবরদস্তির রাজনীতি একমাত্র নয়। এটা যদি অপর পক্ষ বিএনপিও দেয়। তাহলে আমাদের ভাবতে হবে যে এখানে আসলে একই জবরদস্তির রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে?’
মাওলানা ভাসানী কখনো ন্যায়ের পক্ষ ত্যাগ করেননি উল্লেখ করে তাঁর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, ‘এবারের যে নির্বাচন, এই নির্বাচনে যারা আসলে নির্বাচিত হয়ে আসবে, তাদের সংবিধান সংস্কার করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এইটুকু পার্থক্য, মানে একদিক থেকে তার কনস্টিটিয়েন্ট পাওয়ার (সাংবিধানিক ক্ষমতা) এবং একদিক থেকে এটা লিমিটেড। এই যে নির্বাচন ঘটতে যাচ্ছে, এইটা হচ্ছে ’৭০–এর পরে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে।’ সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর এ নির্বাচনে বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি। কোনো দল সেটি করলে তা আত্মঘাতী হবে বলেও মনে করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মাওলানা ভাসানীর স্বপ্ন এবং আদর্শকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি করার আহ্বান জানান। সে জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে গিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক চরিত্র বদল না হলে ’২৪-এর অভ্যুত্থানের স্বপ্ন পূরণ হবে না উল্লেখ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, শক্তির মহড়া, প্রচুর টাকার খেলা ও দলীয় আনুগত্যের প্রদর্শন রাজনীতিকে দূষিত করে তুলছে। এতে ’২৪–এর অভ্যুত্থানের পর যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা অধরাই রয়ে যাবে।
বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, ‘অবশ্যই নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচন আমরা চাই। কিন্তু শুধুমাত্র নির্বাচন হয়ে গেলেই এই সংকট থেকে আমরা উত্তরণের পথের দিকে যেতে পারব না। তার জন্য আমাদের একটা রাজনৈতিক সমঝোতা, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, একটা রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।’
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। সভায় আরও বক্তব্য দেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র জন ত ক দল র জন ত ক দ আহ ব ন জ ন র আহ ব ন র র জন ত র রহম ন ন র জন
এছাড়াও পড়ুন:
ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তিনি কৃষি আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তিনি বিশেষ করে ভারত থেকে চাল আমদানি এবং কানাডা থেকে সার আমদানির ওপর এই শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, কারণ উভয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই চলছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউজে আমেরিকান কৃষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প দেশটির কৃষকদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করার পর এই মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, আমদানি দেশীয় উৎপাদকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা তিনি জানান।
আরো পড়ুন:
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিয়ে চীন-রাশিয়ার যৌথ মহড়া
শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে: জেলেনস্কি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ভারতীয় চাল যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম দামে বিক্রি করে বাজার নষ্ট করার অভিযোগ তিনি খতিয়ে দেখবেন। তিনি জানান, আমেরিকান কৃষকরা অভিযোগ করেছেন- ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে কম দামে চাল আমদানি হওয়ায় দেশের চালের দাম কমে যাচ্ছে এবং এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প মার্কিন কৃষকদের জন্য কয়েকশো কোটি ডলারের কৃষি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন ও একই সঙ্গে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্য আমদানির তীব্র সমালোচনা করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, বৈঠকে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান চাল কোম্পানি কেনেডি রাইস মিলসের সিইও মেরিল কেনেডি-সহ উপস্থিত কৃষকদের থেকে কোন কোন দেশ থেকে ভর্তুকিযুক্ত কৃষি পণ্য আমদানি করা হয় তার তালিকা চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই তালিকায় ছিল ভারত, থাইল্যান্ড এবং চিনের মতো দেশের নাম। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা চাল পাঠানোর অভিযোগ।
তালিকাটি দেখে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ভারত সম্পর্কে বলুন। ভারত কেন এটি করছে? চালের উপর কি কোনও শুল্ক ছাড় আছে?’ ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন যে, আমেরিকান কৃষকদের সুরক্ষার জন্য, ভারতীয় চালের ওপর আরো কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই বছরের আগস্টে ট্রাম্প রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে আপত্তি তুলে ভারতের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন। ভারত থেকে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের উপর শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ।
আগামী ১০ এবং ১১ ডিসেম্বর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতে আসছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। তার মধ্যেই ফের আরো শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
ঢাকা/ফিরোজ